ইন্দোনেশিয়ায় বিধ্বস্ত বিমানের সব আরোহীর মৃত্যুর শঙ্কা

প্রকাশিতঃ 12:29 pm | January 10, 2021

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলোঃ

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে শনিবার(০৯ জানুয়ারি) যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণ পরেই বোয়িং ৭৩৭ যাত্রীবাহী বিমানটি সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে এরই মধ্যে তারা ঘটনাস্থলের সন্ধান পেয়েছে।

পশ্চিম কালিমান্তান প্রদেশের পন্টিয়ানাকের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর চার মিনিটের মাথায় রেডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় বিমানটি। এ সময় শ্রিভিজায়া এয়ারের ওই বিমানটিতে ৬২ জন আরোহী ছিল।

রবিবার কিছু সংকেত পাওয়া যায়। এসব সংকেত বিমানটির ফ্লাইট রেকর্ডার থেকে আসছে মনে করা হচ্ছে। নৌবাহিনীর ডুবুরি সমেত দশটির মতো জাহাজ এখন দুর্ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। খবর বিবিসির

দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান এয়ার মার্শাল বাগুস পুরুহিতো বলেন, ‘আমরা দুটি পয়েন্ট থেকে সংকেত পেয়েছি। সেটা ব্ল্যাক বক্সের হতে পারে।’

এরইমধ্যে কিছু সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। ধ্বংসাবশেষগুলো বিমানের অংশবিশেষ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরমধ্যে একটি চাকা আছে, যেটা বিমানের ফিউসিলেজ অংশের হতে পারে। জাকার্তা পুলিশের মুখপাত্র ইউস্রি ইউনুস জানিয়েছেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার কাছ থেকে দুটি ব্যাগ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘প্রথম ব্যাগে যাত্রীদের জিনিষপত্র ছিল, অন্য একটি ব্যাগে দেহাবশেষ ছিল। আমরা এসব থেকে কিছু সনাক্ত করার চেষ্টা করছি।’

রাতের বেলায় অনুসন্ধান এবং উদ্ধার প্রচেষ্টা স্থগিত করা হলেও রোববার খুব সকাল সকালে আবার উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। বিমানটি ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের ছিল না। বোয়িংয়ের ওই মডেলের দুটি বিমান পরপর বিধ্বস্তের ঘটনায় ২০১৯ সালের মার্চ থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বিমানগুলোর উড্ডয়ন বন্ধ রাখা হয়।

শ্রিভিজায়া এয়ার-এর যাত্রীবাহী বিমানটি শনিবার স্থানীয় সময় ২টা ৩৬ মিনিটে জাকার্তা বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়।

কয়েক মিনিট পরে, ২টা ৪০ মিনিটে বিমানটির সাথে শেষ যোগাযোগের বার্তা রেকর্ড করা হয়েছিল। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় বলছে, সবশেষ বার্তা অনুযায়ী বিমানটির কল সাইন ছিল এসজেওয়াই ১৮২। জাকার্তা থেকে বোর্নিও দ্বীপের পশ্চিমে পন্টিয়ানায় যেতে স্বাভাবিক ফ্লাইটের সময় লাগে ৯০ মিনিটের মতো।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরেডার টোয়েন্টিফোর ডটকমের তথ্য অনুসারে, বিমানটি এক মিনিটেরও কম সময়ে ১০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে নেমে এসেছিলো বলে মনে করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে, অন্তত একটি বিষ্ফোরণ হয়েছে।

সোলিহিন নামে একজন মৎস্যজীবী বিবিসি ইন্দোনেশিয়াকে জানিয়েছেন যে, তিনি বিমান দুর্ঘটনাটি খুব কাছ থেকে দেখেছেন এবং তার নৌকার ক্যাপ্টেন উপকূলে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, ‘বিমানটি বজ্রপাতের মতো সমুদ্রে পড়ে এবং পানিতে বিস্ফোরিত হয়। বিমানটি আমাদের খুব কাছাকাছি বিধ্বস্ত হয়েছিল। সে সময় এক টুকরো পাতলা কাঠের টুকরো আমাদের নৌকাটিকে প্রায় আঘাত করতে বসেছিল।’

বিমানটি যেখানে নিখোঁজ হয়েছে তার কাছাকাছি অবস্থিত একটি দ্বীপের বেশিরভাগ বাসিন্দা জানিয়েছে যে, তারা এমন কিছু জিনিষপত্র পেয়েছে, যেটি ওই বিমানের হতে পারে বলে তাদের ধারণা।

বিমানটির ধারণ ক্ষমতা ১৩০ আরোহীর হলেও যাত্রীবাহী বিমানটিতে ১২ জন ক্রু এবং ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাত্রীদের মধ্যে সাতটি শিশু ও তিনটি নবজাতকও ছিল। বিমানে থাকা প্রত্যেকেই ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কালের আলো/ডিএস/এমএইচ

Print Friendly, PDF & Email