সেনাবাহিনী দেশের সম্পদ, জাতীয় পতাকা মর্যাদার প্রতীক : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 7:17 pm | October 11, 2020

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীকে দেশের সম্পদ ও মানুষের ভরসা বিশ্বাসের প্রতীক মন্তব্য করে বলেছেন, ‘আপনাদের সকলকে পেশাগতভাবে দক্ষ, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ঊর্ধ্বে থেকে সৎ ও মঙ্গলময় জীবনের অধিকারী হতে হবে। দেশপ্রেম ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই আপনাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আরও পড়ুন: নতুনত্ব, স্বকীয়তায় ভাস্বর প্রধানমন্ত্রী; সেনাবাহিনীকে দেশপ্রেম-পেশাদারিত্ব বজায়ের আহ্বান

বাংলাদেশের জনগণ এরা তো আপনাদেরই আপনজন। আপনাদের পরিবারেরই সাথী। কাজেই তাদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে আপনাদের কাজ করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করে আমাদের সেনাবাহিনীসহ সকল বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে আধুনিকায়নে এবং যুগের সাথে সাথে তারা তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।

কারণ এই প্রতিরক্ষা নীতিমালা জাতির পিতা আমাদেরকে দিয়ে গেছে, সেখানে একটা সূদুরপ্রসারী পরিকল্পনাও ছিল। আর সেটাই আজকে আমরা অনুসরণ করে যাচ্ছি।’

রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ টি ইউনিট ও একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পতাকা (ন্যাশনাল ষ্ট্যান্ডার্ড) প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

সাভারের নবম পদাতিক ডিভিশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি স্থানীয় কোর অব মিলিটারি পুলিশ সেন্টার এন্ড স্কুলের (সিএমপিসিএন্ডএস) মাঠে দু’টি বড় পর্দায় দেখানো হয়।

‘লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই পতাকা, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই পতাকা হচ্ছে একটি জাতির স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। এই পতাকার মান রক্ষা করা, প্রত্যেকেরই দায়িত্ব। প্রতিটি সৈনিক এবং আমি মনে করি সকল জনসাধারণ সবারই দায়িত্ব এই পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা।

কারণ এটাই হচ্ছে আমাদের একটা প্রতীক, আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের। আর জাতীয় পতাকা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যেকোন ইউনিটের জন্য একটি সম্মান ও গৌরবের বিষয়।’

দেশ মাতৃকার সেবাই বেশি গৌরবের
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে যাতায়াত সীমিত হয়ে গেছে। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চেয়েছি, আপনারা সময়মতো যেন পতাকাপ্রাপ্তির অধিকারটা অর্জন করেন, যেন বি ত না হন। আপনারা এই গৌরব অর্জন করেছেন, আমি আশা করি, জাতির আস্থা বিশ্বাস অটুট থাকবে, দেশ সেবায় আপনারা আত্মনিয়োগ করবেন।

দেশ মাতৃকার সেবা করাটাই হচ্ছে সবথেকে বেশি গৌরবের। কাজেই আপনারা সেইদিকেই বিশেষ মনোনিবেশ করবেন।’

সংবিধান উপহার দিয়েছেন জাতির পিতা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘একটি কথা সবসময় মনে রাখতে হবে, আমাদের সংবিধান স্বাধীনতার পর মাত্র নয় মাসের মধ্যে জাতির পিতা আমাদের এই সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন। যে সংবিধানে একটি রাষ্ট্র পরিচালনার সব নির্দেশনা দেয়া আছে। কাজেই সংবিধানকে সমুন্নত রেখে দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো।’

করোনা সঙ্কটে ভূমিকায় সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ
করোনা সঙ্কটে বিশেষ ভুমিকার জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী সবসময় মানুষের পাশে আছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। করোনাভাইরাসে দীর্ঘ কয়েকমাস যাবত আমাদের সেনাবাহিনী ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’

সরকারি অর্থ খরচে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ
করোনা মহামারি আবার দেখা দিলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশিষ্ট কর্মকর্তাদের সরকারি অর্থ খরচ করার বিষয়ে সর্বোচ্চ মিতব্যয়ী হওয়ার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মিতব্যয়ী হতে হবে। ঠিক যেটুকু আমাদের নেহায়েত প্রয়োজন তার বেশি এখন কোনো পয়সা খরচ করা চলবে না। এবার ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি।

যেটা দেওয়া খুব কঠিন ছিল। তবু আমরা দিয়েছি, তারপরও বলেছি যে অর্থ খরচের ব্যাপারে সবাইকে একটু সচেতন থাকতে হবে। কারণ করোনা ভাইরাস যদি আবার ব্যাপক হারে দেখা দেয় তাহলে আমাদের প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বিশেষ অতিথি হিসেবে ১, ৩, ৬ ও ৮ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, এডহক ১১ বীর (মেকানাইজড), ১২ বীর, ১৩ বীর, ১৫ বীর (সাপোর্ট ব্যাটালিয়ন), ৫৯ ইস্ট বেঙ্গল (সাপোর্ট ব্যাটালিয়ন) এবং স্কুল অব ইনফ্র্যান্টি এন্ড ট্যাকটিসকে (এসআইএন্ডটি) জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ বক্তব্য শেষে তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন সেনাপ্রধান। এ সময় আর্টডকের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্’র (বিইউপি) উপাচার্য মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহা-পরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো.সাইফুল আলম, মেজর জেনারেল শেখ পাশা হাবিব উদ্দিন, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক, ঢাকা সেনানিবাসের এরিয়া কমান্ডার (লজিস্টিক এরিয়া) মেজর জেনারেল মো.মোশফেকুর রহমান, মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ খায়রুল বাশারসহ সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএ/এএমকে

Print Friendly, PDF & Email