ঢাকায় ২ সহযোগীসহ হুজি’র শীর্ষ জঙ্গি গ্রেফতার

প্রকাশিতঃ 4:01 pm | October 03, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজিবি) সৌদি ফেরত শীর্ষ এক জঙ্গি ও তার ২ সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। তার নাম মো. আতিকুল্লাহ ওরফে আসাদুল্লাহ ওরফে জুলফিকার (৪৯)।

বুধবার (২ অক্টোবর) বিকেলে নিকুঞ্জ-২ এর বড় মসজিদ সংলগ্ন মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। দু্ই গ্রেফতারা হলেন- মো. বোরহান উদ্দিন রাব্বানী (৪২) ও মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ওরফে শামীম (৪৩)।

আতিকুল্লাহ ফেনী জেলার দাগনভুঁইয়া দেবরামপুর এলাকার হাফেজ আহসান উল্লাহ ছেলে। নাজিম উদ্দিন বাগেরহাটের ডেমা মধ্যপাড়ায় গ্রামের মাওলানা আবু ওবায়দুল্লাহর ছেলে এবং রাব্বানী নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার হাবিবপুর এলাকার হাফেজ হোসাইনের ছেলে।

আতিকুল্লাহর সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া নাজিম উদ্দিন হুজিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বশীল এবং বোরহান উদ্দিন রাব্বানী ফেনী জেলার দায়িত্বে আছে বলে জানা গেছে।

সিটিটিসির উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আতিকুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করে দেশে হুজিবিকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছিল। গত মার্চে সে দেশে আসে। তার বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি জানান, আতিকুল্লাহ ১৯৯৬ সালে মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে গঠিত হুজিবি’র কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল। পরে সে বায়তুল মাল ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বশীল হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম দিকে আতিকুল্লাহ দুবাই হয়ে সৌদি আরব পালিয়ে যায়। সেখান থেকে একাধিকবার সে পাকিস্তান গিয়ে দেশটির জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেসব বৈঠকে বাংলাদেশে হুজিবিকে সচল করার নানা পরিকল্পনা করা হয়।

সে আশির দশকের শেষের দিকে আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধে অংশ নেয়। সে বোমা তৈরিতে বিশেষভাবে দক্ষ। ওই সময় থেকেই তার সঙ্গে আল-কায়েদার প্রয়াত প্রধান ওসামা বিন লাদেন, তালেবানের সাবেক শীর্ষ নেতা মোল্লা ওমরসহ আল-কায়েদার বর্তমান নেতা আইমান আল জাওয়াহেরির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে তার তৎপরতা ছিল। রোহিঙ্গা ও কাশ্মির ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে সে নতুন সদস্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছিল, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আতিকুল্লাহ এসব তথ্য জানায়।

কালের আলো/বিআর/এমএম

Print Friendly, PDF & Email