দায়মুক্তির দিন

প্রকাশিতঃ 10:37 am | November 12, 2022

এমএম নাজমুল হাসান :

দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বা ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি ঘৃণিত অধ্যায়। যা শুধু বিবেকের পক্ষঘাতগ্রস্ততা নয়, আইনের অপব্যবহারের শামিল। সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন আইন-প্রথা চালু করেছে মানব সভ্যতা। কিন্তু আইন করে কোন সংগঠিত অপরাধের বিচারের পথ বন্ধ করার মত ন্যক্কারজনক কাজটি করা একমাত্র দেশ বাংলাদেশ। আর সেই আইনটি হল দায়মুক্তি অধ্যাদেশ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরে সংবিধান লঙ্ঘন করে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ। ২০ আগস্ট মার্শাল ল জারি করা হলেও সেসময় সংবিধান ছিল বলবৎ যা দ্বিমুখী নীতির শামিল। এরপর ২৫ আগস্ট ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাফ জিয়াউর রহমানকে চিফ অব আর্মি নিযুক্ত করা হয়।

জাতির কলঙ্ক মোচনের জন্য ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি অধ্যাদেশটি বিলোপ করা হয় এবং ঘাতকদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়। নতুবা নুতন প্রজন্মের অগোচরে রয়ে যেত কিভাবে একটি সংঘবদ্ধ হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়েছিল। আজ সেই কলঙ্কিত আইনটি বিলোপ বা রহিত করার দিন; যা জাতি হিসেবে দায়মুক্তির দিন হিসেবে অগ্রগণ্য।

বঙ্গবন্ধু হত্যার খুনিদের বিচারের পথ বন্ধ করতে ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে খন্দকার মোশতাক আহমেদ একটি অধ্যাদেশ জারি করেন। অধ্যাদেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড এবং পরদিন জারি করা সামরিক শাসন ও তাদের সমস্ত কর্মকাণ্ডকে বিচার থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়। যা ১৯৭৫ সালের অধ্যাদেশ ৫০ নামে অভিহিত হয়। ‘দ্য বাংলাদেশ গেজেট, পাবলিশড বাই অথরিটি’লেখা অধ্যাদেশটিতে খন্দকার মোশতাকের স্বাক্ষরের পর তৎকালীন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এইচ রহমানের স্বাক্ষর আছে।

এরপর ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান নিজেকে রাষ্ট্র ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭৬ সালের ২৯ এপ্রিল জিয়া রাষ্ট্রপতি সায়েমের নিকট থেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়ে নেয়। ১৯৭৭ সালের ২২ এপ্রিল জিয়াউর রহমান অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সায়েমকে পদত্যাগে বাধ্য করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষনা করেন। বিচারপতি সায়েম তার ‘At Bangabhaban, Last phase’ গ্রন্থে বিস্তারিত বলেছেন।

সংবিধান ও সেনা আইন লঙ্ঘন করে ১৯৭৭ সালের ৩০ মে হ্যাঁ-না গণভোটের আয়োজন করেন জিয়া। এরপর ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া সামরিক আইনের অধীনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। এসময় জিয়া মানবতাবিরোধী অপরাধী শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে পদদলিত করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশসহ চার বছরে সামরিক আইনের আওতায় সব অধ্যাদেশ,ষোষণাকে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে আইনি বৈধতা দেয়া হয়। আইনটির নাম ছিলো সংবিধান (সংশোধনী) আইন,১৯৭৯। এটি সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ১৮ অনুচ্ছেদে সংযুক্ত হয়েছিল।

পঞ্চম সংশোধনীকে বৈধতা না দিলে জিয়াউর রহমানের আমলে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করা যেত কিন্তু জিয়াউর রহমান তা না করে আইনটি সংসদে পাস করেন। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে অনুমোদন দিয়ে জিয়া প্রমাণ করেছেন তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের রক্ষাকারী এবং হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে অন্যতম। মোশতাক ও জিয়া সরকার খুনিদের বিচার না করে বরং যোগ্যতা না থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে ভিন্ন ভিন্ন কূটনৈতিক পদে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেন।

তাদের মধ্যে-লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিমকে চীনে প্রথম সচিব, লে. কর্নেল আজিজ পাশাকে আর্জেন্টিনায় প্রথম সচিব, মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদকে আলজেরিয়ায় প্রথম সচিব, মেজর বজলুল হুদাকে পাকিস্তানে দ্বিতীয় সচিব, মেজর শাহরিয়ার রশিদকে ইন্দোনেশিয়ায় দ্বিতীয় সচিব, মেজর রাশেদ চৌধুরীকে সৌদি আরবে দ্বিতীয় সচিব, মেজর নূর চৌধুরীকে ইরানে দ্বিতীয় সচিব, মেজর শরিফুল হোসেনকে কুয়েতে দ্বিতীয় সচিব, কর্নেল কিসমত হাশেমকে আবুধাবিতে তৃতীয় সচিব, লে.খায়রুজ্জামানকে মিসরে তৃতীয় সচিব, লে. নাজমুল হোসেন তৃতীয় সচিব, লে. আবদুল মাজেদকে সেনেগালে তৃতীয় সচিব পদে পদায়ন করেন।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে বিচারপতি আব্দুস সাত্তার, এইচ এম এরশাদ ও জিয়ার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করেননি, বরং তারা দায়মুক্তি আইনের দোহাই দিয়ে খুনিদের দিয়ে রাজনীতি করিয়েছেন। সামরিক জান্তা এরশাদও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাঁচাতে করা ইনডেমনিটি আইন বাতিল না করে বরং নিজের ক্ষমতায় থাকার সুবিধার্থে দ্বিতীয়বার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন, যা ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং সপ্তম সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এরশাদ সরকারের জারিকৃত সকল প্রকার সামরিক আইন, অধ্যাদেশ, বিধি নির্দেশ ইত্যাদি বৈধতাদানের উদ্দেশ্যে এ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। একইভাবে ১৯৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি সরকারও তাদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে। এমনকি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর খুনি লে. কর্নেল খন্দকার আব্দুর রশিদকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার স্থান করে দেয়া হয়। অপর আর এক খুনি কর্নেল ফারুককে ফ্রিডম পার্টির সাথে রাজনীতির মঞ্চে মঞ্চস্থ করা হয়।

তবে প্রকৃতি কখনও কাউকে ক্ষমা করেনা, হয়তোবা একটু সময়ের অপেক্ষা করতে হয়। কখনও সময়টা আসে খুব দ্রুত আবার কখনও বা আসে দীর্ঘসূত্রিতায়। তেমনি জাতির পিতাকে হত্যা করে আইন রুদ্ধ করে রাখতে পেরেছিল ২১ বছর। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ আসন পেয়ে জাতীয় পার্টির সমর্থনে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়।

ক্ষমতায় এসেই সরকার দায়মুক্তি অধ্যাদেশটি বাতিল ও জাতির পিতার হত্যার বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এসময় ‘দি ইনডেমনিটি রিপিল অ্যাক্ট-১৯৯৬’নামে একটি বিল উত্থাপিত হয় জাতীয় সংসদে। ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর সপ্তম জাতীয় সংসদের অধিবেশনে খন্দকার মোশতাক কর্তৃক ১৯৭৫ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর জারি করা দায়মুক্তি অধ্যাদেশ ও জিয়া কর্তৃক ১৯৭৯ সালে ৯ এপ্রিল সংসদে বৈধতা দেওয়া কুখ্যাত দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বাতিল করে আইন পাস করা হয়।

১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হয়। খুলে যায় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের রুদ্ধ পথ। এ আইনটি পাসের বিরোধিতা করে বিএনপি-জামায়াত হরতাল ডাকে এবং বিএনপি সংসদে অনুপস্থিত থাকে। এতে প্রতীয়মান হয় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপিও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধী ও পঁচাত্তরের খুনিদের বাঁচাতে তৎপর।

১৯৯৬ সালের দুই অক্টোবর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) এ এফ এম মহিতুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের মাধ্যমে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের খুনিদের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলার চার্জশিট দাখিল করে। তদন্তে খন্দকার মোশতাক আহমেদসহ আরও কয়েকজনের নাম থাকলেও তারা মারা যাওয়ায় বিচারিক কার্যক্রম থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়। চার্জশিট দাখিলের পর ১৯৯৭ সালের ১২ মার্চ এই মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে ১৯৯৮ সালের আট নভেম্বর ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসলে উচ্চ আদালতে বিচার প্রক্রিয়া অকার্যকার করে রেখেছিলো। এরপর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করলে ২০০৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারপতি এম রুহুল আমিন এবং এ বি এম খায়রল হক বিভক্ত রায় দেন। বিচারপতি এম রুহুল আমিন ১৫ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অপরদিকে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এরপর মামলার নথি হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চে পাঠানো হলে ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। বাকি তিনজন খালাস পান।

এই মামলার মুত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে তিন আসামি লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি) আগেই গ্রেফতার হন। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি বজলুল হুদাকে ১৯৯৮ সালে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আরেক খুনি লে. কর্নেল এ কে এম মহিউদ্দিনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে আনে। দেশে আসার পর এ কে এম মহিউদ্দিনও আপিল করেন। সেই সময়ে পাঁচ জনের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন উচ্চ আদালত।

এরপর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরে সরকার গঠন করে পঁচাত্তরের খুনিদের বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। ২০০৯ সালে লিভ-টু-আপিলের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আপিল শেষে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আদালত।

২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব) সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), মেজর (অব:) বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমদকে (ল্যান্সার) ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাত আসামির মধ্যে ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদকে ২০২০ সালের ৬ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

সর্বশেষ ২০২০ সালের ১২ এপ্রিল দিবাগত রাতে জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। জাতির পিতার খুনীদের মধ্যে এখনও পলাতক রয়েছেন-খন্দকার আবদুর রশিদ, এ এম রাশেদ চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, এস এইচ এমিবি নূর চৌধুরী ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন খান। পালিয়ে থাকা খুনিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এম রাশেদ চৌধুরী এবং খুনি নূর চৌধুরী রয়েছেন কানাডায়। এম রাশেদ চৌধুরী ও নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে সরকার। অপর তিন খুনির কোনো সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা যায়নি। এরই মাঝে বঙ্গবন্ধুর খুনি আবদুল আজিজ পাশা ২০০১ সালের জুনে জিম্বাবুয়েতে পলাতক অবস্থায় মারা যান।

জাতির কলঙ্ক মোচনের জন্য ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি অধ্যাদেশটি বিলোপ করা হয় এবং ঘাতকদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়। নতুবা নুতন প্রজন্মের অগোচরে রয়ে যেত কিভাবে একটি সংঘবদ্ধ হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়েছিল। আজ সেই কলঙ্কিত আইনটি বিলোপ বা রহিত করার দিন; যা জাতি হিসেবে দায়মুক্তির দিন হিসেবে অগ্রগণ্য।

লেখক: প্রতিবেদক, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।

Print Friendly, PDF & Email