আমাদের দেশ শাসন ও উন্নয়নের দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের নয় : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 7:09 pm | June 01, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, আমাদের দেশ শাসন এবং এর উন্নয়নের দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের নয়। যুক্তরাষ্ট্রেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।

বুধবার (১ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

বার্তায় বাংলাদেশ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রশ্ন করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, আপনারা (সাংবাদিক) অনুগ্রহ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রশ্ন করবেন, কেন তারা তাদের দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে পারেনি? দ্বিতীয়ত, প্রতিবছর প্রায় এক লাখ মার্কিন নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ হয়। এমনকি শিশুরা তাদের হিস্পানিক মা–বাবার সঙ্গে পুনর্মিলন থেকে বঞ্চিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করুন, বাংলাদেশ সম্পর্কে নয়।

এ কে আব্দুল মোমেন আরও বলেন, আমাদের দেশ শাসন এবং এর উন্নয়নের দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের নয়। যুক্তরাষ্ট্র যদি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা চায়, তাহলে আরটি (রাশিয়ান টেলিভিশন) সম্প্রচারে কেন বাধা দিয়েছে? তারা যদি জবাবদিহি চায়, তাহলে কেন প্রতিবছর এক হাজারেরও বেশি নাগরিককে (বেশির ভাগ কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক) হত্যার দায়ে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনী বা পুলিশের কোনো শাস্তি বা জবাবদিহি হয় না?

সাংবাদিকদের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা কেন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রশ্ন করেন না যে, যদি তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হয়, তাহলে কেন তরুণ আমেরিকানরা তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে না। কেন তরুণ আমেরিকানদের মধ্যে ভোট দেওয়ার হার কম। প্রতিটি নির্বাচনে কেন তাদের ভোটারদের প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট দেয়? এটা কী একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রক্রিয়া?

এর আগে মঙ্গলবার রাজধানীর প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ একইসঙ্গে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের গুরুত্বের কথা বলেছি, যেন বাংলাদেশের জনগণ অবাধে তাদের নেতা নির্বাচন করতে পারেন।’

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email