নাসির-তাম্মির বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন রাকিব

প্রকাশিতঃ 11:16 pm | February 22, 2021

ডেস্ক রিপোর্ট, কালের আলো:

ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন রাকিব হাসান। নিজেকে এখনও নাসিরের সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর স্বামী বলে দাবি করছেন রাকিব। তাকে ডিভোর্স না দিয়েই ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করায় প্রতারণার মামলার প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এ তথ্য জানান নিজেকে তাম্মির স্বামী দাবি করা রাকিব হাসান। এ দাবিতে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন।

জিডিতে তামিমার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের কথা জানিয়েছেন রাকিব। তামিমার সঙ্গে তার ১১ বছরের সংসার ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে জিডিতে। দুজনের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। কিন্তু সব ফেলে নাসিরকে বিয়ে করায় থানায় ডায়েরি করেছেন রাকিব।

এসব বিষয়ে রাকিব হাসান বলেন, ‘আমি প্রতিকার (সমাধান) চাই। কিন্তু থানায় মামলা নেবে না। আমি থানায় মামলার চেষ্টা করেছি। থানা থেকে ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) স্যার জানিয়েছেন, থানায় না করে কোর্টে মামলা করার জন্য। আমি দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা, ব্যভিচার সংক্রান্ত দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা এবং ৪৯৫ ধারা অনুযায়ী মামলার প্রস্তুতি নিয়েছি। কাল পরশুর মধ্যেই আমি মামলা করতে যাচ্ছি।’

৪৯৫ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয় বা পরবর্তী বিয়ে করার সময় প্রথম বা পূর্ববর্তী বিয়ের তথ্য গোপন রাখেন, তা যদি দ্বিতীয় বিবাহিত ব্যক্তি জানতে পারেন, তাহলে অপরাধী ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ৪৯৪ ধারায় উল্লেখ আছে, যদি কোনো ব্যক্তি এক স্বামী বা এক স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও পুনরায় বিয়ে করেন, তাহলে দায়ী ব্যক্তি সাত বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার প্রসঙ্গে রাকিব বলেন, ‘আমিও মানুষ। আমার মেয়েকে সময় দিতে হয়, ব্যবসাতেও সময় দিতে হয়। আমার বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। এর মধ্যেই এমন একটি ঘটনা।’

তিনি বলেন, ‘আমি সবার সহযোগিতা চাই। আমি মামলার জন্য সব ধরনের এভিডেন্স সংগ্রহ করছি। মামলা তাদের (নাসির-তাম্মি) দুজনের বিরুদ্ধেই করব। কারণ আমাকে ডিভোর্স না দিয়ে তো বিয়ে করা ব্যভিচার! যদিও সে (নাসির) পাওয়ারফুল (শক্তিশালী), সে পাওয়ার খাটাবে, টাকার গরম দেখাবে, টাকা দিয়ে সবকিছু ধামাচাপার চেষ্টা করবে। তবে আমি আপনাদের (গণমাধ্যম) সহযোগিতা চাই।’

রাকিব বলেন, ‘প্রথমত, সে (তাম্মি) আমাকে ডিভোর্স দেয়নি। ডিভোর্স যদি দেয়ও, আমাকে কোনো কাগজ (ডকুমেন্ট) দেয়নি। এখন সে আমাকে যদি ব্যাক ডেটের (আগের) ডিভোর্স পেপার দেখাতে চায়, তাহলে আমার সঙ্গে এত দিন সম্পর্ক বজায় রাখা, থাকা-খাওয়ার সব ধরনের ডকুমেন্টস দেখাব। তাহলে সে কি আমার সাথে চিটিং (প্রতারণা) করেছিল?’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি তাকে (তাম্মি) আর ছাড় দেব না। তাকে আমি অন্ধের মতো ভালবাসছি। এখন যেহেতু চিটিং করেছে তাই ধরছি, এখন তাকে চোখ খুলেই ধরব। সঙ্গে কানও থাকবে খোলা।’

এখানে উল্লেখ্য, ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ক্রিকেটীয় এবং প্রেমঘটিত বিভিন্ন বিতর্ক লেগে ছিল নাসির নামের সঙ্গে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা তাম্মি নামের তরুণীকে বিয়ে করেন নাসির হোসেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর সঙ্গে তিনটি ছবি আপলোড করেন বহুদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা এ ক্রিকেটার। এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এ বিয়ের খবর। পরে অবশ্য বিয়ে ও গায়ে হলুদের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে অনেকেই দেখেছেন।

তবে বিয়ের সপ্তাহ না পেরোতেই খবর আসে, অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন নাসির। এ জন্য থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন নিজেকে তাম্মির প্রথম স্বামী হিসেবে দাবি করা রাকিব হাসান।

জিডির বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস বলেন, ‘জিডি নাসিরের বিরুদ্ধে করা হয়নি। এটি তার স্ত্রী তামিমার বিরুদ্ধে করা হয়েছে। একটা লোক এসে দাবি করেন, তিনি নাসিরের বর্তমান স্ত্রীর স্বামী। তামিমা তাকে ডিভোর্স না দিয়ে নাসিরকে বিয়ে করেছেন। সে এখন আতঙ্কে আছে।’

এরই মাঝে ক্রিকেটার নাসির হোসেনের একটি ফোন রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে শোনা যায়, ফোন করে এক ব্যক্তিকে জিডি করার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বলেছেন নাসির।

ওই ব্যক্তির প্রশ্ন ছিল- ‘আপনি কি তামিমা সম্পর্ক সব কিছু জানেন? উত্তরে নাসির হোসেন বললেন, ‘তার সব কিছু জেনে শুনেই আমি তাকে বিয়ে করেছি। তার বাচ্চা আছে, আগেও বয়ফ্রেন্ড ছিল, সবকিছুই আমি জানি। আপনার বউ আপনার সঙ্গে ভালো থাকলে নিশ্চয়ই ১১ বছরের সংসার ভেঙে আমার কাছে চলে আসত না।’

অন্যদিকে, প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে বিয়ে ও ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন ডিজিটালাইজেশন করার নির্দেশনা চেয়ে একটি সংগঠনের পক্ষে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন রাকিব হাসানসহ তিন ব্যক্তি। নোটিশ প্রেরণকারী অন্যরা হলেন- এইড ফর ম্যান ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন এবং ভুক্তভোগী সোহাগ হোসেন ও কামরুল হাসান। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান এ নোটিশ পাঠান। আইন সচিব, তথ্য ও প্রযুক্তি সচিব ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে বিয়ে ও ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

কালের আলো/ডিএসকে

Print Friendly, PDF & Email