অনন্য বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল নদীমাতৃক বাংলাদেশের সেই চিত্রকর্ম, মুগ্ধ-আন্দোলিত প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 8:42 pm | November 13, 2020

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি চেতনার স্ফুরণের দিনে উদ্বেলিত বাঙালির কন্ঠে কন্ঠে গুঞ্জরিত ছিল ‘তোমার আমার ঠিকানা-পদ্মা, মেঘনা, যমুনা’। অনন্তকাল বহমান নদীর মতোই এ স্লোগান আজও বাঙালি চেতনাবোধে নিজের ভেতরের সত্তাকেই জাগিয়ে তুলে।

নদীমাতৃক বাংলাদেশকে উর্বর পলিতে তলিয়ে যাওয়া রক্ত নদীর প্রবাহ থেকে শতাব্দির শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্ম দিয়েছিলেন একটি স্বাধীন দেশ-মানচিত্র। লাল-সবুজের পতাকার মর্মর ধ্বনিতে আজও বেজে উঠে মহান জাতির জনকের সেই ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে বিকশিত সেই বাংলাদেশ সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বিশ্ব পরিমন্ডলে।

ইতিহাসের মহানায়কের মতোই সামনে থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মানবিকতা, বিচক্ষণতা আর নেতৃত্বগুণে অর্থনীতির প্রতিটি সূচকেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর নদীমাতৃক বাংলাদেশের এ কান্ডারি নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কূটনৈতিক দক্ষতা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য কুড়িয়েছেন সুনাম।

বর্তমান বিশ্বের সফল একজন রাষ্ট্রনায়ককে রঙতুলির স্পর্শে জাগিয়ে তোলা নদীমাতৃক বাংলাদেশের অনন্য একটি চিত্রকর্ম উপহার দিয়েছেন সামরিক গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো.সাইফুল আলম।

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবনির্মিত দু’টি আবাসিক ভবন ও একটি অফিসার্স মেসের উদ্বোধনের পর অনন্য বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল এ চিত্রকর্মটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন ডিজিএফআই’র ডিজি।

নদীমাতৃক দেশটির প্রকৃতি ও পরিবেশের দৃশ্যাবলি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উন্নয়ন আর অগ্রযাত্রার প্রতীক নৌকাকে দৃষ্টিনন্দন এক ক্যানভাসে উঠিয়ে এনেছেন চিত্রকর্মটির চিত্রশিল্পী। এ চিত্রকর্মটি প্রধানমন্ত্রীকে যারপরেনাই মুগ্ধতার পাশাপাশি বহুগুণে আন্দোলিতও করেছে।

বর্ণময় এ ছবিতে প্রকারান্তরে বঙ্গোপসাগরের চেয়েও বিশাল এক ‘মানবতার মা’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বুঝানো হয়েছে যেন! শান্তিতে নোবেলজয়ী কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হোসে ম্যানুয়েল সান্তোস আরও অনেক আগেই শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বমানবতার বিবেক’ অভিধায় ভূষিত করেছিলেন। যিনি ইতোমধ্যেই বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পুণ্যভূমি গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার কাঠি ইউনিয়নের সুলতানপুর মানিকহার গ্রামে বাড়ি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) ডিজি মো.সাইফুল আলমের। তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম রফিকুল আলম ছিলেন বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য।

প্রয়াত কবি শামসুর রহমানের ‘ধন্য সেই পুরুষ’ নামক কবিতার অমর পঙক্তিমালার মতোই বাঙালির জাতিসত্তা পরিচয়ের চূড়ান্ত রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনায় শাণিত দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনী। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ সশস্ত্র বাহিনী একান্ত অপরিহার্য বলেই মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবনির্মিত দু’টি আবাসিক ভবন ও একটি অফিসার্স মেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার প্রতিরক্ষা নীতিমালার আলোকে তাঁর সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন।

এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ সাইফুল আলম। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, প্রতিরক্ষা সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল প্রমুখ গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email