কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১১:১৭ এএম

বৈদ্যুতিক শক মেশিনে মাছ শিকার, হুমকিতে নিকলীর জীববৈচিত্র্য

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১১:১৭ এএম

বৈদ্যুতিক শক মেশিনে মাছ শিকার, হুমকিতে নিকলীর জীববৈচিত্র্য

কিশোরগঞ্জের নিকলীর নদী ও হাওরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত ‘বৈদ্যুতিক শক মেশিন’ ব্যবহার করে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। নিষিদ্ধ এ পদ্ধতিতে মাছ ধরার কারণে ছোট-বড় মাছের পাশাপাশি পোনা, ডিম ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় জেলেদের। এতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জীবিকা নিয়ে সংকটে পড়েছেন মাছের ওপর নির্ভরশীল জেলেরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রোদারপুড্ডা, সিংপুর, ছাতিরচর, দামপাড়া, আলিয়াপাড়া ও কারপাশাসহ বিভিন্ন এলাকার নদী-হাওরে এভাবে মাছ শিকার করা হচ্ছে। সরেজমিনে রোদারপুড্ডা এলাকায় রাজেল ও খাইরুলকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় জেলে নুরু মিয়া বলেন, কয়েক বছর আগেও নদীতে জাল ফেললে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন সারাদিন জাল ফেলেও পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যায় না। তার অভিযোগ, কারেন্ট জাল ও চায়না চাইয়ের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক মেশিনে মাছ শিকারের কারণে মাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে।

আরেক জেলে শুভাষ দাস বলেন, সারাদিন জাল নিয়ে বসে থেকেও অনেক সময় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মাছ পাওয়া যায় না। কখনো আয় নেমে আসে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। তার অভিযোগ, বৈদ্যুতিক মেশিন দিয়ে ছোট-বড় সব মাছ মেরে ফেলা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে জেলে পরিবারগুলো আরও সংকটে পড়বে।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, নদী ও হাওরে কারেন্ট জাল, রিং জাল ও চায়না চাইয়ের ব্যবহার আগে থেকেই মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারে বাধা সৃষ্টি করছে। এর সঙ্গে বৈদ্যুতিক শক মেশিনের ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে এসব নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার অব্যাহত থাকলে শুধু মাছের মজুতই কমবে না, জলজ পরিবেশের ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে মাছের ওপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারগুলোও আরও বড় সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, ব্যাটারির সাহায্যে বিদ্যুৎ শক দিয়ে মাছ ধরার বিষয়টি নিকলীতে তিনি প্রথমবার শুনেছেন। এ পদ্ধতিতে মাছ শিকার করলে মাছ, রেণু, ডিম, পোকামাকড়সহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী ধ্বংস হয়ে যায়। এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবৈধভাবে এ পদ্ধতিতে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

Link copied!