আইজিপি’র ‘রাউন্ড দ্যা ক্লক’ তৎপরতা, ঈদে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে চমক

প্রকাশিতঃ 9:01 am | September 02, 2018

অ্যাক্টিং এডিটর, কালের আলো :

ঈদের ছুটি মানেই রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে গোটা দেশেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, খুনখারাবি, ছিনতাই, ডাকাতি, অজ্ঞান বা মলম পার্টির দৌরাত্ব। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় সবার জন্যই।

আবার কোরবানির ঈদ হলে চামড়া সন্ত্রাসই যেন নিয়ম। পশুর গাড়িতে পথে পথে চাঁদাবাজি, সড়কে মৃত্যুর মিছিল, ঈদের আগে-পরে দু:সহ যানজটে ভোগান্তি এসব চিত্রই ভেসে ওঠে চোখের সামনে। এসবের জন্য মোটা দাগে দায়ী করা হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শৈথিল্যকে।

কিন্তু এবার অতীতের ঘটনা প্রবাহের পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। জঙ্গি-সন্ত্রাস, খুন-খারাবি বা অজ্ঞান-মলম পার্টির তৎপরতা যেমন ঠেকানো গেছে তেমনি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে সড়ক সন্ত্রাসও। ঘন্টার পর ঘন্টা যানজট হয়নি সড়ক-মহাসড়কে, ঈদের আগে কিংবা পরে। পশুর গাড়িকে টার্গেট করে সুবিধা লুটতে পারেনি চাঁদাবাজরা। হার্ড লাইনে থাকায় রোধ করা গেছে চামড়া সন্ত্রাসও।

মূলত এসব সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে পুলিশের অসাধারণ ‘টিম ওয়ার্ক’। পুলিশ বাহিনীর মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী’র দক্ষ, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দৌলতেই বিস্ময় জাগানিয়া এমন সাফল্য মিলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী

আবার পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি ইউনিটের সদস্যদের কর্মস্থলেই ঈদ আনন্দের পাশাপাশি অন্য দশদিনের মতোই কঠোর তৎপরতা বজায় রাখার মানসিকতাও কুড়িয়েছে প্রশংসা।

দেখা গেছে, এবার ঈদকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগেভাগেই আদাজল খেয়ে মাঠে নেমে পড়েন পুলিশ প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার)। সড়ক-মহাসড়ক, রেলস্টেশন বা লঞ্চ টার্মিনাল সর্বত্রই সদর্প বিচরণ ছিল তাঁর।

চাঁদাবাজি, ছিনতাই বা সন্ত্রাসী তৎপরতা রোধে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিজেকে সক্রিয় রেখেছিলেন ‘রাউন্ড দ্যা ক্লক।’ অসহ্য দাবদাহের মাঝেও পুলিশ পেশাদারিত্বের সঙ্গেই এই দায়িত্ব পালন করেছে জানিয়ে ঈদের আগের দিনও গাজীপুর চৌরাস্তা-চন্দ্রা সড়ক পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘মানুষ রাস্তায় ভোগান্তি ও নাকালের মুখোমুখি হয়নি। পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে জনগণের বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে রাত-দিন দায়িত্ব পালন করছে। এই প্রচন্ড গরমের মাঝে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজে করে যাচ্ছে।’

সূত্র মতে, এবারের ঈদে শুরু থেকেই চাঁদাবাজি ও কালোবাজারির ঘটনার রাশ টেনে ধরে পুলিশ। রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ও পশুর হাট পরিদর্শন শেষে ওই সময় দেশের সফল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সেদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর উপস্থিতিতে পুলিশ প্রধান বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজি এবং কালোবাজারির ঘটনা নিয়ন্ত্রনে আছে। ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য সড়ক, রেল ও নৌ পথে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, পুলিশ প্রধানের কঠোর নির্দেশনায় ঈদের আগে ও পরে রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সফলতা দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে গড়ে তোলা হয় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাবলয়। ঈদগাহ ময়দান ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তাবলয় ছাড়াও ফাঁকা সড়কে রাখা হয় বিশেষ টহল। ফুট পেট্রল ও মোবাইল টিম ফাঁকা বাসায় চুরি-ডাকাতি রোধে বিশেষ নজরদারি চালানা হয়।

আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নেয়ার মধ্যে ছিল সমগ্র ঈদগাহ এলাকা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথসহ চারপাশের এলাকা সিসিটিভির আওতায়।

দেখা গেছে, ঈদের দিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কোন ঈদগাহ ময়দানেই জঙ্গী হামলার ঘটনা ঘটতে দেয়া হয়নি। কোন রাজনৈতিক হত্যাকান্ড বা গুপ্তহত্যা, বড় ধরনের ছিনতাই বা ডাকাতির খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর নিবিড় তৎপরতার ফলে ঈদের আগে-পরে ঘটেনি কোন অঘটন। এতে করে স্বস্তির শ্বাস ছেড়েছে সাধারণ মানুষ।

পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, কোরবানির প্রতিটি ঈদেই পশুর হাটকে ঘিরে ছিনতাই, মারামারি ও হত্যাকান্ডসহ গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে সন্ত্রাসীরা। একই সঙ্গে অজ্ঞান ও মলম পার্টি অপরাধী চক্র তৎপরতা চালায়।

কোরবানির পশুর হাটে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অজ্ঞান ও মলম পার্টির অপতৎপরতাসহ অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা আগেই জানিয়েছিলেন আইজিপি। প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। হাতেনাতেই এর সুফলও পাওয়া গেছে।

সদর দপ্তরটির আরেক কর্মকর্তা বলেন, বাহিনীর প্রধানই যখন ঈদকেন্দ্রীক অপরাধ দমনে নিজে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করে সর্বোচ্চ মনোনিবেশ করেন তখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম শক্ত হাতেই টেনে ধরা সম্ভব। আরো একবার এসব ক্ষেত্রে নিজের মুন্সীয়ানাই দেখিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

কালের আলো/ওএইচ/এএ

Print Friendly, PDF & Email