ঢাকা থেকে আকাশযাত্রায় বিশ্বের সবুজ বিমানবন্দর ইস্তাম্বুলে

প্রকাশিতঃ 9:56 am | September 03, 2019

অ্যাক্টিং এডিটর, কালের আলো, ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর (তুরস্ক) থেকে :

প্রায় ৭ হাজার ৬০০ হেক্টর আয়তনের সুবিশাল এক বিমানবন্দর। তুরস্ক সরকারের ভাষায়-ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর হচ্ছে পরিবেশবান্ধব। সবুজ এক বিমানবন্দর। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের গর্বের প্রতীক হিসেবেও বিবেচনা করা হয় মাত্র মাস নয় আগে উদ্বোধন হওয়া এ বিমানবন্দরটি।

আরও পড়ুন: মাঝারি উড়োজাহাজে নাইজার হয়ে বামাকোতে

মূলত ৭ হাজার ৬০০ হেক্টর আয়তনের এ বিমানবন্দরকে বিশ্বের নানা দেশে যেতে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পশ্চিম আফ্রিকার মরুর দেশ মালি আমাদের মূল গন্তব্য হলেও ৬ ঘন্টার ট্রানজিট রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম এ বিমানবন্দরে। মালিতে পৌঁছার আগেই যে কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তুরস্কের এ বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করতে হয়েছে।  

ঠিক রোববার (০২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬ টা ২৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর শাহজালাল এয়ারপোর্ট থেকে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের দৈত্যকার উড়ালপঙ্খি আকাশ পাড়ি দিতে শুরু করে ইস্তাম্বুলের উদ্দেশ্যে। ক্রমশ চোখে পড়লো আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘের দল। বিমানের পাখার নিচে দেখা মিললো সুয়ারেজ খাল।

ঢাকা থেকে ইস্তাম্বুলের দূরত্ব প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার। বিমানটি ৩২ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। বিমানের ভেতরের অবস্থা পুরোপুরি আয়েসি আকাশযাত্রার। আসনসমূহ প্রশস্ত। রয়েছে হেডফোনসহ পৃথক মনিটরে পছন্দের ভিডিও বা মুভিতে ডুব মারার সুযোগ। সঙ্গে রয়েছে উপাদেয় নানা খাবার। ফলে সাড়ে ৫ ঘন্টার আকাশযাত্রার ভাবখানাই অন্য রকম।

প্রায় সাড়ে ৫ ঘন্টা পর বোয়িংয়ের চাকা স্পর্শ করলো বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও বিশাল ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের রানওয়ে। ইমিগ্রেশন পর্ব শেষ করে টার্মিনালের ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখ যেন নতুন কিছু দেখছে। পুরো ঝকঝকে তকতকে একটি বিমানবন্দর। যেন একজন দক্ষ শিল্পীর নিপুণ হাতে আকা কোন ছবি।

আরও পড়ুন: দালালে প্রতারিত হয়ে বামাকোতে, সফলতার উদাহরণ সেই সালাহ উদ্দিন

তুরস্কের প্রাচীন রাজধানী ইস্তাম্বুলের নামেই এ বিমানবন্দরের নামকরণ করা হয়েছে গত বছরের নভেম্বরে অর্থাৎ, দেশটির ৯৫ তম স্বাধীনতা দিবসে। বিশ্বের নানা দেশে যেতে ইস্তাম্বুলের এ বিমানবন্দরকেই ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ব্যতিক্রম নয় মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন পরিদর্শনে আসা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলেরও।

আরও পড়ুন: বামাকো শহরে সড়কে নেই বিশৃঙ্খলা, রাজত্ব ছোট যানের

বিমানবন্দরের ভেতরের দোকানগুলোতে নানা পণ্যে ভরপুর। যদিও এশিয়া মহাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় এ নগরীর তকমা আঁটা ইস্তাম্বুল শহর ঘুরে দেখার আক্ষেপ থেকেই গেলো। এ নগরীর দুই পাশে ছিমছাম-সাজানে পরিকল্পিত দালান-কোঠা, নানা বৃক্ষের সমাহার আবার মাঝখানে বসফোরাস প্রণালি’র গল্পও বিমানবন্দরে কান পাতলেই শোনা যায়।

আরও পড়ুন: বামাকোতে মিঠেকড়া রোদের পর তুচ্ছাতিতুচ্ছ বৃষ্টি!

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ বিমানবন্দর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫১০ কোটি ডলার। দু’টি রানওয়ে ও একটি টার্মিনাল দিয়ে বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী যাতায়াত করার কথা বলা হয়েছে। এ বিমানবন্দরে প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক বিমান অবস্থান করতে পারে। তবে পুরো বিমানবন্দরটির নির্মাণ কাজ শেষ হতে অপেক্ষা করতে হবে আরো বছর চারেক।

কালের আলো/কেএএই/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email