রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী : যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিতঃ 12:17 pm | March 22, 2022

ডেস্ক রিপোর্ট, কালের আলো:

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনকে গণহত্যা স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (২১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিনকেন ওয়াশিংটনের হলোকস্ট জাদুঘরে এ ঘোষণা দেন।

২০১৮ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধন’ অভিহীত করেছিল ওই সময়ের ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে আর্মেনিয়া, বসনিয়া, রুয়ান্ডা, ইরাক, দারফুর এবং আইসিস নিয়ন্ত্রিত কিছু অঞ্চলে গণহত্যা হয়েছিল বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

অ্যান্টনি জে. ব্লিঙ্কেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে- হলোকস্টের বাইরে সাতটি গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। আমি মনে করি, এটি অষ্টম গণহত্যা।

স্থানীয় সময় সোমবার (২১ মার্চ) ওয়াশিংটনের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন অ্যান্টনি জে. ব্লিঙ্কেন।

পরিদর্শন শেষেই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতাকে গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা দেন তিনি। ।

ব্লিনকেন বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গার ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছে। যারা সবাই নিজ চোখে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মমতা দেখেছেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৬ এবং ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের কাছে শক্ত প্রমাণ আছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞরা নির্যাতনের ওপর রিপোর্ট দিয়েছেন। যেখানে দেখা গেছে মিয়ানমারের সেনারা হত্যা, ধর্ষণ, গ্রামে অগ্নিসংযোগ এবং নির্যাতন করেছে।’

ব্লিনকেন বলেন, ‘২০১৬ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের কারণে এক লাখ এবং ২০১৭ সালে সাত লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলোদেশে পালিয়ে যায়। এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাদের ইন্টারভিউ করা হয়েছে এবং তাদের তিন-চতুর্থাংশ বলেছে তারা স্বচক্ষে মিলিটারিদের হত্যা করতে দেখেছে। অর্ধেকের বেশি নারী নির্যাতন প্রত্যক্ষ করেছে এবং ২০ শতাংশ জানিয়েছে গণ-নির্যাতনের ঘটনা- অর্থাৎ একটি একক ঘটনায় ১০০ বা তার বেশি মানুষকে হত্যা বা আহত করার ঘটনা তারা দেখেছে।

ব্লিনকেন আরও বলেন, ‘চার সন্তানের মা নুরা সেনাদের কাছে মিনতি করেছিল তাকে যেন সন্তানদের সামনে ধর্ষণ না করা হয়। কিন্তু মিয়ানমারের সেনারা ওই কাজটিই করেছিল। হাসরার ১২ বছরের ছেলের হাত বিছিন্ন করে ফেলেছিল ওরা। এসব প্রমাণ নিশ্চিত করে যে হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার অভিপ্রায় ছিল মিয়ানমার বাহিনীর।’

এদিকে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস মঙ্গলবার (২২ মার্চ) এক বার্তায় উল্লেখ করে, যখন রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার কবল থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসেছিলো, তখন বাংলাদেশ দ্রুত ও উদারভাবে ৭ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়। যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা গণহত্যার ফলে বাংলাদেশের সরকার, জনগণ ও আশ্রয়দানকারী জনপদের জন্য এ বিশাল চ্যালেঞ্জের বিষয়টিকে অনুধাবন করে। এ সংকটে মানবিক সহায়তা প্রদানে প্রধান দাতাদেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email