জামায়াত ও আ.লীগ ‘মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’: দ্য উইকে মাহফুজ আলম

প্রকাশিতঃ 2:06 pm | January 30, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও পতিত আওয়ামী লীগকে ‘মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে গণমাধ্যমটি।

সাড়ে ১৪ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহ, নতুন-পুরাতন বন্দোবস্তের সাম্প্রতিক সমীকরণ, সংস্কারের দৃশ্যমান রূপ থেকে গণমাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন মাহফুজ আলম।

তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী হলো আওয়ামী লীগের ‘অল্টার ইগো’ বা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। দেশের রাজনীতিতে আ.লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও থাকবে, আর জামায়াত থাকলে আ.লীগও থাকবে।’

বাংলাদেশকে নিয়ে জামায়াতের স্বচ্ছ কোনো ভিশন বা পরিকল্পনা নেই বলেও মনে করেন মাহফুজ আলম।

তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণ শক্তিগুলোকে এক করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ বা ‘থার্ড অল্টারনেটিভ’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তিনি।

তবে, জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র নেতাদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যখন ‘পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ বা ‘ওল্ড পলিটিক্যাল সেটেলমেন্ট’-এর অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোট করে, তখন সেই ‘তৃতীয় শক্তি’ গড়ার স্বপ্ন পুরোপুরি ভেস্তে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাহফুজ আলম বলেন, ‘যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে, তারা পুরনো কাঠামোরই অংশ। জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে এমন অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, যার কোনো উত্তর আমাদের কাছে নেই।’

‘কারণ, বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের (জামায়াত) স্বচ্ছ কোনো ভিশন বা পরিকল্পনা নেই’, যোগ করেন তিনি।

তিনি মনে করেন, আদর্শিক জায়গা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি- সব দিক থেকেই জামায়াতের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ‘মেলবন্ধন সম্ভব নয়’।

জুলাই আন্দোলনের নেপথ্যের নায়ক হিসেবে খ্যাতি পাওয়া এই ছাত্র নেতা বলেন, গত দেড় বছরের যাত্রা ছিল এক ধরনের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র মধ্য দিয়ে যাওয়া। যেখানে তার দৃষ্টিতে, পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা ‘ওল্ড পলিটিক্যাল সিস্টেম’ নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে, যা জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় যে দলই আসুক— বিএনপি বা জামায়াত, সমাজের ভেতরে থাকা ক্ষত সারাতে না পারলে কোনো সরকারই টিকবে না।’

তিনি এও বলেন, ‘শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার করলেই হবে না। সমাজে যদি ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা ‘রিনেগোসিয়েশন’ না হয়, তবে সমাজে মব ভায়োলেন্স বা বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।’

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন মাহফুজ আলম। তার মতে, বাংলাদেশের মানুষ গণমাধ্যমকে ‘বিশ্বাস করে না’।

‘এই বিশ্বাস ফেরাতে হলে গণমাধ্যমকে জনগণের কাছে তাদের অতীতের ভূমিকার জন্য এক ধরণের ক্ষমা বা বোঝাপড়ার জায়গায় আসতে হবে’, যোগ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই তথ্য উপদেষ্টা।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়লে ওই মাসের ৮ তারিখে ছাত্রদের সুপারিশে গঠিত হয় শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. ‍মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার।

পরে ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান মাহফুজ আলম। এরপর একই বছরের ১০ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা হন মাহফুজ আলম। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গত ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে সরে যান তিনি।

এখন বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে সময় কাটাচ্ছেন বলে দ্য উইকের সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন সাবেক এই উপদেষ্টা।

মাহফুজ আলম এও জানিয়েছেন, তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন- কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা গেল না এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এগোতে হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন