রংপুরের তারাগঞ্জে ধোলাইঘাট বাজার থেকে পীরপাড়া মোড় পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের পিচ ও কার্পেটিং উঠে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এলাকাবাসীর দাবি, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সড়কটির উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংস্কারের দাবি জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।
পিচ উঠে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত
সরেজমিনে দেখা যায়, ধোলাইঘাট বাজার থেকে পীরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গেছে। কোথাও মাটি ও খোয়া বেরিয়ে এসেছে, আবার কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতে গর্তগুলোতে পানি জমে থাকায় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সহজে বোঝা যায় না। এ অবস্থায় অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে চালকদের হঠাৎ গতি পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
১০ বছরের বেশি সময় ধরে সংস্কারের অপেক্ষা
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সড়কটির উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। ফলে দিন দিন এর অবস্থা খারাপ হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি অংশ এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় পিচ-কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। এতে যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত সড়কটির সংস্কার প্রয়োজন।”
শিক্ষার্থী ও চালকদের দুর্ভোগ বেশি
ধোলাইঘাট বাজার থেকে পীরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কটি স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সয়ার, মাদারগঞ্জ ও আলমপুর এলাকার বাসিন্দাদের সৈয়দপুরে যাতায়াতের অন্যতম পথ এটি। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন।
সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগছে, আর বৃষ্টির দিনে গর্তে পানি জমে থাকায় চলাচল আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে অটোরিকশা, ইজিবাইক, ভ্যান ও মোটরসাইকেলচালকদের দুর্ভোগ বেশি। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে কখনো কখনো চালকেরা যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পাশাপাশি সড়কের কারণে যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেরামতের খরচও বাড়ছে।
সরেজমিন পরিদর্শনের কথা জানালেন সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি
সড়কটির দুরবস্থা সম্পর্কে রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বলেন, “ধোলাইঘাট থেকে পীরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কটি আমরা সরেজমিন দেখেছি। রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। বিষয়টি তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সড়কটির বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের নজরে আনা হয়েছে। তবে সংস্কারকাজ শুরুর নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
বরাদ্দ পেলেই সংস্কারকাজ শুরুর আশ্বাস
তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী নাফিউর রহমান বলেন, “আলমপুর ইউনিয়নের ২০০১ ও ২০০৫ নম্বর কোডের সড়ক দুটি আমরা পরিদর্শন করেছি। সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হবে।” সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বক্তব্যে সড়কটির দুরবস্থা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা বলা হলেও বরাদ্দ কবে পাওয়া যাবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি
