টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক সোহান, বিশ্রামে মাহমুদউল্লাহ-মুশফিক

প্রকাশিতঃ 9:42 pm | July 22, 2022

স্পোর্টস ডেস্ক, কালের আলো:

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ভরাডুবিতে মাহমুদউল্লাহর অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। লম্বা সময় ধরে নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও হতাশ করেছেন মাহমুদউল্লাহ। তাই তো সদ্য শেষ হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্ব নিয়ে গুঞ্জন ওঠে। এই গুঞ্জনের মধ্যেই জিম্বাবুয়ে সিরিজে অধিনায়ক করা হলো নুরুল হাসান সোহানকে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই সিরিজে থাকছেন না মাহমুদউল্লাহ।

মাহমুদউল্লাহর পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজে সবশেষ সিরিজে না খেলা অভিজ্ঞ মিডল অর্ডার ব‍্যাটসম‍্যান মুশফিকুর রহিমও নেই জিম্বাবুয়ে সফরের টি-টোয়েন্টি দলে।

২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অধিনায়কত্ব শুরু মাহমুদউল্লাহর। এরপর সাকিবের নিষেধাজ্ঞায় স্থায়ীভাবে তার হাতেই ওঠে কুড়ি ওভারের নেতৃত্ব। অধিনায়ক হয়ে এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ দলকে সবচেয়ে বেশি নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ৪৩ ম্যাচ নেতৃত্ব দিয়ে ১৬টি জয়ের পাশাপাশি ২৬টিতে হেরেছেন। পরিত্যক্ত হয়েছে একটি ম্যাচ। জয়ের হিসাবে এই ফরম্যাটে সবচেয়ে সফল অধিনায়কও তিনি। তবু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

সোহানকে নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুক্রবার ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘এই দলটাকে সামলানোর জন্য নুরুল হাসানকে অধিনায়কের দায়িত্ব দিচ্ছি। সেটা আমরা আজ (শুক্রবার) মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে জানিয়ে দিয়েছি। মুশফিকও জানে, সাকিবও জানে। তাদের জায়গায় আমরা নতুন খেলোয়াড় নিতে চেষ্টা করছি। জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য দেখতে চাচ্ছি তাদের ফলাফল, পারফরম্যান্সটা কী হয়। আপনারা বলতে পারেন নতুন ব্র্যান্ডের একটা দল যাচ্ছে জিম্বাবুয়েতে।’

সাকিব আগেই ছুটি নেওয়াতে জিম্বাবুয়ে সফরের দলে নেই। তামিম তো আনুষ্ঠানিক ভাবে টি-টোয়েন্টি ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে ফেলেছেন। এবার মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহকে বিশ্রাম দিয়ে অনেকটা তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গড়া হয়েছে। তরুণ এই দলটিতে প্রথমবার নেতৃত্ব দিতে দেখা যাবে নুরুল হাসান সোহানকে। ঠিক কী কারণে এই উইকেটকিপার ব্যাটারকে নেতৃত্বে আনা? জবাবে জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘ও ঘরোয়া লিগে অধিনায়কত্ব করেছে। সোহানের মধ্যে নেতৃত্বগুণ দেখেছি। তাছাড়া অনেকের সঙ্গে আলাপ আলোচনাও হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্তটা ব্যক্তিগত কিছু না, বোর্ডের সিদ্ধান্ত। বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি। ঘরোয়া লিগে সে প্রমাণিত, পাশাপাশি আগ্রাসীও। দলকে প্রেরণাও দিতে পারে।’

অধিনায়ক হিসেবে ৪৩ ম্যাচের ৪২ ইনিংসে ২৩.০০ গড়ে ১১২.৬৮ স্ট্রাইক রেটে মাহমুদউল্লাহর সংগ্রহ ৭৮২ রান। অধিনায়ক হওয়ার আগেও ৭৫ ম্যাচে ৬৮ ইনিংসে ২৩.৭৯ গড় ও ১২১.৩৬ স্ট্রাইক রেটে তার সংগ্রহ ছিল ১ হাজার ২৬১। অধিনায়ক হওয়ার আগে কিংবা পরে খুব বেশি পার্থক্য নেই তার পারফরম্যান্সে। নতুন দায়িত্ব পাওয়া সোহানের পারফরম্যান্সও খুব ভালো নয়। ৩৩ ম্যাচে ১২.৯০ গড়ে ১১১.৯৮ স্ট্রাইকরেটে রান মাত্র ২৭১! এখন নতুন ক্রিকেটার, নতুন অধিনায়ক নিয়ে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে কতটা সফল হয় সেটাই দেখার বিষয়। জালাল ইউনুস অবশ্য প্রত্যাশার কথাই বলেছেন, ‘টি-টোয়েন্টি দল নিয়ে আমাদের কিছু বিষয় ছিল। ক্রিকেট বোর্ডে কয়েক দিন ধরে আমরা আলাপ–আলোচনা করছি টি-টোয়েন্টি দল নিয়ে। আপনারা জানেন যে, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিকভাবে আমরা উন্নতি করতে পারছি না। যেহেতু সামনে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ আছে, সে কারণে এটা নিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের অনেক চিন্তাভাবনা ছিল।’

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email