সংস্কার হবে জরাজীর্ণ ভবন, অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত দাগনভূঞা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রকাশিতঃ 12:58 pm | October 12, 2020

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

কুমিল্লার দক্ষিণে উনাইসার কমিউনিটি ক্লিনিক। তৃণমূল পর্যায়ে কয়েক লাখ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রথম ভরসা এ ক্লিনিক। গর্ভবতীদের প্রসব-পূর্ব ও পরবর্তী সেবাও দেওয়া হচ্ছে ঠিকঠাক। কিন্তু ক্লিনিকটির পুরো ভবনই জরাজীর্ণ। ফাটল দেখা দিয়েছে দেয়াল ও ছাদে। খসে পড়ছে আস্তরণ। উপদ্রুব রয়েছে উইপোকারও।

আরও পড়ুনঃ স্বাস্থ্যসেবার হাল দেখতে প্রথমবারের মতো তৃণমূলে স্বাস্থ্যের ডিজি

এসব সমস্যা নিজের চোখেই দেখেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা.আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। নানামুখী সমস্যা মোকাবিলা করে, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পুরোদমে এখানে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাওয়া সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করেছেন।

ক্লিনিক ভবনের দেয়াল ও ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটলের কারণে জীবন নিয়ে সংশয়ে থাকা চিকিৎসক, রোগীসহ সংশ্লিষ্টদের আতঙ্ক দূর করতে ভবনটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলীকে তাৎক্ষণিক জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত এ সমস্যা নিরসনে ইতিবাচক সাড়ায় খুশি সবাই।

আরও পড়ুন: জনবল সঙ্কট চরমে, সঙ্কট নিরসনেও সমাধানের পথ!

করোনাকালেও ইনডোর আউটডোরে আসা রোগীদের কীভাবে নিরলসভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে হয় সম্ভবত এমন একটি মডেল দাঁড় করিয়েছে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চিকিৎসা সেবা বিলিয়ে দিচ্ছেন এখানকার চিকিৎসক-নার্স থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মীরা।

সরেজমিনে এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করে কালের আলোকে এমনটিই জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। করোনা মহামারির সময়েও পুরোমাত্রায় চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা রুবায়াইত বিন করিমসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ দিয়েছেন।

২০০৯ সালে মেডিক্যাল কলেজ পেয়েছে নোয়াখালী। কিন্তু ২৬ একর ৫৩ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ মেডিকেল কলেজের কোন হাসপাতাল নেই। অথচ নিয়ম রয়েছে মেডিক্যাল কলেজ কম্পাউন্ডে ৫শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল থাকার। কিন্তু ১১ বছর হাসপাতাল বিহীন আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম চলছে।

এতে করে মেডিক্যাল কলেজটির শিক্ষার্থীদের নিত্যদিন ভোগান্তি সঙ্গী করেই ১০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে হাতে কলমে শিক্ষা গ্রহণ করতে হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বৃহত্তর নোয়াখালীর বৃহৎ জনগোষ্ঠী।

কীভাবে এখানে দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণের ব্যবস্থা করা যায় সেই বিষয়টি নতুন করে ভাবছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। সফরকালে এ কলেজটি পরিদর্শন করে তাদের দু:খগাঁথা নিজেই দেখে এসেছেন।

উচ্চ পর্যায়ে কথা বলে হাসপাতাল নির্মাণের বন্দোবস্ত করার বিষয়ে নিজের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ বাস্তবায়নেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের।

এরপর ডিজি পরিদর্শন করেন নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। এ হাসপাতালটির ভবন নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় চিকিৎসকদের বসার ব্যবস্থা নেই এমন চিত্র নজরে এসেছে স্বাস্থ্যখাতের এ শীর্ষ কর্তার।

এ হাসপাতালেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল সঙ্কট প্রকট হয়ে উঠেছে। এখানেও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সঙ্কট নিরসনে আউটসোর্সিংয়ের নির্দেশন দেন মহাপরিচালক। এখানকার স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর লয়েল রোডের স্বাস্থ্য পরিচালকের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি। এখানেও উঠে আসে জনবল সঙ্কটের সেই চিরায়ত সমস্যার বিষয়টি।

করোনা চিকিৎসায় নিজেদের উদ্যোগে হাইফ্লো ন্যাজল ক্যানোলার ব্যবস্থাসহ গত ৬ মাসে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কর্মযজ্ঞের প্রতিবেদন দেখে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানান ডিজি।

মতবিনিময় সভায় সমস্যা সমাধানে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণ ও বিচক্ষণতার বিষয়টি উপস্থাপন করেন ডা.আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

তাঁর বক্তব্যে চিকিৎসকদের আত্মত্যাগেরও প্রশংসা ঝরে। স্মরণ করিয়ে দেন রাতারাতি দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের চিত্র পাল্টানো সম্ভব নয়। বলেন, ‘কোভিড ও নন-কোভিড রোগীদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো করছে।

প্রধানমন্ত্রী নিজেই শক্ত হাতে মোকাবিলা করেছেন বলেই দেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে অনেক চিকিৎসক মৃত্যুবরণ করেছেন, আক্রান্তও হয়েছেন। এরপরেও চিকিৎসকেরা আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে স্বাস্থ্যসেবা খাত অনেকদূর এগিয়ে গেছে।’

দেশের হাসপাতালগুলোতে লোকবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট থাকা সত্ত্বেও রোগীরা সেবা পাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগের সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারের সহযোগিতা নেওয়া হবে।’

কালের আলো/এসএকে/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email