ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

অসুস্থতার প্রতিটি কষ্টে মুমিনের গুনাহ মাফ করেন আল্লাহ

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

অসুস্থতার প্রতিটি কষ্টে মুমিনের গুনাহ মাফ করেন আল্লাহ

সুস্থতা মহান আল্লাহ তাআলার অন্যতম বড় নেয়ামত। সুস্থ শরীর মানুষের দৈনন্দিন কাজ, ইবাদত-বন্দেগি ও কল্যাণকর কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। এ কারণে ইসলাম ধর্মে সুস্থতার জন্য দোয়া করা এবং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে অসুস্থতা কিংবা বিপদ-আপদে পড়লেও মুমিনের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, রোগ-ব্যাধি ও দুঃখ-কষ্টের সময় ধৈর্য ধারণ করলে তা গুনাহ মাফ এবং মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

সুস্থতা আল্লাহর বড় নেয়ামত

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে সুস্থতার জন্য দোয়া করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও আল্লাহর কাছে ক্ষমা, নিরাপত্তা ও সুস্থতা চাইতে উৎসাহিত করতেন।

সুনানে তিরমিযি ও সুনানে নাসায়িতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর কাছে ক্ষমা, নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঈমানের পর নিরাপত্তা ও সুস্থতা মানুষের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান নেয়ামত।

তাই একজন মুমিনের উচিত সুস্থতার সময় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং সেই সুস্থতাকে ইবাদত, সৎকর্ম ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো।

অসুস্থতা মুমিনের জন্য পরীক্ষাও হতে পারে

ইসলামের দৃষ্টিতে অসুস্থতা জীবনের একটি পরীক্ষা। এ সময় ধৈর্য ধারণ, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর কাছে রোগমুক্তির প্রার্থনা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

কোনো মুমিন অসুস্থ হলে তার উচিত হতাশ না হয়ে আল্লাহর রহমতের আশা রাখা। রোগের কষ্টের সময় ধৈর্য ধারণ করলে সেই কষ্ট তার গুনাহ মোচন এবং মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

সুনানে আবু দাউদে উম্মুল আলা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে গিয়ে সুসংবাদ দেন। তিনি বলেন, আগুন যেভাবে সোনা-রুপার ময়লা দূর করে দেয়, তেমনি আল্লাহ কোনো মুসলিমের অসুস্থতার মাধ্যমে তার গুনাহ দূর করে দেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৩০৯২)

বিপদ-আপদেও গুনাহ মাফের সুসংবাদ

শুধু অসুস্থতা নয়, জীবনের বিভিন্ন দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদও মুমিনের গুনাহ মোচনের কারণ হতে পারে।

সহিহ বুখারিতে আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম রোগ, দুশ্চিন্তা, দুঃখ, কষ্ট কিংবা অন্য কোনো বিপদে আক্রান্ত হলে, এমনকি তার শরীরে কাঁটা ফুটলেও, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার গুনাহ মাফ করেন। (সহিহ বুখারি: ৫৬৪১; সহিহ মুসলিম: ২৫৭২)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, মুমিনের জীবনের কষ্ট অর্থহীন নয়। আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে ধৈর্য ধারণ করলে দুঃখ-কষ্টও তার জন্য আখিরাতের কল্যাণের কারণ হতে পারে।

নবীজি (সা.)-এর অসুস্থতা থেকেও রয়েছে শিক্ষা

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) একবার অসুস্থ অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেখতে গিয়ে তাঁর জ্বরের তীব্রতা অনুভব করেন। তিনি নবীজিকে বলেন, আপনি তো প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছেন।

জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানান, সাধারণ মানুষের তুলনায় তিনি দ্বিগুণ জ্বরে আক্রান্ত হন। তখন ইবনে মাসউদ (রা.) তাঁর জন্য দ্বিগুণ সওয়াবের কথা বললে নবীজি (সা.) তা স্বীকার করেন।

সহিহ বুখারির বর্ণনায় আরও এসেছে, কোনো মুসলিম রোগ-ব্যাধি বা অন্য কোনো কষ্টে আক্রান্ত হলে আল্লাহ তার গুনাহ ঝরিয়ে দেন, যেমন গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়। (সহিহ বুখারি: ৫৬৬৭)

এই শিক্ষা মুমিনকে অসুস্থতার সময় ধৈর্য ধরতে এবং আল্লাহর রহমতের আশা রাখতে উৎসাহিত করে।

সুখে শুকরিয়া, দুঃখে ধৈর্য

ইসলামে শুধু বিপদে ধৈর্য ধারণের কথা বলা হয়নি; বরং সুস্থতা, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রাচুর্যের সময় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকারও নির্দেশনা রয়েছে।

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, মুমিনের প্রতিটি অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পেলে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, যা তার জন্য কল্যাণকর। আর বিপদে পড়লে ধৈর্য ধারণ করে, সেটিও তার জন্য কল্যাণকর। (সহিহ মুসলিম: ৭২২৯)

অর্থাৎ, সুস্থতার সময় ইবাদত ও সৎকর্মে আত্মনিয়োগ করা এবং অসুস্থতার সময় ধৈর্য ধরে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া—দুটিই একজন মুমিনের জন্য কল্যাণের পথ হতে পারে।

অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়াও জরুরি

অসুস্থতাকে গুনাহ মাফের সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে দেখার অর্থ এই নয় যে চিকিৎসা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। বরং অসুস্থ হলে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং একই সঙ্গে আল্লাহর কাছে সুস্থতা প্রার্থনা করা উচিত।

রোগের কষ্টে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখা এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। একইভাবে সুস্থ অবস্থায় আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে তা ভালো কাজে ব্যবহার করাও মুমিনের দায়িত্ব।

কালের আলো/এসএ

Link copied!