৬ বছরে ঈদ যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৬৭৪, আহত ৪৭৬৫

প্রকাশিতঃ 6:25 pm | April 24, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

চলতি বছরের ঈদ যাত্রার আগে ও পরে মোট ১৫ দিনে দেশজুড়ে ৩৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬৭ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি। এ নিয়ে বিগত ৬ বছরে ঈদ যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৬৭৪ জন ও আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৭৬৫ জন।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর ধানমন্ডিতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে আয়োজিত “ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ ও পর্যালোচনা” বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য তুলে ধরেন।

বিগত ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৬ বছরে ঈদের আগে ও পরে মিলিয়ে মোট ৮৩ দিনের তথ্য তুলে ধরে মাহবুব উদ্দিন আহমেদ জানান, ২০১৯ সালে ১৪ দিনে ঈদ যাত্রায় ১৪৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৯৪ জন ও আহত হয়েছেন ৪০২ জন। ২০২০ সালে ১২ দিনে ঈদ যাত্রায় ১২৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪৭ জন ও আহত হয়েছেন ৩১৮ জন। ২০২১ সালে ১৪ দিনে ঈদ যাত্রায় ২৩৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩১৪ জন ও আহত হয়েছেন ২৯১ জন। ২০২২ সালে ১৪ দিনে ঈদ যাত্রায় ২৮৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৭৬ জন ও আহত হয়েছেন ১ হাজার ৮০০ জন।

এছাড়া ২০২৩ সালে ১৪ দিনে ঈদ যাত্রায় ২৪০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৮৫ জন ও আহত হয়েছেন ৪৫৪ জন।

সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের তথ্য তুলে ধরে মাহবুব উদ্দিন আহমেদ জানান, চলতি বছরের ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১৫ দিনে (৪ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল) দেশে ৩৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি। এরমধ্যে শুধু ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালেই (পঙ্গু হাসপাতালে) ঈদের তিন দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৪৫৪ জন (যদিও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংখ্যা ৪৯৩ জন), যার অধিকাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্ত। এই বাস্তবতায় ১৫ দিনে সারা দেশের হাসপাতালে আহত মানুষের সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি হবে।

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬৭ জন নিহতের মধ্যে নারী ৬৩, শিশু ৭৪। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ১৮৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫৬ জন, যা মোট নিহতের ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৫১ দশমিক ১১ শতাংশ। দুর্ঘটনায় পথচারী নিহত হয়েছেন ৬৮ জন, যা মোট নিহতের ১৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪১ জন, অর্থাৎ ১১ দশমিক ১৭ শতাংশ।

একই সময়ে ৩টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৮ আহত হয়েছেন। ১৪টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায় মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৫৬ জন, বাস যাত্রী ১৮ জন, ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-ট্রাক্টর আরোহী ২৬ জন, প্রাইভেটকার- মাইক্রোবাস-পাজেরো জীপ আরোহী ২৮ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা- অটোভ্যান) ৫৮ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-মাহিন্দ্র) ৯ জন এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা আরোহী ৪ জন নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যানের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৯ দশমিক ০৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩০ দশমিক ৭৯ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ, প্রাণহানি ১১ দশমিক ৭১শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৪ দশমিক ৫২ শতাংশ, প্রাণহানি ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ, প্রাণহানি ৯ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ১০ দশমিক ০৫ শতাংশ, প্রাণহানি ১২ দশমিম ২৬ শতাংশ, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ, প্রাণহানি ৬ শতাংশ, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ, প্রাণহানি ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ, প্রাণহানি ১০ দশমিক ০৮ শতাংশ ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১০৪ টি দুর্ঘটনায় ১১৩ জন নিহত এবং সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৩টি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত।

এবার ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি উভয়ই বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত বছরে ঈদুল ফিতরে ২৪০টি দুর্ঘটনায় ২৮৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। প্রতিদিন গড়ে ১৭ দশমিক ১৪টি দুর্ঘটনায় ২০ দশমিক ৩৫ জন নিহত হয়েছিল। আর এই বছরে ঈদযাত্রায় প্রতিদিন গড়ে ২৩ দশমিক ৮৬টি দুর্ঘটনায় ২৪ দশমিক ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। এই হিসাবে এবছর দুর্ঘটনা বেড়েছে ৩৯ দশমিক ২০ শতাংশ এবং প্রাণহানি বেড়েছে ২০ দশমিক ১৯ শতাংশ।

৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

কালেরআলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email