Plagiarism (রচনাচুরি) : ধরণ বিশ্লেষণ এবং বর্জনের উপায়

প্রকাশিতঃ 10:08 pm | April 02, 2019

::মোঃ সোলায়মান মিয়া ::

সারা বিশ্বব্যাপী যত শিক্ষাবিদ এবং গবেষক রয়েছেন তারা তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফল বা তত্ত্বীয় আলোচনা লিখে প্রকাশ করার সময় প্রায় সকলেই একটি সাধারণ সমস্যার সম্মুখীন হন যার নাম Plagiarism। ভাল বাংলায় বলতে গেলে ”রচনাচুরি”।

একজনের প্রকাশিত কোন লেখাকে হুবহু বা আংশিক পরিবর্তন বা প্রায় অপরিবর্তিত রেখে অন্যজনের নামে প্রকাশ করাকে Plagiarism বলে। এরকম রচনাচুরি দমন বা প্রতিরোধ করতে বিশ্বে Plagiarism দমনের যত বিখ্যাত Tools রয়েছে (যেমন: Duplichecker, Turnitin প্রভৃতি) সেগুলো Plagiarism রিপোর্ট তৈরি করার আগে সাধারণত ১০ ধরণের Plagiarism চেক করে থাকে।

আমার এই লেখায় আমি এমন ১০ ধরণের Plagiarism এর কথা বলেছি যা প্রত্যেক শিক্ষাবিদ এবং গবেষকদের জানা উচিত এবং একইসাথে নিজের লেখা প্রকাশ করার সময় তা বর্জন করা উচিত। লেখাটির শেষ অংশে এই ধরণের Plagiarism কিভাবে বর্জন করা যায় তাও উল্লেখ করা হয়েছে।

১. ক্লোনিং Plagiarism

ক্লোনিং Plagiarism মানে হল একজন লেখক অন্য আরেকজনের লেখাকে কোন প্রকার পরিবর্তন না করে হুবহু লিখে প্রকাশ করেন এবং এটা তার নিজের লেখা বলে দাবী করেন। যার ফলে অনেকেই ক্লোনিং Plagiarism কে সবচেয়ে কম কষ্টের এবং সবচেয়ে বেশি লজ্জার বলে অভিহিত করেন।

২. রিমিক্স Plagiarism

রিমিক্স Plagiarism রচনাচুরির সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে একজন লেখক বিভিন্ন উৎস থেকে বিভিন্ন লেখা সংগ্রহ করেন এবং সে সবগুলোকে একসাথে মিশ্রিত করে একটি সিংগেল ডকুমেন্ট তৈরি করেন। এই রকম লেখাকেও তারা নিজের লেখা বলে চালিয়ে দেন।

৩. “Ctrl+C” Plagiarism

লেখক যে লেখাটা লিখতে চান সেটার কোন একটা নির্দিষ্ট অংশ অন্য কোন সিংগেল উৎস থেকে সরাসরি কপি করেন এবং কোন রকম পরিবর্তন ছাড়াই এটা তার লেখায় প্রবেশ করিয়ে দেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে – এরকম লেখাও যে Plagiarism এর অন্তর্ভুক্ত, অনেকে এটা জানেনই না।

৪. হাইব্রিড Plagiarism

আগে প্রকাশিত কোন লেখা থেকে কোন তথ্য সংগ্রহ করতে চাইলে উপযুক্ত Citation (উদ্ধৃতি) দেয়া প্রয়োজন। অনেক সময়ই দেখা যায়, উপযুক্ত উদ্ধৃতি দেয়া আছে এমন বিভিন্ন উৎস থেকে একজন লেখক কোন লেখাকে হুবহু কপি করেন এবং তার লেখায় এইসব লেখাগুলোকে পুনর্বিন্যাস করে প্রবেশ করান। এই ধরণের Plagiarism কে হাইব্রিড Plagiarism বলা হয়।

৫. ফাইন্ড-রিপ্লেস Plagiarism

বিভিন্ন উৎস থেকে লেখা সংগ্রহ করার সময় প্রায়ই একজন লেখক লেখাগুলোতে যেগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ শব্দ থাকে  (যেমন: Keywords, Phrases ইত্যাদি) তাদেরকে খুঁজে খুঁজে বের করে তাদেরকে পরিবর্তন করে নিজের লেখায় নতুন নামে প্রবেশ করান। এই ধরণের Plagiarism গুলো ফাইন্ড-রিপ্লেস Plagiarism এর মধ্যে পরে।

৬. রিসাইকেল Plagiarism

রিসাইকেল Plagiarism কে Self-Plagiarism ও বলা চলে। লেখক যখন তার নিজেরই অন্য একটি প্রকাশিত লেখা থেকে উপযুক্ত উদ্ধৃতি ছাড়া হুবহু কপি করে নতুন লেখায় সংযোজন করেন, তখন এই ধরণের Plagiarism কে রিসাইকেল Plagiarism বলা হয়।

৭. ম্যাশআপ Plagiarism

ম্যাশআপ Plagiarism বলতে সাধারণত বুঝায় যখন একটি লেখা লেখার সময় বিভিন্ন ধরণের উৎস থেকে লেখা যোগাড় করা হয় এবং কোন রকম উদ্ধৃতি ছাড়াই এদেরকে একত্রে মিশ্রিত করে লেখাটি সম্পূর্ণ করা হয়। এটিও রচনাচুরির একটি বহুল ব্যবহৃত এবং প্রচলিত পদ্ধতি।

৮. 8. “404 Error” Plagiarism

একজন লেখক সাধারণত বিভিন্ন উৎস থেকে লেখা সংগ্রহ করেন এবং পর্যাপ্ত উদ্ধৃতি দিয়ে একটি লেখা প্রস্তুত করেন। কিন্তু যখন লেখক প্রদত্ত উদ্ধৃতিগুলো ভুল হয় বা যেটার আসলে কোন অস্তিত্ত্বই নেই – এই ধরণের Plagiarism গুলো 404 Error Plagiarism এর মধ্যে পরে।

৯. একীভূতকরণ Plagiarism

মাঝে মাঝে দেখা যায় একজন লেখক যে লেখাটি লিখছেন তাতে সকল উদ্ধৃতি সঠিকভাবে প্রদান করেছেন কিন্তু তাতে লেখক যে মূল কাজটি প্রকাশ করতে চেয়েছেন শুধু সেটা অনুপস্থিত থাকে। এমন লেখাগুলোকে একীভূতকরণ Plagiarism এর আওতাভুক্ত বলা চলে।

10. Re-Tweet Plagiarism

যদি কোন লেখায় সবকিছু ঠিকভাবে উদ্ধৃত করা থাকে কিন্তু লেখার মধ্যে অন্য কোন প্রকাশিত লেখার কিছু অংশ বা কিছু শব্দ হুবহু থাকে, তখন এই ধরণের রচনাচুরিকে Re-Tweet Plagiarism এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

রচনাচুরি কিভাবে বর্জন করা সম্ভব?

১. কোন লেখাকে নিজের লেখায় প্রবেশ করানোর আগে প্রকাশিত লেখাটি ভাল করে বারবার পড়তে হবে এবং এর খুঁটিনাটি বিষয় খুব ভালভাবে বুঝতে হবে।

২. প্রকাশিত লেখা থেকে কোন শব্দ বা বাক্য হুবহু লেখা বা কপি করা যাবে না।

৩. যে সকল উৎস থেকে লেখা সংগ্রহ করা হয়েছে  (যেমন: বই, জার্নাল, ওয়েবসাইট, ভিডিও ইত্যাদি) তাদের নাম সঠিকভাবে উদ্ধৃত করতে হবে।

৪. যে লেখাগুলো অন-লাইনে প্রকাশিত অবস্থায় আছে, তাদেরকে কবে পড়া হয়েছে তার তারিখ উল্লেখ করতে হবে এবং Reference এ সঠিক URL এড্রেস দিতে হবে।

৫. যেগুলো সাধারণত খুব গুরুত্বপূর্ণ শব্দ (যেমন: Keywords, Phrases ইত্যাদি) সেগুলোকে কোন রকম পরিবর্তন ছাড়া সঠিক উদ্ধৃতির মাধ্যমে উল্লেখ করতে হবে।

৬. যখনই কোন একাডেমিক লেখা লিখার প্রয়োজন হবে, লেখা চলাকালীনই Reference অংশটি লিখে ফেলার অভ্যাস করতে হবে।

৭. লেখা সম্পন্ন হয়ে গেলে জমা দেয়ার আগে আবার ভালমতো চেক করে নিতে হবে। এই পদ্ধতিকে সাধারণত Cross-Verification বলা হয়।

৮. পরিশেষে, বিশ্বের যত নামকরা Plagiarism Software রয়েছে, সেগুলোতে লেখা প্রবেশ করিয়ে লেখাটি প্রকৃতপক্ষে মূল লেখা কিনা তা যাচাই করে নিতে হবে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সিএসই বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

E-mail: solaimanducse@yahoo.com

কালের আলো/ওএইচ

Print Friendly, PDF & Email