দেশের সমৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিকায়নের পথে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

প্রকাশিতঃ 7:16 pm | November 17, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

দেশের সমৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সক্ষমতায়ও অন্য দেশের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দিন দিন বাড়ানো হচ্ছে সক্ষমতা। এ জন্য প্রশিক্ষণে জোর দেয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) রামু সেনানিবাসে ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ্যাসল্ট কোর্স প্রতিযোগিতা ২০২২’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন।

ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, কার্যকর প্রশিক্ষণই সৈনিকের সর্বোত্তম কল্যাণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্যের চাবিকাঠি। এ্যাসল্ট কোর্স বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট হিসেবে পরিগণিত হয়।

তিনি আরও বলেন. যত আধুনিক অস্ত্র আমরা কিনি না কেন, যত ডিজিটালাইজেশন করি না কেন, যারা এটা পরিচালনা করবে তারা যদি সুদক্ষ না হয় তাহলে সমস্ত কিছু ব্যর্থ হবে। এজন্য দরকার কঠোর প্রশিক্ষণ। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রশিক্ষণই সর্বোত্তম কল্যাণ। এই মূল মন্ত্র ধারণ করে সেনাবাহিনী এগোচ্ছে।

সেনাপ্রধান আরও বলেন, যতগুলো প্রশিক্ষণ সেনাবাহিনী করে, তার মধ্যে অ্যাসল্ট প্রশিক্ষণটা খুবই কঠিন ও কাছাকাছি যুদ্ধের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। রণকৌশলে শারীরিক যে কসরত দরকার হয়, সেসব অ্যাসল্ট প্রশিক্ষণে আছে। দুবছর করোনার জন্য বন্ধ থাকার পরও এবার প্রশিক্ষণে দেখলাম আগের যে গড় সময় ছিল তার চেয়ে সময় কমেছে। তার মানে হল, আগের চেয়ে সেনাবাহিনী অনেক বেশি দক্ষতা অর্জন করেছে।

সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতিসংঘে এক নম্বর শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। অনেক ত্যাগ, পরিশ্রম ও দক্ষতা দিয়ে অর্জিত এ কৃতিত্ব ধরে রাখতে কাজ করে যাওয়ার আহ্বানও জানান সেনাপ্রধান।

জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, এছাড়াও প্রশিক্ষণে মনোযোগ দেয়ার পাশাপাশি মূল দায়িত্ব মাতৃভূমিকে বহিঃশত্রু আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হবে। এ জন্য সেনাবাহিনীকে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। যে কোনো প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা থাকতে হবে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতিযোগিতায় ১০ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং ৬ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেড রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এছাড়াও প্রতিযোগিতায় বিশেষ পারদর্শিতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ১০ পদাতিক ডিভিশনের সৈনিক তপু মোল্লা এবং সৈনিক গোলাম রাব্বানী যথাক্রমে ১ম ও ২য় শ্রেষ্ঠ প্রতিযোগী হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মোঃ মোশফেকুর রহমান, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ১০ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার কক্সবাজার এরিয়া মেজর জেনারেল মোঃ ফখরুল আহসান, ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল মুহাম্মদ জুবায়ের সালেহীনসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কক্সবাজার এরিয়ার সকল অফিসার, জেসিও এবং অন্যান্য পদবীর সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email