বক্তৃতা-বিবৃতিতে মুক্তি মেলে না, আন্দোলনের পরামর্শ বিএনপিনেতাদের

প্রকাশিতঃ 8:42 pm | June 29, 2024

কালের আলো রিপোর্ট:

বিএনপি নেতারা মনে করেন, তাদের দলের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে ‘বক্তৃতা-বিবৃতিতে’ হবে না, আন্দোলন করতে হবে।

শনিবার (২৯ জুন) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দলের সিনিয়র নেতাদের বক্তব্যে এমন মত উঠে আসে।

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছি বহু দিন ধরে। কিন্তু তিনি এখনও কারাগারে। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি জামিন পান না। জামিন পান খুন ও মৃত্যুদণ্ডের আসামি। কোনও কারণ ছাড়াই শেখ হাসিনাকে খুশি করার জন্য খালেদা জিয়ার জামিন দিচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘বক্তৃতা-বিবৃতিতে মুক্তি মেলে না, দেশ নেত্রীকে মুক্ত করতে হলে আন্দোলন লাগবে। বক্তৃতায় দেশ স্বাধীন হয়নি, যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করতে হয়েছে। ইতিহাসের দিকে তাকান- আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ২৭ মার্চ স্বাধীনতার আহ্বান জানান, এরপর তার বাসভবনের সৈনিকদের ম্যাডাম বলেছিলেন, তোমরা অস্ত্র সমর্পণ করবে না, জিয়াউর রহমান ফিরে না আসা পর্যন্ত। সেদিন শেখ হাসিনা কী করেছিলেন? তিনি তো পাকিস্তানিদের সহযোগিতা নিয়ে ভালো ছিলেন।’

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারলে দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন গয়েশ্বর।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘কী অভিযোগে খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হলো? খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ তিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা, তিনি দেশের জনগণের পক্ষে কথা বলেন। চিকিৎসা একটি মানবিক অধিকার। একজন নেত্রী মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তার সুস্থতা শুধুমাত্র তার জন্য নয়; দেশ ও দেশের মানুষের জন্য প্রয়োজন। ’

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘যেখানে অন্যায় আইনে পরিণত হয়, যেখানে আইনের শাসন নেই, মানবাধিকার নেই, জীবনের নিরাপত্তা নেই সেখানে প্রতিরোধ কর্তব্য হয়ে যায়, অনিবার্য হয়ে যায়। পুলিশের হেফাজত ও বিনা চিকিৎসায় যে দেশে মৃত্যুবরণ করতে হয়, সে দেশে প্রতিবাদ করে বের হওয়া যাবে না।’ এজন্য নেতাকর্মীদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়ে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন, সবই দেশবিরোধী, আমরা এতে উদ্বিগ্ন। আমরা ভারতবিরোধী নই; আমরা সবার সাথে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, গণতন্ত্র চাই। এ কথা বলাই তো খালেদা জিয়ার দোষ। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক। এতে কী দাঁড়ায়?’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘কয়দিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন জনগণ থেকে সরে গেলে আমি আর বাঁচবো না। প্রধানমন্ত্রী আপনার দল ও সরকারের আগেই তো রাজনৈতিক অপমৃত্যু হয়েছে। র‌্যাব-পুলিশ যদি আপনার কাছ থেকে সরে যায় তাহলে আপনার সরকারের অপমৃত্যু ঘটবে। আপনার সরকার রাজপথে লুটোপুটি খাবে। আপনার সরকারের পতন ঘটবে।’

বিএনপি সিনিয়র এ নেতা আরও বলেন, কয়েকদিন আগে শেখ হাসিনা ভারত সফরে গিয়েছিলেন। পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ম্যানেজ করতে বিমানে কয়েক কার্টুন ইলিশ নিয়ে গেছেন কিন্তু ম্যানেজ করতে পারেননি। উল্টো ১০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ছেন। ৭ জানুয়ারি ও ৩০ ডিসেম্বরের আগের নির্বাচন জায়েজ করতে তিনি এসব দেশবিরোধী চুক্তি করেছেন।’

কালের আলো/ডিএইচ/কেএ 

Print Friendly, PDF & Email