আইডিয়ালের ছাত্রী ধর্ষণ মামলা: পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে তিশার বাবার নারাজি আবেদন

প্রকাশিতঃ 6:24 pm | June 13, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে গুলশান থানায় করা মামলায় রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক দাতা সদস্য খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও কলেজের অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদীকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশের বিষয়ে বাদী সাইফুল ইসলামের পক্ষ থেকে পুনরায় নারাজি আবেদন দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে অধিকতর শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক শওকত আলীর আদালত মামলাটি আদেশের জন্য অপেক্ষমান রেখেছেন।

খন্দকার মোশতাক আহমেদের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার এ সব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “আজ পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে অধিকতর শুনানি করে আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছি। বাদী সাইফুল ইসলাম পুনরায় নারাজি দরখাস্ত দিয়েছেন। যেখানে মূল ভিকটিম সিনথিয়া ইসলাম তিশা নিজে আদালতে বলেছেন তিনি স্বেচ্ছায় খন্দকার মোশতাক আহমেদকে বিয়ে করেছেন এবং কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। ধর্ষণের ঘটনার কোনো মেডিকেল রিপোর্ট কিংবা সাক্ষ্য প্রমাণাদিও নেই। সেখানে বাদী বার বার আদালতে নারাজি দরখাস্ত দিয়ে আসামিদেরকে হয়রানি করছেন।”

গত ১৪ মার্চ মামলাটিতে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সিনথিয়া ইসলাম তিশার বাবা সাইফুল ইসলামের নারাজি আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন নারাজির আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। ২ জুন পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনেও খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও ফাওজিয়া রাশেদীর বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। সেদিনও মামলার বাদী নারাজি দরখাস্ত দেওয়া হবে বলে আদালতে আবেদন করেন।

গত বছরে ১ আগস্ট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন তিশার বাবা। আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রেকর্ড করার আদেশ দেন।

মামলায় মোশতাকের সঙ্গে আসামি করা হয় ফাওজিয়া রাশেদীকে। পরে মামলা দায়েরে তথ্যগত ভুল হয়েছে উল্লেখ করে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা। গত ৩ মার্চ পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করেন মামলার বাদী।

কালের আলো/ডিএইচ/কেএ 

Print Friendly, PDF & Email