বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠতম শান্তিরক্ষী সেনাপ্রধান, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন ৮ বছর আগে

প্রকাশিতঃ 12:03 am | November 21, 2022

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

তিনি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠতম শান্তিরক্ষী। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে রেখেছেন গৌরবোজ্জ্বল অবদান। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৪ সালে মোজাম্বিকে শান্তিরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন প্রায় ১৬ মাস। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার, যিনি শান্তি মিশনে মাল্টিন্যাশনাল ফোর্স কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্বের বিরল সুযোগ পেয়েছিলেন।

স্বভাবতই তাঁর প্রায় ৩৯ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অনন্য মহিমায় সমুজ্জ্বল জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন। প্রায় ৮ বছর আগে শান্তিরক্ষা মিশনে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক-এ ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সৌভাগ্যক্রমেই মৃত্যুর মুখ থেকে জীবনের দিকেই ফিরে আসেন দেশের ১৭ তম সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। এ যেন ছিল তাঁর পুনর্জন্ম লাভ।

সাহসে, প্রেরণায়, প্রত্যয়ে জ্যোতির্মান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ২০২১ সালের সশস্ত্র বাহিনী দিবসে নির্মিত বিশেষ অনির্বাণে সেই দু:সহ দিনের কথা স্মৃতিময়তা তুলে আনেন। অতর্কিত হামলায় প্রাণে বেঁচে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘২০১৪ সালের ৯ অক্টোবর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আমি সেন্ট্রাল আফ্রিকায় কর্মরত থাকাকালীন অ্যামবুশে পড়ি। ভাগ্যক্রমে সেদিন আমার গাড়িটি ছিল বুলেটপ্রুফ। যার কারণে আমার জীবন রক্ষা হয়। কিন্তু অন্যান্য দেশের অনেক শান্তিরক্ষী আহত হয় এবং একজন বিদেশী শান্তিরক্ষী নিহতও হন।’

সূত্র মতে, জাতিসংঘের অধীনে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তিন দশক সময় পার করছে বাংলাদেশ। বিশ্বে ১৯৪৮ সাল থেকে এই পর্যন্ত ৬৮ শান্তি মিশনের মধ্যে বাংলাদেশী শান্তি সেনাদের স্পর্শ পেয়েছে ৫৪ মিশন। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১৩ মিশনে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা।

সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ১৯৮৯ সাল থেকে পুলিশ বাহিনী এবং ১৯৯৩ সাল থেকে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করছে। বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের একটি বিশাল স্থান দখল করে আছে বাংলাদেশী সেনারা।

সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বের সময়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বোচ্চ সৈন্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে টপ ওয়ানে রয়েছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। বৈরী আবহাওয়া, অচেনা পরিবেশ, অশান্ত ও বিরোধপূর্ণ এলাকায় শান্তির পতাকা উড়ানোর কাজে শ্রেষ্ঠ ব্লু হেলমেটধারীরাই।

‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আজকের এই প্রশংসনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জনের পেছনে রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নির্দেশনা ও সুদৃঢ় নেতৃত্ব’- বলছিলেন সেনাপ্রধান।

চলতি বছর আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবসের বাণীতে তিনি বলেন, ‘১৯৮৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যাত্রার শুরু থেকেই পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে একটি স্বীকৃত নাম যা আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমির মর্যাদা বিশ্ব দরবারে বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে।’

সর্বোচ্চমানের পেশাদারি মনোভাব, সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে বিশ্বের দেশে দেশে সন্ত্রাস, সংঘাত ও দাঙ্গা দমনের মাধ্যমে শান্তি স্থাপন থেকে শুরু করে দেশ পুনর্গঠনে নির্ভীক ভূমিকা পালন করছে এদেশের শান্তি সেনারা। বর্তমানে শান্তিরক্ষী মিশনে সৈন্য প্রেরণকারী দেশের সংখ্যা ১২২টি।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email