রেলওয়ের সামনে ১৮ চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিতঃ 11:45 am | June 22, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

বাংলাদেশ রেলওয়েতে লোকোমোটিভ ও কোচের ব্যাপক স্বল্পতা রয়েছে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে কোচ ও লোকোমোটিভ কেনা প্রয়োজন। এ ছাড়া দেশের বেশির ভাগ স্টেশনে এখন পর্যন্ত পুরোনো সিগন্যালিং সিস্টেম রয়েছে। রেল যোগাযোগে নিরাপত্তা ও গতি বাড়ানোর জন্য আধুনিক সিগন্যালিং সিস্টেম জরুরি।

মঙ্গলবার (২১ জুন) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সেমিনারে এসব কথা বলেছেন বক্তারা। ‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ রেলওয়ে: চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকারসমূহ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ সময় চাহিদার তুলনায় কোচ ও লোকোমোটিভ স্বল্পতা, পুরনো সিগনালিং সিস্টেম, আধুনিক টিকেটিং সিস্টেম না থাকা, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতাসহ ১৮ ধরনের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) কামরুল আহসান। তিনি বলেন, ‘রেলওয়েতে লোকোমোটিভ ও কোচের ব্যাপক স্বল্পতা আছে। প্রায় ৬৭ শতাংশ লোকোমোটিভ, ৪৭ শতাংশ যাত্রীবাহী কোচের অর্থনৈতিক জীবনকাল শেষ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রেলওয়ে খাতকে যুগোপযোগী করতে ৩০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮৯টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮২টি প্রকল্প শেষ হয়েছে। তবে একটি বিশেষায়িত সংস্থা হওয়ায় রেলওয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায়শই দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা দেখা দেয়।’

রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে কামরুল আহসান বলেন, ‘রেলওয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় গড়ে ওঠেনি। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ব্রিটিশ-ভারত রেলওয়ের অংশ হিসেবে এটি নির্মিত হয়। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন রেল শুরুর স্টেশন থেকে গন্তব্য পর্যন্ত ঘুরপথে যেতে হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, রাজধানীমুখী রেলওয়ে নেটওয়ার্ক নির্মাণ, চট্টগ্রাম বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে দূরত্ব কমানো এবং বাইপাস নির্মাণের মাধ্যমে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা জরুরি।’

সেমিনারে রেলওয়ের ১৮টি চ্যালেঞ্জ, সমস্যা ও এর প্রতিকারের কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো— গুরুত্বপূর্ণ করিডোরগুলোতে সিঙ্গেল লাইন, সেতুর সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে সীমিত সক্ষমতা, গেজ ইউনিফিকেশন, আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগের প্রতিবন্ধকতা, রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিবন্ধকতা, উন্নয়ন প্রকল্প এবং রক্ষণাবেক্ষণ খাতে অর্থায়ন স্বল্পতা, অপ্রতুল প্রশিক্ষণ, লেভেল ক্রসিং গেট, রাজস্ব আয় বৃদ্ধিকরণ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আধুনিকায়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে— অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রেল কারখানা আধুনিক করা এবং রেলওয়েতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো।’

রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘রেলে যাত্রীসেবার মান ভালো নয়, রেলের সংখ্যা কম— প্রায়ই এগুলো শুনতে হয়। এ ছাড়া ডাবল লাইন নেই, রেল ইঞ্জিন ভালো না— এমন নানা সমস্যা আছে। রেলওয়েকে হতে হবে জনসাধারণের পরিবহন। কম পয়সায় যাতায়াতের জন্য রেলওয়েকে তৈরি করা প্রয়োজন।’

কালের আলো/এমএইচ/এসবি

Print Friendly, PDF & Email