আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম

শিক্ষা খাতে বরাদ্দের দাবিতে বেলজিয়ামে সংঘর্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম

শিক্ষা খাতে বরাদ্দের দাবিতে বেলজিয়ামে সংঘর্ষ

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার, ২৪ অক্টোবর, কয়েকশ বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে সরকারের শিক্ষা নীতির প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও পিপার স্প্রে ব্যবহার করে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করা এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষই ছিলেন তরুণ। তাঁরা শিক্ষা খাতে আরও অর্থ বরাদ্দ, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতি পুলিশের আচরণে পরিবর্তনের দাবি জানান। কয়েক মাস ধরে চলা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শনিবারের এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে রাজপথে তরুণেরা
বেলজিয়ামে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন এবং এ খাতে সরকারি অর্থায়ন বাড়ানোর দাবিতে কয়েক মাস ধরেই বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন পূরণে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ জন্য শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি সরকারের নীতিগত পদক্ষেপও প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।

শনিবারের (২৪ অক্টোবর) বিক্ষোভেও এসব দাবি সামনে আসে। ব্রাসেলসের রাস্তায় জড়ো হওয়া কয়েকশ মানুষ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারের আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, আন্দোলন দমনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে। ফলে শিক্ষা খাতের দাবি জানানোর পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রতিবাদ জোরালো হয়ে ওঠে।

পুলিশের ধাওয়া ও লাঠিপেটার অভিযোগ
রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী এবং বেলজিয়ামের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ধাওয়া করে। এ সময় অনেককে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়। পালানোর সময় কয়েকজন মাটিতে পড়ে যান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পুলিশের একজন সদস্যকে এক বিক্ষোভকারীকে লাঠি দিয়ে আঘাত ও লাথি মারতে দেখা যায়। এ ঘটনা বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের একাংশ রাস্তার সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন বস্তু ভাড়া করা স্কুটার ও সাইকেলের স্তূপের ওপর ফেলে তাতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভের সময় পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও পিপার স্প্রে ব্যবহারের ঘটনাও সামনে এসেছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। তবে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

কাঁদানে গ্যাস ও পিপার স্প্রে ব্যবহার পুলিশের
বেলজিয়ামের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় পিপার স্প্রে ব্যবহারের বিষয়টিও উঠে এসেছে। কাঁদানে গ্যাস ও পিপার স্প্রে ব্যবহারের ফলে বিক্ষোভস্থলে উত্তেজনা বাড়ে। আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলেন।

অন্যদিকে, বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন বস্তু সরিয়ে নেওয়া এবং আগুন দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পদক্ষেপের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বলপ্রয়োগের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। ব্রাসেলসের এই ঘটনা শিক্ষা খাতের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন কীভাবে সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে, তার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

পাঁচজন সাময়িক আটক আরও চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
বিক্ষোভের পর ব্রাসেলস পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবারের (২৪ অক্টোবর) কর্মসূচিতে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে পাঁচজনকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া নিষিদ্ধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে আরও চারজনকে আটক করা হয়।

তবে পুলিশের বিবৃতি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় ঘটনাটির ভিন্ন ভিন্ন দিক উঠে এসেছে। একদিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলেছে, অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া, লাঠিপেটা এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনা উঠে এসেছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, সে সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বেলজিয়ামে আন্দোলন ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
ব্রাসেলসের এই বিক্ষোভে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবির পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিচালনার অধিকারও আলোচনায় এসেছে। কয়েক মাস ধরে চলা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করার দাবি উঠেছে।

অন্যদিকে, পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে বিক্ষোভের মূল দাবি বাস্তবায়নের প্রশ্নের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পদ্ধতিও এখন আলোচনার বিষয়। ব্রাসেলসের এই ঘটনা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে শুরু হওয়া কর্মসূচি যাতে আরও সংঘর্ষে রূপ না নেয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ/এমএস

Link copied!