নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম

টেক্সটাইল খাতে বিদেশি বিশেষজ্ঞনির্ভরতা কমানোর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম

টেক্সটাইল খাতে বিদেশি বিশেষজ্ঞনির্ভরতা কমানোর আহ্বান

দেশের টেক্সটাইল শিল্পের চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দেশেই তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে এ খাতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় দক্ষ জনশক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বুটেক্সের অ্যালামনাই সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি টেক্সটাইল খাতকে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ খাতের চাহিদা অনুযায়ী দেশে দক্ষ প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেন দেশে ও বিদেশে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

এতে একদিকে দেশের শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বাড়বে। টেক্সটাইল শিক্ষাকে শিল্পের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণে দেশীয় তুলা উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। এ জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা, উৎপাদন ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজে বের করা এবং কৃষি ও টেক্সটাইল খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

দেশে তুলার উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে উৎপাদন খরচ, কৃষকদের আগ্রহ এবং উপযুক্ত চাষাবাদব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। টেক্সটাইল শিল্পে বিকল্প কাঁচামালের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। পাট, আনারসের পাতা ও কলাগাছসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস থেকে তন্তু সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সিনথেটিক সুতা তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও গবেষণার ওপর জোর দেন।

প্রাকৃতিক উৎস থেকে তন্তু সংগ্রহ ও ব্যবহার নিয়ে গবেষণা বাড়ানো গেলে দেশের কৃষিভিত্তিক সম্পদকে শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে কাজে লাগানোর নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে বুটেক্সের ভূমিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি এবং বাজেট সম্প্রসারণের দাবি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিসিএস (টেক্সটাইল) নামে আলাদা ক্যাডার সৃষ্টি এবং ঢাকার পূর্বাচলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য জমি বরাদ্দের বিষয়েও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

রাষ্ট্রপতি তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। উত্থাপিত বিষয়গুলোর সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে বুটেক্সের উপাচার্য আগামী মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরকে সভাপতিত্ব করার আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধিদলে বুটেক্সের ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক শিল্পী আক্তার, ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. হাসিনা আখতার, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা এবং ফ্যাকাল্টি অব ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড. লামইয়া জাহির উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

Link copied!