প্রিয়ার বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান গণপূর্তমন্ত্রীর

প্রকাশিতঃ 6:28 pm | July 21, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

প্রিয়া সাহার বক্তব্যে বিভ্রান্ত হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

রোববার (২১ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

রেজাউল করিম বলেন, পিরোজপুর-১ সংসদীয় আসনের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দেশের সকল হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সকলকে অবহিত করতে চাই আমার এলাকায় কোনভাবেই কোন অসম্প্রীতি হয়নি, ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত কোন ঘটনা ঘটেনি। প্রিয়া সাহার কোন সম্পত্তি কেউ নিয়ে যাওয়া বা তার ঘর-বাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অসত্য। মুসলিম মৌলবাদীরা ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন, তাও অসত্য।

মন্ত্রী বলেন, আমার এলাকায় কোন মৌলবাদীদের অবস্থান নেই। আমার এলাকায় হিন্দু-মুসলিমের সম্প্রীতি, সহাবস্থান একটি অপূর্ব নিদর্শন সৃষ্টি করেছে। এটা হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্য। আমাদের সম্প্রীতির জায়গা অনেক বড়। কাজেই প্রিয়া সাহার বক্তব্যে কোন মানুষ যেনো বিভ্রান্ত না হন বা কেউ যেনো ফায়দা লুটে নিতে পারেন সেই আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে পিরোজপুর জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় সকলে প্রিয় সাহার বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

রেজাউল করিম বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে এবং একই ইউনিয়নের অধিবাসী হিসেবে দেশবাসীকে অবহিত করতে চাই, প্রিয়া সাহা পিরোজপুর-১ আসনের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চর বানিয়ারি গ্রামে বসবাস করেন না এবং এ গ্রামে তার নিজস্ব কোনো সম্পত্তি বা বাড়ি-ঘর নেই। এ গ্রামে তার বাবা ও ভাইদের সম্পত্তি রয়েছে। তাদের বাড়িতে কেউ থাকেন না।

তিনি বলেন, একটি পরিত্যক্ত ঘরে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রিয়া সাহার ভাই জগদীশ বিশ্বাস এর কেয়ারটেকার কমলেশ বিশ্বাস নাজিরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সে অভিযোগে তিনি কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি, এমনকি কাউকে সন্দেহও করেন নি। সেই এজাহারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য কোনো মৌলবাদী গোষ্ঠী বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কেউ এ জাতীয় ঘটনা ঘটিয়েছে এমন শঙ্কার কথা বলা হয়নি। এ মামলাটি পুলিশ তদন্ত করছে।

মন্ত্রী করেন, এ এলাকায় বলেশ্বর নদীতে চর জেগে উঠায় বলেশ্বরের দুই পারের লোকেদের মধ্যে সরকারি খাস জমির দাবী করা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে অসংখ্য মামলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলায় জগদীশ বিশ্বাসের কেয়ারটেকার কমলেশ বিশ্বাস বাদী। তিনি হিন্দু-মুসলিম উভয় শ্রেণির লোকদের আসামি করেছেন।

রেজাউল করিম বলেন, প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে বলেছেন বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান গুম হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকা যেখানে প্রিয়া সাহার বাবার বাড়ি, সেখানে একজনও অন্য ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি গুম হয়নি।

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি আমার নির্বাচনী এলাকা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সকলে মিলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অপূর্ব নিদর্শনের একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এলাকা। এখানে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কখনোই কেউ অবিচারের শিকার হন না। এ এলাকায় এখনও হিন্দু সম্প্রদায়ের বর্ধিষ্ণু ব্যক্তিরা বসবাস করেন। কোনভাবেই ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়নি। প্রিয়া সাহা দেশের বাইরে গিয়ে তাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া ও জমি নিয়ে নেওয়ার যে অভিযোগ করেছেন, এটা সম্পূর্ণরূপে অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কোনো অসৎ পরিকল্পনা থেকে এ জাতীয় অভিযোগ করতে পারেন।

নিজ নির্বাচনী এলাকায় একজন হিন্দুও কোনভাবে গুম হয়েছেন কিনা, প্রিয়া সাহার অভিযোগের কোন সত্যতা আছে কিনা সে বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

রেজাউল করিম আরও জানান, পিরোজপুর জেলা পূজা পরিষদের সভাপতি বিমল মন্ডল, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি তুষার মজুমদার বিবৃতি দিয়েছেন যে, প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সাথে তারা কেউ একমত নন এবং তার অভিযোগ সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

নাজিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন হালদার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রিয় সাহার অভিযোগকে উদ্ভট, অবাস্তব ও মিথ্যাচারপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন বলে জানান গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী।

কালের আলো/এআর/এমএম

Print Friendly, PDF & Email