৩৮ বছরেও আনুগত্য, সততা ও বিশ্বস্ততার দৃষ্টান্ত এসএসএফ

প্রকাশিতঃ 10:22 pm | June 26, 2024

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

আনুগত্য, সততা ও বিশ্বস্ততার ৩৮ বছর। একেকটি ক্ষণ হিরণ্ময়। ঐতিহাসিক এক মাইলফলক। নতুন আলো ছড়িয়ে নতুন দিনের আবাহন। মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায় নতুন স্নিগ্ধ আলোয় স্নাত হয়ে সামনের দিনগুলোতেও একরাশ স্বপ্ন। অতীতের ধারাবাহিকতায় এই স্বপ্ন কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মোহনায় আরও কঠিন সব চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ হওয়ার। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, জাতির পিতার পরিবারের সদস্য, আমন্ত্রিত বিদেশী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থেকে বিশেষায়িত বাহিনী স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) নতুন আশার মালা গেঁথে স্বপ্নময় অভিযাত্রায় পা রেখেছে গৌরবময় ৩৯ বছরে। দেশপ্রেমী সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চৌকস সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংস্থাটি এখন অত্যাধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও উচ্চ প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত।

নতুন আশার মালা গেঁথে স্বপ্নময় অভিযাত্রা

  • এই নিরাপত্তা বাহিনীটির সদস্যদের নিজের সন্তানের মতোই স্নেহ করেন প্রধানমন্ত্রী
  • এসএসএফ সদস্যদের সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা
  • যুগোপযোগী নিরাপত্তা বাহিনীতে রূপান্তরিত এসএসএফ, তথ্যচিত্রে মুগ্ধ সরকারপ্রধান

বুধবার (২৬ জুন) উদযাপিত হয়েছে আধুনিক ও সুসজ্জিত এই নিরাপত্তা বাহিনীটির ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এদিন সকালে নিজ কার্যালয়ে (পিএমও) শাপলা হলে আয়োজিত দরবারে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরেই অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন বাহিনীটির সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের। বঙ্গবন্ধুকন্যা নিজেও গর্ববোধ করেন এই বাহিনীর পারদর্শিতা দেখে। প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ এর সকল সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া আশীর্বাদ জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও পেশাগত মান বিচারে এই বাহিনী হয়ে উঠুক একটি আদর্শ নিরাপত্তা বাহিনী।’

অনুষ্ঠান মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও এসএসএফ মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম নাজমুল হাসান। এসএসএফ মহাপরিচালক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যও রাখেন।

প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় আশাবাদ

  • শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও পেশাগত মান বিচারে এসএসএফ হয়ে উঠুক একটি আদর্শ নিরাপত্তা বাহিনী
  • সততা ও মানবিক গুণাবলী নিয়েই নিজেদেরকে তৈরি করে পালন করতে হবে অর্পিত দায়িত্ব
  • জনবিচ্ছিন্ন যেন না হয়ে পড়েন সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহবান

এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম ও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল একেএম আমিনুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসএসএফ সদস্যদের জন্য ‘দোয়া’ করেন প্রধানমন্ত্রী, আদর করেন সন্তানের মতোই
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরসহ সবার নিরাপত্তায় কাজ করে যাওয়ায় তাদের জন্য নামাজ পড়ে সব সময় ‘দোয়া’ করেন টানা চারবারসহ পঞ্চমবার নির্বাচিত সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। তিনি এই নিরাপত্তা বাহিনীটির সদস্যদের নিজের সন্তানের মতোই আদর, স্নেহ করেন। গুলি, বোমা, গ্রেনেড হামলার শিকার হয়ে বার বার বেঁচে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকছেন তাদের জীবনও ঝুঁকিতে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে হয়তো একটা কাজ দিয়ে পাঠিয়েছেন ততক্ষণ আমি বেঁচে থাকবো। কিন্তু, আমার সঙ্গে যারা কাজ করে এবং যারা আমার নিরাপত্তায় নিয়োজিত তাদের জন্য আমি চিন্তায় থাকি। কারণ, যতবার আমার ওপর আক্রমণ হয়েছে প্রতিবারই আমার কিছু না কিছু নেতা-কর্মীকে জীবন দিতে হয়েছে। তারা ‘মানববর্ম’ রচনা করে আমাকে গ্রেনেড হামলা থেকে রক্ষা করেছেন। কাজেই এসএসএফ যেহেতু আমার সবচেয়ে কাছে থাকে, আমি সবসময় তাদেরকে নিয়ে আমি চিন্তিত। কাজেই আমি যখন নামাজ পড়ি তখন পরিবারের সদস্য, দেশবাসী এবং আমার আশপাশে যারা থাকেন এবং নিরাপত্তায় এসএসএফসহ যারা নিয়োজিত থাকেন তাদের জন্যও দোয়া করি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে যেসব বিদেশি অতিথি আসেন, তারা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ভূয়সী প্রশংসা করেন। আমি এসএসএফ’র সবাইকে বলবো যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানে সবসময় পেশাগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রত্যেকেই দৃঢ়তা, উন্নত শৃঙ্খলা, সততা, দায়িত্বশীলতা এবং মানবিক গুণাবলী নিয়েই নিজেদেরকে তৈরি করে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। যেটা তারা করে যাচ্ছেন তারপরও আমি সবসময় এই কথাগুলো তাদের মাথায় রাখার আহবান জানাই। কারণ, নিজের ভেতর যদি দৃঢ়তা না থাকে, সততা না থাকে এবং নিরলসভাবে দায়িত্ব পালনের সেই কর্তব্যনিষ্ঠা না থাকে তাহলে সফলতা পাওয়া যায় না।’

এসএসএফ’র উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর অবদান
প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (পিএসএফ) হিসেবে ১৯৮৬ সালে যাত্রা শুরু করে এই বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট, এখন কালের বিবর্তনে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) হিসেবে পরিচিত। রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং ভিভিআইপি বিদেশি সম্মানিত অতিথিদের নিরাপত্তার দায়িত্ব দিয়ে নামকরণ হওয়া এসএসএফ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়েই নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এসএসএফ’র জন্য যা যা করণীয় তাঁর সরকার করবে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে সরকারে আসার পরই আমরা তাঁদের (এসএসএফ) তেজগাঁওয়ে স্যুটিং প্র্যাকটিসের জন্য জায়গা করে দিয়েছি। এখন আধুনিক ও উন্নতমানের সুটিং রেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। তাদের অফিসার্স মেস থেকে শুরু করে সবকিছুই কিন্তু ধীরে ধীরে আমার হাতে গড়া।’

লোকবলও তিনিই বৃদ্ধি করেছেন জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘গাড়ি থেকে শুরু করে আধুনিক সরঞ্জামাদি যা যা দরকার সবই কিন্তু আমরা ব্যবস্থা করে দিয়েছি। শুধু এসএসএফ নয় সকল প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নেই আমার সরকার কাজ করেছে। এমনকী শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষায় যা যা দরকার তার ব্যবস্থা ও করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এসএসএফ এমন একটি সংগঠন যেখানে আমাদের সব বাহিনীরই প্রতিনিধি রয়েছে। পুলিশ ও অনসার বাহিনী থেকে শুরু করে নৌ-বিমান ও সেনাসহ সব বাহিনীর সমন্বয়ে এই বাহিনী গঠিত। একই সাথে কাজ করার এটাও একটা অভিজ্ঞতা। যে অভিজ্ঞতা আমি মনে করি আগামী দিনেও আমাদের দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের যে অভিযানের সাফল্য সেটাও ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন যারা কাজ করতে আসেন তাদের মধ্যে এই অভিজ্ঞতা সঞ্চারিত হয় এবং আমি দেখেছি অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে প্রত্যেকেই স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে আমি মারা যাব
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে মারা যাব। কাজেই তিনি যেন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে না হয়ে পড়েন সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) এর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে কিন্তু আমাকে আর গুলি বোমা লাগবে না, এমনিতেই শেষ হয়ে যাব। কাজেই এরাই আমার প্রাণ শক্তি। এটুকু মনে রাখতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, একটি বিষয় আমি নিশ্চই বলবো, আমরা রাজনীতি করি। আমার আর কোন শক্তি নেই। শক্তি একমাত্র জনগণ। সেই জনগণের শক্তি নিয়েই আমি চলি। কাজেই জনবিচ্ছিন্ন যাতে না হয়ে যাই, আমি জানি এটা কঠিন দায়িত্ব। তারপরেও এই দিকেও নজর রাখতে হবে যে এই মানুষগুলোর জন্যইতো রাজনীতি করি। মানুষদের নিয়েই তো পথ চলা। আর যাদেরকে নিয়েই দেশের মানুষের কাজ করি তাদের থেকে যেন কোনমতে বিচ্ছিন্ন হয়ে না যাই।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, এটা সবসময়ই এসএসএফ’র সদস্যদের তিনি বলেন এবং মাঝে মধ্যে রাগও করেন। কাজেই এই বিষয়গুলো একটু সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখা দরকার। কারণ, তিনি যখন সরকারে ছিলেন না এই দেশের মানুষ এবং দলীয় লোক, তারাই তাঁর পাশে ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি এই সময় এক দরিদ্র রিক্সাওয়ালার উপার্জনের সামান্য জমানো অর্থে তাঁদের দু’বোনের ঢাকায় যেহেতু কোন বাড়ি নেই এবং ধানমন্ডীর বাড়িটিও তাঁরা দান করেছেন সেজন্য তাঁর নামে একটি জমি কেনার এবং তাঁর কাছে হস্তান্তর করতে চাওয়ার একটি ঘটনার উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকবার তাকে নিষেধ করা সত্ত্বেও সে শোনে নাই। সেই রিক্সাওয়ালার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সেই দলিলটা তাঁর কাছে হস্তান্তর করতে চাইলে তিনি নিজে সেখানে গিয়ে তাদের বাড়ি তৈরি করে তার স্ত্রীর হাতে দলিল দিয়ে বলেন, এটা মনে করবেন আমারই বাড়ি, এখন আপনারা থাকবেন। অন্যদিকে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়ার জন্য দুইটি বাড়ি, গাড়ি, ক্যাশ টাকা অনেক কিছু রেখে যান।

জাতির পিতার কন্যা বলেন, ‘এই সাধারণ মানুষগুলোর জন্যই আমার রাজনীতি, এদের ভাগ্যের পরিবতন ও জীবনমান উন্নত করাই আমার লক্ষ্য। তাই এইসব মানুষগুলোর কাছ থেকে আমি বিচ্ছিন্ন হতে পারি না। কারণ, এরাই আমার চলার সব শক্তি জোগায়। এটা সকলকে মনে রাখার জন্য আমি অনুরোধ করছি।’

বাঙালি জাতি যাতে বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, তাঁর সরকারের বেকারত্বের হার ৩ ভাগে নামিয়ে আনা, স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রাম-গঞ্জে হাতের নাগালে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া, সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের নিম্নস্তরের মানুষ ও হতদরিদ্রদের সাহায্য প্রদান, গৃহহীণ-ভূমিহীন মানুষকে বিনামূল্যে ঘর-বাড়ি প্রদানসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে হত দারিদ্রের হার ২৫ দশমিক ৫ ভাগ থেকে ৫ দশমিক ৬ ভাগে এবং দারিদ্রের হার ৪১ ভাগের বেশি থেকে ১৮ দশমিক ৭ ভাগে নামিয়ে আনার সাফল্য তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্রের হার ভবিষ্যতে আরো কমিয়ে আনার এবং অতিদারিদ্র একেবারে শূণ্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। ইতোমধ্যে কোভিড-১৯ মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা না এলে তাঁর সরকারের প্রচেষ্টায় দারিদ্রের হার আরো কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। তাঁর সরকারের আমলে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার উল্লেখ করে তিনি বলেন, যতক্ষণ আমার নিশ্বাস আছে আমার এটাই চেষ্টা যে বাংলাদেশের মানুষের জীবনকে যেন আরও উন্নত সমৃদ্ধ করে যেতে পারি। বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে আমাদেরকেও সেভাবেই চলতে হবে।

তাঁর সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আরো এগিয়ে যাবার জন্য ‘২০২১ থেকে ২০৪১’ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ব-দ্বীপকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে ‘ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশে বর্তমানে যে পরিবর্তন হয়েছে সেই পরিবর্তনের ধারা বজায় রেখেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

যুগোপযোগী নিরাপত্তা বাহিনীতে রূপান্তরিত এসএসএফ, তথ্যচিত্রে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এসএসএফ মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম নাজমুল হাসান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় এই নিরাপত্তা বাহিনীটি বর্তমান বিশ্বে একটি অত্যাধুনিক, শক্তিশালী ও যুগোপযোগী নিরাপত্তা বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফকে দক্ষ করে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা, দক্ষতা ও সুদূরপ্রসারি চিন্তা-চেতনার ফলেই বাংলাদেশে সব দিক থেকে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে বলেও মনে করেন ডিজি।

এসএসএফ মহাপরিচালক এ কে এম নাজমুল হাসান সব সময় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে পাশে থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ মেসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘শেখ হাসিনা : আমাদের বটবৃক্ষ, আমাদের আশ্রয়’ শীর্ষক তথ্যচিত্র অবলোকন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম, এসএসএফ মহাপরিচালক এ কে এম নাজমুল হাসান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মো.জাহাংগীর আলম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.আশরাফ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email