নতুনত্ব, স্বকীয়তায় ভাস্বর প্রধানমন্ত্রী; সেনাবাহিনীকে দেশপ্রেম-পেশাদারিত্ব বজায়ের আহ্বান

প্রকাশিতঃ 6:55 pm | October 11, 2020

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো, সাভার ঘুরে এসে :

মাথায় ষোল কোটি বাঙালির গর্ব-অহঙ্কারের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জলপাই রাঙা ক্যাপ। নিজের সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে নির্ধারিত সময়েই ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাতে অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত লিখিত বক্তব্য। কিন্তু তিনি যে বক্তব্য উপস্থাপন করলেন সেটি লিখিত নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: সেনাবাহিনী দেশের সম্পদ, জাতীয় পতাকা মর্যাদার প্রতীক : প্রধানমন্ত্রী

সহজ, সাবলীল ও স্বাভাবিকভাবেই দূরদৃষ্টির পরিচয়বহ, নির্মোহ বস্তুনিষ্ঠ, দিক নির্দেশনামূলক ও সুমিত ভাষায় জ্ঞানোদ্দীপক ২৪ মিনিটের এক বক্তব্যে কালের বিবর্তনে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় শক্তিশালী ও সক্ষম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কথা যেমন বলেছেন তেমনি বীর সেনাদের সৎ ও মঙ্গলময় জীবনের প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন।

সেনাবাহিনীকে দেশপ্রেম ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করার আহ্বানও জানিয়েছেন। স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন দেশ মাতৃকার সেবাই সব থেকে গৌরবের।

জাতীয় পতাকার মর্যাদা, করোনা সঙ্কটে জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক রেখে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখা, খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ বা দেশের পররাষ্ট্র নীতি কোন কিছুই বাদ যায়নি বাঙালি জাতির আশা-আকাঙ্খার মূর্ত প্রতীক বঙ্গকন্যার অমূল্য-অনন্য এক ভাষণ থেকে।

প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যটি অন্যরকম নতুনত্ব ও স্বকীয়তায় ভাস্বর, যা তাৎপর্যপূর্ণ এবং অনুপ্রেরণা স ারী। স্বত:স্ফূর্তভাবেই নিজের মনের কথাই তিনি বলেছেন সেনাবাহিনী তথা দেশবাসীর উদ্দেশ্যে। আর হবেই বা না কেন? সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর পরিবারের সম্পর্ক নিবিড়, অবিচ্ছেদ্য।

নিজের ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা শেখ জামালের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া আর দশ বছর বয়সী ছোট্ট রাসেলের সেনা কর্মকর্তা হওয়ার ইচ্ছার কথা বলতে গিয়ে তাই ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যার হৃদয়-মন। মুহুর্তেই বেদনায় ভারী হয়ে উঠে গণভবন থেকে অনুষ্ঠানস্থল সাভারের কোর অব মিলিটারি পুলিশ সেন্টার এন্ড স্কুলের পরিবেশও।

অশ্রুতে ছলছল করে উঠে এ মাঠেই ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকা সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ উপস্থিত সবার চোখ। কিন্তু ষোল কোটির বাংলাদেশই যে তাঁর শক্তি। দেশের মানুষের প্রতি তাঁর অগাধ আস্থা এবং বিশ্বাস।

ফলে মানসিকভাবেই আবার নিজের ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তার কথাই জানান দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আশাবাদী উচ্চারণের মধ্যে দিয়ে সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে নিজের স্বপ্ন-আকাঙ্খার কথাও উচ্চারণ করেন।

বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী বা আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সবসময় আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত সুপ্রশিক্ষিত একটি সেনাবাহিনী গড়ে উঠুক। যেটা জাতির পিতা তার ১৯৭৪ সালের প্রতিরক্ষা নীতিমালাও বলে গেছে। কাজেই সেভাবে আমরা গড়ে তুলতে চাই।’

এসব ঘটনা প্রবাহ রোববারের (১১ অক্টোবর)। এদিন সকাল সাড়ে ১০ টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ টি ইউনিট ও একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পতাকা (ন্যাশনাল ষ্ট্যান্ডার্ড) প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের নবতর চেতনায় কোটি কোটি মানুষের হৃদয়কেই প্লাবিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাভারের নবম পদাতিক ডিভিশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি স্থানীয় কোর অব মিলিটারি পুলিশ সেন্টার এন্ড স্কুলের (সিএমপিসিএন্ডএস) মাঠে দু’টি বড় পর্দায় দেখানো হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বিশেষ অতিথি হিসেবে ১, ৩, ৬ ও ৮ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, এডহক ১১ বীর (মেকানাইজড), ১২ বীর, ১৩ বীর, ১৫ বীর (সাপোর্ট ব্যাটালিয়ন), ৫৯ ইস্ট বেঙ্গল (সাপোর্ট ব্যাটালিয়ন) এবং স্কুল অব ইনফ্র্যান্টি এন্ড ট্যাকটিসকে (এসআইএন্ডটি) জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ বক্তব্য শেষে তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন সেনাপ্রধান। এ সময় আর্টডকের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্’র (বিইউপি) উপাচার্য মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহা-পরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো.সাইফুল আলম, বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল শেখ পাশা হাবিব উদ্দিন, কমান্ড্যান্ট এসআই&টি মেজর জেনারেল মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক, ঢাকা সেনানিবাসের এরিয়া কমান্ডার (লজিস্টিক এরিয়া) মেজর জেনারেল মো.মোশফেকুর রহমান, মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ খায়রুল বাশার, আইএসপিআর’র পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদসহ সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email