ডেঙ্গু চিকিৎসায় সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ঢাকা মেডিকেল, পরিচালকের নানা উদ্যোগ

প্রকাশিতঃ 9:21 am | August 07, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো :

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দেশ। প্রায় প্রতিদিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রোগীর চাপে হাসফাঁস অবস্থা হাসপাতালের পরিচালক থেকে শুরু করে চিকিৎসকদেরও। ডেঙ্গু রোগীদের মাঝে রয়েছে শিশুরাও। আক্রান্তদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে দিন-রাত একাকার করে কাজ করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পাশাপাশি ডেঙ্গু চিকিৎসায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতেও সমান তালে কাজ চলছে। এসডিইউ সাপোর্টেড বেড থেকে শুরু করে স্পেশাল কেয়ার বেড চালু, আইসিইউতে সরঞ্জামাদিরও শয্যা বাড়ানো, শিশুদের জন্য ৭ শয্যার আইসিইউ, ৩৫ শয্যার নতুন ওয়ার্ডসহ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন।

মঙ্গলবার (০৬ আগস্ট) বিকেলে কালের আলো’র সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা আরো উন্নত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন এ পরিচালক। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কের সময়েও তিনি অভয় দিচ্ছেন ডেঙ্গু রোগ সামলাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য নতুন করে ১৫ টি এসডিইউ সাপোর্টেড বেড প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে হাসপাতাল পরিচালক বলেন, ‘দু’একদিনের মধ্যেই এ বেড চালু করা হবে। ইতোমধ্যেই সব জিনিসপত্র চলে এসেছে। এ বেড লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া একই রোগীদের জন্য নতুন ভবনের এক তলায় ৮ টি স্পেশাল কেয়ার বেড চালু করা হচ্ছে।’

‘এর বাইরে আমরা আইসিইউতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি যোগ করেছি। আরো কিছু আসছে, সেগুলো যোগ করবো। সেখানেও আমাদের মূল সাপোর্ট এরিয়া বাড়বে। যেটা এইচডিও এরিয়া ছিল সেটাতে আইসিইউ কেয়ারের সাপোর্ট দেয়া যায় সেই যন্ত্রগুলোও আমরা যোগ করছি সেখানে। ফলে আমার আইসিইউ ক্যাপাসিটি অনেক বেড়ে যাবে’ যোগ করেন এ পরিচালক।

আইসিইউতে ৪ থেকে ৫টা বেড বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা যেটা করছি সেটা হলো- আমরা ৭ বেডের একটা চাইল্ড আইসিইউ করছি। যেটা আমাদের মেডিকেল কলেজে নেই। আমাদের নিউরেন্ট আছে, এডাল্ট আছে কিন্তু চাইল্ড আইসিইউ নাই।

আমাদের সব যন্ত্রপাতি চলে আসছে। ফ্লোর টাইলস করার জন্য কিছু সময় লাগবে। এটা শেষ হলেই চার পাঁচদিনের মধ্যে আমরা এটা চালু করতে যাচ্ছি।’

কালের আলো’র সঙ্গে দীর্ঘ আলাপে এবার সবচেয়ে বড় সুখবরটি দিলেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দক্ষতার সঙ্গে সামলে আসা এ পরিচালক। তিনি বলেন, ‘আমরা শিশু ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ৩৫ শয্যার একটি ওয়ার্ড চালু করতে যাচ্ছি। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। হয়ত এটা করতে আমাদের সপ্তাহখানেক সময় লাগবে।’

‘ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় আমাদের এসব ইমিডিয়েট একশনের বাইরেও আমরা প্যাথলজি সক্ষমতা বাড়াতে অনেক সরঞ্জামাদি নিয়ে এসেছি। বায়োকেমেস্টি এনালাইজার, অটো এনালাইজার, সেল কাউন্টার চেম্বার, হিমোগ্লোবিন এইচ এনালাইজার নিয়ে এসেছি। এগুলো যন্ত্র আমাদের এখানে চলে আসছে, দুই দিনের মধ্যেই এগুলো চালু হবে’ সংযোজন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক।

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালটি আরো বিশেষ ব্যবস্থা চালু করছে। এ বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আমাদের ইমার্জেন্সি বেইজমেন্টে প্রায় দেড় শতাধিক ডেঙ্গু রোগী রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। সেখানে টয়লেট নির্মাণ কাজ চলছে। এ কাজ শেষ করতে সপ্তাহখানেক সময় লাগবে।

আমরা বার্ন ইউনিটও প্রস্তুত রাখছি। তবে আমরা আমাদের হাসপাতালটাতেই চিকিৎসা দিতে চাই। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলে রোগীরা প্রয়োজনীয় সব ট্রিটমেন্ট, পরীক্ষা নিরীক্ষা, ডাক্তারের সহায়তা সবই পাবে। বার্ন ইউনিট একটু দূরে হয়ে যায় সেটা আমাদের ভাবনার বিষয়। তবে আমরা সেখানে রোগী নিলেও সিরিয়াস সব রোগী কিন্তু ঢাকা মেডিকেলেই থাকবে। যারা একটু মডারেট, যারা একটু মাইল কেস তাদের আমরা নেব বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক ইউনিটে, যোগ করেন পরিচালক।

তিনি জানান, ‘পরশু দিন ৯০০’র ওপরে সিবিসি করেছি শুধু ডেঙ্গুর জন্য। আর সাড়ে ৫’শ আমরা এনএস১ টেস্ট করেছি। সাড়ে তিনশ’র মত করেছি আইজিজিএম এনআইজিজিএম। আমাদের চার হাজার রোগী ভর্তি আছে। সেখানে হাজার হাজার টেস্ট হচ্ছে।’

দিন-রাত একাকার করে কাজ করতে হচ্ছে কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে হাসপাতাল পরিচালক জানান, আমি সকাল ৭ টায় বাসা থেকে বের হই। আবার বাসায় ফিরতে রাত ৯ টা বাজে। এটা বহুদিন ধরে চলছে। আমার ডাক্তারদের ওভার টাইম হচ্ছে আড়াইটার জায়গায় তিন থেকে চারটা বাজছে।

আসলে একজন ডেঙ্গু রোগীকে বার বার দেখতে হয়। অন্য সময় একজন রোগীকে বিকেলে একবার দেখে রাতে একবার দেখলেও এখন তো অবস্থা খারাপ। পনের মিনিট পরপরেও রোগীকে দেখতে হচ্ছে। দেখে দেখেই আমরা এডাজাস্ট করি। সেলাইন দেই, ওষুধ দেই। এভাবেই চলছে।’

কালের আলো/এআরএফ/এএ

Print Friendly, PDF & Email