মধ্যপ্রাচ্যে মাদকের রাজধানীতে সৌদি!

প্রকাশিতঃ 2:00 pm | September 05, 2022

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো:

চলতি বছরের এপ্রিলে সৌদি আরবে মাদক-প্ররোচিত একটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিল। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের এক ব্যক্তি রমজান মাসে ইফতারের ঠিক আগে নিজের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তাঁর পরিবারের চার সদস্য নিহত হন।

পুলিশের বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ওই ব্যক্তি শাবু নামে একটি অ্যামফেটামিন মাদকে আসক্ত ছিল।

এদিকে সৌদি আরবের গণমাধ্যম সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছে। দেশটির একজন কলামিস্ট মাদকের চালানকে ‘আমাদের বিরুদ্ধে খোলা যুদ্ধ, অন্য যে কোনো যুদ্ধের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি গুদাম থেকে ৪ কোটি ৭০ লাখ পিস অবৈধ অ্যামফেটামিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। দেশটির মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দাবি, এটি একক অভিযানে ধরা পড়া দেশটির সবচেয়ে বড় অ্যামফেটামিনের চোরাচালান।

এ বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়, সৌদি আরব দিন দিন মধ্যপ্রাচ্যে মাদকের রাজধানীতে পরিণত হচ্ছে এবং অবৈধ মাদকদ্রব্যের প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

রেকর্ড পরিমাণ এসব নিষিদ্ধ ট্যাবলেট বাজেয়াপ্ত করার ঘটনাটি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন-তা হলো, মধ্যপ্রাচ্যের মাদকের রাজধানী হিসেবে সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা, চাহিদা বাড়ায় এবং সিরিয়া ও লেবানন থেকে চোরাচালানকারীদের প্রাথমিক গন্তব্য হয়ে উঠছে।

জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম অফিস (ইউএনওডিসি) এর আগে বলেছিল, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে অ্যামফেটামিন বাজেয়াপ্ত হওয়ার রিপোর্টগুলো প্রধানত ক্যাপ্টাগন বহনকারী ট্যাবলেটগুলোকে উল্লেখ করে।

ক্যাপ্টাগন মূলত সিন্থেটিক স্টিমুল্যান্ট ফেনিথিলাইন ধারণকারী একটি ঔষধি পণ্যের ব্র্যান্ড নাম। যদিও এটি আর বৈধভাবে উৎপাদিত হয় না, ইউরোপিয়ান মনিটরিং সেন্টার ফর ড্রাগস অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডিকশন অনুসারে, ক্যাপ্টাগন নাম বহনকারী নকল ওষুধগুলো নিয়মিত মধ্যপ্রাচ্যে জব্দ করা হয়।

সৌদি আরব এবং আশেপাশের অঞ্চলে ক্যাপ্টাগনের মাদকের আস্তানা সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। এই সপ্তাহের শুরুতে, একটি মার্কিন কোস্ট গার্ড বোট ওমান উপসাগরে একটি মাছ ধরার নৌকা থেকে ৩২০ কেজি অ্যামফেটামিন ট্যাবলেট এবং মিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রায় ৩ হাজার কেজি হাশিশ আটক করেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সৌদি আরব মাদকদ্রব্যের অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য এবং এই অবস্থা দিন দিন কেবল বাড়ছেই।

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email