মাদকাসক্তি নিরাময়ে নতুন অধ্যায়ে পুলিশ, আইজিপির উদ্যোগের প্রশংসায় তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 8:22 pm | October 07, 2021

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির মাদক সেবনে বছরে খরচ হয় ৫৬ হাজার ৫৬০ টাকা থেকে ৯০ হাজার ৮০০ টাকা। এই হিসাবে ১ কোটি মাদকসেবীর পেছনে বছরে ব্যয় ৫৬ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা থেকে ৯০ হাজার ৮০ কোটি টাকা। মাদকের এই ‘বল্গাহীন’ পাগলা ঘোড়ার রাশ টেনে ধরতে ‘রাউন্ড দ্যা ক্লক’ সক্রিয় রয়েছে পুলিশ। মাদকের ‘বিপর্যয়কর’ এক পরিস্থিতিতে কেবল গ্রেফতার অভিযানেই সীমাবদ্ধ নেই পুলিশ।

মাদকের অন্ধকারচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে তরুণ-যুবাদের সুচিকিৎসার মাধ্যমে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তাঁরা। দেশের অনেক মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসার নামে চলে আসা নির্মম নির্যাতনের গল্পের বাইরে যেন আলোকবর্তিকা হয়েই নিজেদের সমর্পণ করেছে পুলিশ। একটি আধুনিক, উন্নত ও কার্যকর মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ ফুলের সৌরভ ছড়িয়ে নিজ বাহিনীকে প্রবেশ করিয়েছেন দিগন্তবিস্তারী এক নতুন অধ্যায়ে।

রাজধানীর অদূরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রিভারভিউ প্রকল্পের মনোরম পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে ‘ওয়েসিস’ বা মরুদ্যান। মনোমুগ্ধকর ও নান্দনিক পরিবেশে উন্নত ব্যবস্থাপনায় দেশের সবচেয়ে অত্যাধুনিক মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (০৭ অক্টোবর)। মাদকাসক্তদের সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সুদৃঢ় প্রত্যয়ে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বগৌরবে আত্নপ্রকাশ ঘটেছে ওয়েসিস’র।

বাংলাদেশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ও বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) এর আরও একটি চমক জাগানিয়া এই উদ্যোগে এক মঞ্চে (০৭ অক্টোবর) সামিল হয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আজিজুল ইসলাম। রোদতপ্ত অন্য দিনগুলোর চেয়েও যারপরেনাই ব্যতিক্রম ছিল এই দিনটি।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম রব্বানী, ডা. অরূপ রতন চৌধুরী ও ডা. মোহিত কামাল এবং ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. শহীদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান।

সূত্র জানায়, পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদের প্রচেষ্টায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন তদারকির দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান ও একদল দক্ষ কর্মী। তারাও গর্বিত ও আনন্দিত এই ধরনের একটি কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে অংশীদার হতে পেরে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মনোরম পরিবেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা সেবা দেবে ৬০ বেডের এই হাসপাতাল। তুলনামূলক কম খরচে বিশ্বমানের চিকিৎসা দেয়া হবে এখানে। এছাড়া মানিকগঞ্জে পদ্মা নদীর পাশে দশ বিঘা জমিতে মাদকাসক্তদের জন্য তিন শ’ থেকে চার শ’ বেডের বিশ্বমানের আরও একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ।

ওয়েসিস’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুন্য সহিষ্ণুতার নীতির কথা জোরালোভাবে আরও একবার উচ্চারিত হয়েছে। মাদক থেকে সবাইকে বিরত রাখতে সামাজিক আন্দোলনের ওপর জোর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

মাদকের ডিমান্ড কাটের জন্য মাদকাসক্তদের সুচিকিৎসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদ। পুলিশকে বদলে দিতে বর্তমান আইজিপির নানামুখী উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই।

মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান
বাংলাদেশে মাদক তৈরি না হলেও দেশটি এর ভয়াবহতার শিকার বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সবাই জঙ্গি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ করে সফল হয়েছি। এখন মাদকের বিরুদ্ধেও আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, যারা মাদকাসক্ত তাদের কি হবে? আমরা তাদেরকে চিকিৎসা দিতে চাই, সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চাই। তিনি বলেন, পরিবারের কোন সদস্য মাদকাসক্ত হলে তা গোপন না করে যথাযথ চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এজন্য তিনি পরিবারকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

‘মাদকের সরবরাহ, চাহিদা এবং এর ক্ষতি হ্রাস করার জন্য আমরা কাজ করছি, এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে’ যোগ করেন আসাদুজ্জামান খান।

তিনি বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ওয়েসিস স্থাপনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানান মন্ত্রী।

মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্সের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবাইকে এক যোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মাদক থেকে সবাইকে বিরত রাখতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে তাদের জানাতে হবে। আইজিপি সাহেব বলেছেন, মাদক আমাদের দেশে তৈরি হয় না। এমনকি ফেনসিডিলও আমরা তৈরি করতে দেই না।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘অসমর্থিত হিসাবে আমাদের দেশে ৮০ লাখ লোক মাদকাসক্ত। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে আমাদের সরকারি একটি মাদক নিরাময় হাসপাতাল রয়েছে। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব- আপনি নিজে একবার এই হাসপাতাল দেখতে যাবেন। আমাদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এটা নিয়ন্ত্রণ করেন। এই হাসপাতালে অনেক কিছু নেই, অনেক সমস্যা। তারপরেও হাসপাতালটি চলছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জেলখানায় ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি রয়েছে। এখানে যে আসামি রয়েছে তার বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি। মাদকের ডিমান্ড হ্রাস, সাপ্লাই হ্রাস এবং হার হ্রাস আমরা এই তিন ধরনের কাজ করে থাকি।’ এলাকায় যারা জনপ্রতিনিধি আছেন, তাদের কাছে আহ্বান রাখব, মাদকের ডিমান্ড হ্রাসে আপনারা সবাইকে উদ্বুদ্ধ করুন।’

আইজিপি পুলিশকে একটি মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘বর্তমান আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশকে একটি মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন। পুলিশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন এবং সমাজে নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখছে। করোনা মোকাবেলায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে পুলিশ।’

দেশে করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে তা বিদেশেও রপ্তানি করা হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমাদের কথা দিয়েছে, করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করতে যা যা প্রয়োজন তারা সব ধরনের সাপোর্ট আমাদেরকে দেবে। আর এতে বাংলাদেশ ভ্যাকসিন তৈরির পর বিদেশেও রপ্তানি করতে পারবে।

জাহিদ মালেক বলেন, আমরা একদিনে ভ্যাকসিনের ৮০ লাখ ডোজ দিয়েছি। যা পৃথিবীর অনেক দেশ এখনো দিতে পারেনি। আমাদের সামনে বিজয় দিবস, এ উপলক্ষে ৮০ লাখেরও বেশি মানুষকে একদিনে ভ্যাকসিন দিতে পারবো বলে আশা রাখি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছেন করোনার ভ্যাকসিনের জন্য। তিনি বলেছেন, যত টাকাই লাগুক দেশের প্রতিটি মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। যাতে করে সারাদেশের মানুষ সুরক্ষিত থাকতে পারে। ভ্যাকসিন নিলে করোনায় আক্রান্ত হলেও অন্তত মৃত্যু ঘটে না।

দেশে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মাদক নিলেই যে মানুষ অপরাধী হয়ে যায় কথাটি সঠিক নয়। মাদককে ঘৃণা করতে হবে মাদকাসক্তকে নয়। কেউ মাদকাসক্ত হলে তাকে চিকিৎসা দিয়ে ভালো করতে হবে।

ওয়েসিস প্রতিষ্ঠায় আইজিপিকে ধন্যবাদ বিপুর
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নসরুল হামিদ বিপু মাদকাসক্তদের চিকিৎসায় এ ধরনের একটি আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্র ওয়েসিস স্থাপন করায় বর্তমান আইজিপির গতিশীল নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রোগীর কল্যাণ তথা জনস্বার্থ সংরক্ষিত হবে বলেও মত দেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা: আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, মাদকাসক্তদের রোগের নিরাময় করলেই হবে না। এর সাথে সমাজকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা করা পুলিশের দায়িত্ব নয়। তবুও পুলিশ ওয়েসিস এর মত একটি ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান স্থাপন করায় আইজিপিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে কী বলেছেন আইজিপি?
দেশে মাদকের সরবরাহ বন্ধ করতে হলে চাহিদা কমাতে হবে-এমন মত দিয়েছেন আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘কেউ মাদকাসক্ত হলে তার পরিবারের কী অবস্থা হয়, পুলিশে চাকরির সুবাদে আমার তা দেখার দুর্ভাগ্য হয়েছে।

সমাজের অনেক সম্মানিত ব্যক্তির নীরব কান্না দেখতে হয়েছে আমাকে। এ গোপন কান্না এত কষ্টের, যা কারও সঙ্গে শেয়ারও করা যায় না সামাজিক মর্যাদার কারণে। কিন্তু আমার কাছে এসে শেয়ার করেছেন। এমন ঘটনা একটি নয়, অহরহ আছে।’

প্রচলিত মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে নাম-পরিচয় দিতে হয় বলে অনেকে ছেলে-মেয়েদের চিকিৎসা করাতে আগ্রহী হন না উল্লেখ করে ড.বেনজীর বলেন, ‘আবার যার চিকিৎসার প্রয়োজন, তিনি চিকিৎসা নিতে চান না। পরিবার চায়, তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে, যা অনেক সময় আইনসম্মত নাও হতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধান বলে এ দেশের নাগরিকরা স্বাধীন ও মুক্ত। তাই কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোথাও নিয়ে যাওয়া যায় না।’

তিনি আরও বলেন, এনজিওসহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৮০ লাখ, আবার কেউ কেউ বলেন এক কোটি ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৮ সালে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা ৩৬ লাখ। কিন্তু বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে মোট বেড আছে সাত হাজার। তাহলে এত সংখ্যক মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আমরা কত বছরে চিকিৎসা দেব?

দেশে মাদক ও মাদকাসক্তি সমস্যা সমাধানের বিষয়ে দৃঢ় কন্ঠে আইজিপি বলেন, কোনো মাদকই দেশে তৈরি হয় না। ফেনসিডিল আসে প্রতিবেশী দেশ থেকে। ইয়াবাও আসে প্রতিবেশী আরেক দেশ থেকে। এখন আবার আসছে আইস। এসবের কোনটিই কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তৈরি হয় না। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে আমরা যে কাজটি করার চেষ্টা করি তা হচ্ছে মাদকের সাপ্লাই কাট। মাদক দমনে ছয় থেকে সাতটি বাহিনী একসঙ্গে কাজ করে। এছাড়া কাস্টমস বিভিন্ন পোর্টে মাদক দমনে কাজ করে।

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বলেন, যদি ডিমান্ড থাকে, কোনো না কোনোভাবে দেশে মাদকের সাপ্লাই হবেই। আর মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা যদি হয় এক কোটি, ৮০ লাখ ও ৩৬ লাখ, তাহলে প্রতিদিন মাদক কোনো না কোনোভাবে দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হবেই। এ কারণে অবশ্যই আমাদের মাদকের ডিমান্ড কাট করতে হবে। ডিমান্ড কাট করতে হলে এ সমস্ত যারা মাদকাসক্ত আছে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। সেক্ষেত্রে ওয়েসিস আমাদের অতি ক্ষুদ্র একটি উদ্যোগ।

পুলিশ হাসপাতালে ক্যানসার ইউনিট স্থাপনের দাবি জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘আমাদের পুলিশের যে ধরনের কাজ, আমরা সাধারণ কয়েকটি রোগে আক্রান্ত হই। এর মধ্যে একটি হচ্ছে কিডনির সমস্যা। পুলিশ হাসপাতালে আমরা ইতোমধ্যে ৩৪টি কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপন করেছি।

আরেকটি হচ্ছে হার্টের সমস্যা। আমাদের জব স্ট্রেস থেকে আরেকটি রোগ হয়, তা হলো ক্যানসার। আমাদের প্রচুর লোক আছে যারা ক্যানসারে আক্রান্ত। পুলিশ হাসপাতালে আমরা একটি ক্যানসার ইউনিট চাই। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাব আগামী বছরের মধ্যে ক্যানসার ইউনিট করে দেওয়ার জন্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এটি উদ্বোধন করে দেবেন বলে আশা রাখি।’

মানিকগঞ্জে আরও এক হাজার বেডের হাসপাতাল
রাজধানীর অদূরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রিভারভিউ প্রকল্পের মনোরম পরিবেশে ওয়েসিস’র পথচলার ধারাবাহিকতায় মানিকগঞ্জের কালিগঙ্গা নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে ৫’শ থেকে ১ হাজার শয্যার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র বা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগও গ্রহণ করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক ড.বেনজীর আহমেদ।

সেই কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে আমরা ইতোমধ্যে নদীর তীরে ২০ বিঘা জমি কিনেছি। আমি পারলে ১০০ বিঘা জমি কিনতে চাই। সেখানকার পরিবেশে ঢুকলে যেন মানুষের মন এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। আমরা এমন একটি পরিবেশে ৫০০ থেকে এক হাজার বেডের হাসপাতাল তৈরি করতে চাই। এটিকে আমরা মাদক চিকিৎসার ক্ষেত্রে রিজিওনাল হাব করতে চাই।’

সামাজিকভাবেই মাদক সমস্যার সমাধান
স্বাগত বক্তব্যে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ও ওয়েসিস পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হাবিবুর রহমান মাদককে একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘সামাজিকভাবেই এর সমাধান করা প্রয়োজন।’

ওয়েসিস স্থাপনের পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মাদকের ভয়াবহ ছোবলে পড়ে আমাদের তরুণ সমাজের অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। তাদেরকে মাদকমুক্ত করে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার মানসে আইজিপি মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে আমরা ওয়েসিস প্রতিষ্ঠা করেছি।’

তিনি জানান, মাদকাসক্তদের চিকিৎসায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সাততলা ভবনের ষাট শয্যার ওয়েসিস এ বিশেষজ্ঞ মনোরোগ চিকিৎসক, সাইকোলজিস্ট, সাইকোথেরাপিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, ইয়োগা এক্সপার্ট এবং অভিজ্ঞ অ্যাডিকশন কাউন্সেলরগণের মাধ্যমে বিশ্বমানের সমন্বিত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। এখানে পুরুষ এবং মহিলা রোগীর জন্য পৃথক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।

ওয়েসিস এ চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তদারকি, স্বতন্ত্র কাউন্সেলিং সেশন, উন্নতমানের শরীর চর্চা কেন্দ্র, বিনোদন সুবিধা, ইনডোর ও আউটডোর গেমস, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও জীবনধর্মী শিক্ষামূলক নানা আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাদকাসক্তদের সুচিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে সুস্থ সুন্দর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ‘ওয়েসিস’ যেন সত্যিকার অর্থেই মরুভূমিতে এক মরুদ্যান।

কালের আলো/এসবি/এনএলএএ

Print Friendly, PDF & Email