উন্নত বিশ্বের আদলে সাজবে ফায়ার সার্ভিস

প্রকাশিতঃ 10:54 am | September 23, 2019

যখন পুড়ন্ত বা ডুবন্ত এবং ধ্বংসস্তুপ-মানুষকে বাঁচানোই যখন মূল লক্ষ্য ও কাজ তখন সংকটকাল। আর দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় সংকট মোচনের গুরুদায়িত্ব মানে অগ্নিপরীক্ষা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর বারবার সেই অগ্নিপরীক্ষার জন্য প্রস্তুত। এ নিয়ে দেশের জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম কালের আলো’র ধারাবাহিক প্রতিবেদন। আজ প্রকাশিত হচ্ছে প্রথম কিস্তি।

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

ফায়ার সার্ভিসকে অত্যাধুনিক, শক্তিশালী ও উন্নত কর্মক্ষমতা সম্পন্ন করতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। উন্নত বিশ্বের আদলে বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিসকে গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ফায়ার সার্ভিসকে সময়োপযোগী ও উন্নততর করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কালের আলোতে ‘অগ্নিপরীক্ষার অগ্নিপথে ফায়ার সার্ভিস’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন কালের আলোকে জানান, অচিরেই ফায়ার সার্ভিস বিশ্বমান সম্পন্ন হবে। ফায়ার সার্ভিসের আধুনিকায়ন যাত্রার সূত্রপাত এখন দৃশ্যমান।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ফায়ারম্যান পদবী এখন বদলে যাচ্ছে। নতুন নাম ফায়ার ফাইটার। মূলত উন্নত বিশ্বের আদলে ফায়ারম্যান নাম বদলে ফায়ার ফাইটার করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেই সাথে নিয়োগ বিধি সংশোধন ও জনবল কাঠামো বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আধুনিক ফায়ার স্টেশন নির্মাণের পাশাপাশি বাড়ানো হচ্ছে জনবল। বাহিনীর সদস্যদের আর্থিক সুরক্ষার জন্য গঠন করা হয়েছে কল্যাণ ট্রাস্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কল্যাণ ট্রাস্টে প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। ইতোমধ্যেই এ কল্যাণ ট্রাস্ট’র আয় থেকে নিহত ফায়ার ফাইটার সোহেল রানাসহ আরো কয়েকজন ফায়ার ফাইটারের পরিবারকে প্রায় ২০ লাখ টাকার সাহায্য প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: যেভাবে বিশ্বমানের আধুনিকায়নের পথে ফায়ার সার্ভিস

ফায়ার সার্ভিসের জনবল বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণসহ সার্বিক অবস্থার গুণগত মানোন্নয়নে সরকার বহুমাত্রিক উদ্যোগ নিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসকে পুনর্গঠনে ইউএনডিপি’র সাথে একটি চুক্তি হয়েছে জানান ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন।

মূলত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন ফায়ার সার্ভিসের ডিজি পদে যোগদানের পর থেকেই এ অধিদপ্তরটিকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি চলতি বছরের ১২ মার্চ এ পদে যোগদান করেন।

সূত্র মতে, চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগবিধি সংশোধনের নির্দেশনা দেন। মূলত এরপরই ফায়ারম্যান পদবী বদলে ফায়ার ফাইটার করার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরক্ষা সেবা বিভাগে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন: চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত ফায়ার সার্ভিস, প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা

এছাড়াও অন্যান্য বাহিনীর সাথে সামঞ্জস্য রেখে ফায়ার ফাইটারদের নিয়োগ বিধি পরিবর্তনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে।

একই সূত্র জানায়, নিয়োগবিধি সংশোধন ও জনবল কাঠামো বৃদ্ধির পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করতেই সরকার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন কালের আলোকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জনবল কাঠামো বাড়ানো হচ্ছে। ১২ হাজার ৯৮০ থেকে ২৫ হাজারে উন্নীত করার কাজ চলছে। চলমান প্রকল্পের আওতায় ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৬৭ টি। আর এক্ষেত্রে জনবল দরকার হবে ১৬ হাজার।

আরও পড়ুন: ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে ভূমিকম্প সহিষ্ণু আধুনিক ভবন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের সার্বিক উন্নয়নে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়াতে মহাউদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগুন নেভানো ও উদ্ধার অভিযানের জন্য বিশেষ ধরণের হেলিকপ্টার কেনা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গত ৩ এপ্রিল তাঁর মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সভায় বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী এ হেলিকপ্টার ক্রয় করা হবে। যা দিয়ে দ্রুত আগুন আয়ত্তে আনা ও বিপদাপন্ন লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভবপর হবে।

সূত্র মতে, ফায়ার সার্ভিসের আধুনিকয়ন অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, জাপান, কানাডাসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের মতো অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিতে সমৃদ্ধ করা হবে। সেবাধর্মী এ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের স্বার্থে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার স্টেশন নির্মাণের পাশাপাশি ১১ টি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

একই সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার অত্যাধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাস তিনেকের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ৫ টি উঁচু মই বা ফায়ার লেডার দেওয়া হবে। প্রতিটি ৬৪ মিটারের এ লেডার দিয়ে ২০ তলা পর্যন্ত পৌঁছে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানো যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের বহরে রয়েছে ২০ টি লেডার। যা দিয়ে ২০ তলা উচ্চতা কভার করা যায়। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিটি জেলায় একটি করে লেডার সংযোজনের। এখন ফায়ার সার্ভিসের হাতে থাকা লেডারগুলোর মধ্যে তিনটি ছাড়া বাকীগুলো মাঝারি বা ছোট আকারের।

যদিও জেলা পর্যায়ে ৬৪ মিটারের বেশি উচ্চতার লেডারের প্রয়োজন পড়ে না। এরপরেও অত্যাধুনিক মানের লেডার দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভাগীয় শহরকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে জেলা পর্যায়ে অত্যাধুনিক লেডার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

কালের আলো/এএ/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email