ঢাকার যানজট কমাতে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানালেন মেয়র আতিক

প্রকাশিতঃ 5:34 pm | May 14, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

ঢাকার যানজট কমাতে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতে প্রাইভেট কারের বদলে বাস চালুসহ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার কথা বলে ধরেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, ঢাকার যানজট কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো থেকে হকারদের সরিয়ে দেওয়া, তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। এতে কোনো মোড়েই গাড়ির জটলা লাগবে না। এছাড়া ঢাকার প্রতিটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল বাস চালু করতে হবে। ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কুল বাসের ব্যবস্থা করবে, তাদের স্কুলের হোল্ডিং টেক্স কমিয়ে দেওয়া হবে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাবার নতুন বা দামি গাড়ি, কমদামি গাড়ি নিয়ে হিংসা কমবে। স্কুল বাসে যাতায়াতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা বন্ধন তৈরি হবে।

শনিবার (১৪ মে) গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নগর ভবনের হল রুমে এক ‘মিট দ্য প্রেসে’ মেয়র আতিক এসব কথা বলেন। মেয়র হিসেবে আতিকুল ইসলামের দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে এ ‘মিট দ্য প্রেসের’ আয়োজন করে ডিএনসিসি।

এ সময় তিনি বলেন, মহাখালীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে সেতু ভবন ও বিআরটিএ ভবন ‘গলার কাটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ দুটি ভবনের কারণে সড়কটি চওড়া করা যাচ্ছে না। মহাখালী উড়াল সড়কে গাড়ি উঠতে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে দিনভর এ সড়কে যানজট লেগে থাকে। সেখানে ইউটার্ন নির্মাণ করেও তার সুফল মিলছে না। তাই ভবন দুটি ভবন ভেঙে ফেলতে হবে।

রাজধানীর যানজট নিরসনে ডিএনসিসি যে ১১টি ইউলুপ নির্মাণ করেছে, তার সুফল মিলছে না কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আতিক বলেন, ইউলুপ নির্মাণের পরিকল্পনা বা প্রকল্পটি ডিএনসিসির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ছিল। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছি। কিন্তু সড়ক পর্যাপ্ত চওড়া না হওয়ায় এই ইউলুপগুলো কাজে আসেনি। বিশেষ করে বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন একটি ইউলুপ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকার ইউলুপটি সুফল মেলেনি।

‘চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন ইউলুপটি কাজে না আসার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ সড়কের জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে সেতু ভবন ও বিআরটিএ ভবন। এখন এই দুটি ভবনের জন্য সড়কটি চওড়া করা যাচ্ছে না। ফলে ইউলুপ করার পরও গাড়ি ঘুরতে পারছে না। মহাখালী উড়াল সড়কে গাড়ি উঠতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আমি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করবো, দ্রুত সময়ের মধ্যে নিজ উদ্যোগ ভবন দুটি ভেঙে ফেলার জন্য।’

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, আগে বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় প্রচুর গাছ ছিল। হাটার জন্য চওড়া ফুটপাত বা বেড়ানোর জন্য ফাঁকা জায়গা ছিল। এখন সেই খালি জায়গা আর নেই। সেতু কর্তৃপক্ষ সেখানে অপরিকল্পিতভাবে কংক্রিটের বহুতল স্থাপনা তৈরি করেছেন। মানুষের অক্সিজেন নেওয়ার জায়গা রাখেনি।

দুবছর আগে সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনে যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার কতোটা বাস্তবায়ন হয়েছে এমন প্রশ্নে আতিকুল ইসলাম বলেন, আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি। আমি মেয়র পদকে ক্ষমতা মনে করি না, এটা দায়িত্ব মনে করি।

তিনি আরও বলেন, মেয়র নির্বাচনের কিছুদিন পরপরই দেশে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচ মাস লকডাউনসহ নানা বিধিনিষেধ ছিল। কিন্তু আমরা বসে থাকিনি। ৭৬ হাজার পরিবারে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতায় মহাখালী কাঁচাবাজারকে ডিএনসিসি করোনা হাসপাতালে রূপ দিয়েছি। এটি এখন দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল। এখানে ২২০টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। যা সারাদেশে মিলেও এতো আইসিইউ নেই।

আজ থেকে ডিএনসিসির নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাজ শুরু করেছেন জানিয়ে মেয়র বলেন, দেশের নগর পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে ডিএনসিসির নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে একটি মাস্টারপ্ল্যান নিয়েছি। সে প্লান বা পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ থেকে কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এ কাজের জন্য চার হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ঝুঁকি বিগত বছরের চেয়ে পাঁচগুণ বেশির আশঙ্কা রয়েছে, এডিস নিধনে ডিএনসিসি কী পদক্ষেপ নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডেঙ্গু বা এডিশ নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। এজন্য নগরবাসীতে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ এডিশ মশা বাসাবাড়ির আঙিনায় জন্ম নেয়। নগরবাসীকে প্রতি শনিবার সকাল ১০টায় ১০ মিনিটি নিজ আঙিনা পরিষ্কার করতে হবে। ডিএনসিসিও তার সাধ্যমতো কাজ করে যাবে।

হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে গ্রাহকদের আর ভোগান্তি হবে না জানিয়ে আতিক বলেন, আমরা নো ক্যাশ ট্রানজেকশন ব্যবস্থা চালু করেছি। এখানে কোনো গ্রাহককে সরাসরি হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে হবে না। সরাসরি ট্যাক্স দিতে গেলে কর্মকর্তারা সুযোগ পেয়ে যায়।

‘তারা তখন নানা ধরনের ব্যবস্থা দেখায়, বিশেষ করে ফ্ল্যাটের মাপ, ড্রইং রুমের মাপ, বারান্দার মাপ। যার কারণে একজন গ্রাহক বিরক্ত হয়ে সরাসরি কন্ট্রাক্টে চলে যায়। এই ব্যবস্থাই আর রাখছি না। নগদ টাকা হবে না, ট্যাক্স হবে অনলাইানে, নো ক্যাশ ট্র্যানজেকশন ব্যবস্থা চালু হয়েছে।’

খাল উদ্ধারে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার কথা জানিয়ে মেয়র বলেন, ড্রোনের মাধ্যমে খালের সীমানা নির্ধারণ চলছে। এখানে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সকল খাল ফিরিয়ে আনা হবে। ড্রোনের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ হলে পিলার বসানো হবে। সেই পিলার কারও ড্রয়িং রুমে পড়তে পারে, কারও বারান্দায় এমনকি থাকার ঘরেও পড়তে পারে।

তিনি বলেন, রূপনগরের খালের উপরে যারা দখল নিয়ে আছেন সরে যান। অবৈধ দখলদারদের আমি কোনো বৈধ নোটিস দেব না। বিনা নোটিসে আমি খাল উদ্ধার করব, আপনারা সরে যান প্লিজ। রূপনগর খাল উদ্ধার করে তুরাগ নদীতে সংযোগ করব, যাতে করে জলজট কমানো যায়।

কালের আলো/ডিএসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email