ওভার ইনভয়েসিং করে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা : গভর্নর

প্রকাশিতঃ 5:54 pm | December 01, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

পণ্য আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ার আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেছেন, আশ্চর্যজনকভাবে দেখলাম, ২০-২০০ শতাংশ পর্যন্ত ওভার ইনভয়েসিং (অতিরিক্ত মূল্য দেখানো) করে পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এ রকম ১০০ এলসি বন্ধ করেছি আমরা।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকালে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান গভর্নর।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ওভার ইনভয়েসিং রোধে সব ধরনের এলসি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বিলাসী পণ্যের দাম কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এসব বাণিজ্যের দায় মেটানো হচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে।

চাহিদার প্রবৃদ্ধি কমিয়ে আনা এই সময়ে অর্থনীতির জন্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, সবাই এ বিষয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ভালো সময়ের জন্য অপেক্ষা করছি। সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু এখন এর সঠিক সময় নয়।’

আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ভোক্তা ঋণের সুদের হার শিথিল করেছে।’

বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাজারকেই এটা নির্ধারণ করতে দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আবদুর রউফ তালুকদার আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক কখনোই কোনো আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। শুধু কিছু বিলাসবহুল পণ্যের আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।’

বৈদেশিক বাণিজ্যে পণ্যর দাম কম বা বেশি দেখিয়ে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ‘ট্রেড বেজড মানি লন্ডারিং’ বন্ধ করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।

তিনি আরও বলেন, পণ্য আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ার আড়ালে দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। ২০-২০০ শতাংশ পর্যন্ত ওভার ইনভয়েসিং বা অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এরকম একশ’ এলসি বন্ধ করে নেওয়া হয়েছে।

গভর্নর বলেন, একলাখ ডলারের মূল্যর গাড়ি আমদানি করা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার ডলারে। এতে বোঝা যায়, বাকি অর্থ তারা হুন্ডির মাধ্যমে দিয়েছে।

দেশের বাজারে আপেল বিক্রির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “বাজারে যে দরে আপেল বিক্রি হচ্ছে, তার চেয়ে কম দরে আমদানি করা হচ্ছে। দর কম দেখানোতে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমছে এখান থেকে।

‘এভাবে আন্ডার ইনভয়েসিং এর মাধ্যম পণ্য আমদানি হচ্ছে, যে দর কম দেখানো হচ্ছে, তা হুন্ডির মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে। হুন্ডিতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রবাসীদের না পাঠানো রেমিট্যান্স।’

কালের আলো/এবিএ/এমএম

Print Friendly, PDF & Email