হাসুমনি’র হাত ধরেই স্বপ্নের সোপানে লাল সবুজের বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ 2:54 pm | September 28, 2020

আশিকুল পাঠান সেতু, ফিচার এডিটর, কালের আলো :

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর। মমতাময়ী জননী, স্নেহময়ী ভগিনী, বাংলার গণমানুষের আস্থার শেষ ঠিকানা দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন।

১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রথম সন্তান।

আরও পড়ুন: সাদামাটা, অনন্য শেখ হাসিনা; এক যুগ পর জন্মদিনে নিজ দেশে

বঙ্গবন্ধুর প্রিয় হাসুমনি’র রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় জাতির জনকের আদর্শে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের হাত ধরে। ইডেন মহিলা কলেজের নির্বাচিত ভিপি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি লাভকারী শেখ হাসিনা তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট, ইতিহাসের জঘন্যতম একটি দিন। যেদিন বাঙ্গালী জাতির কপালে সবচেয়ে বড় কালিমা লেপন হয়েছিলো এই জাতির কিছু কুলাঙ্গারদের হাতে। বড় অভিমান বুকে নিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন বাঙ্গালী জাতির পিতা। এই জাতির প্রতি উনার সেই আত্মবিশ্বাসী উক্তি ,”These are my own children and they won’t harm me” মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলো সেদিন। বিশ্বের ইতিহাসে জঘন্যতম অধ্যায়ের জন্ম দিয়ে সেদিন সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিলো এ জাতির স্বপ্নদ্রষ্টাকে।

আরও পড়ুন: শুভ জন্মদিন, বিশ্বময় বিশ্বনেতা শেখ হাসিনা

দেশের বাইরে অবস্থান করায় সৌভাগ্যক্রমে বেচে যান দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
১৯৭৫ সালের রক্তাক্ত অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন দেশে এক কলঙ্কময় পরাধীনতার শৃঙ্খল সৃষ্টি হয়েছিলো।

প্রায় ৬ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নেন বঙ্গবন্ধুর জেষ্ঠ্য কন্যা শেখ হাসিনা।

স্বদেশের মাটিতে পা রেখে আবেগাপ্লুত বঙ্গবন্ধুকন্যা লাখো জনতার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,
‘পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই।

আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে চাই, বাঙালি জাতির আর্থ-সামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই।’

সেই থেকে আজ অবধি দীর্ঘ ৩৯ বছর যাবত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে নেতৃত্ব দিয়ে অসাম্প্রদায়িকতা এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির পুরোধা হিসেবে বিশ্বরাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজেকে।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে ২১ বার হত্যার চেষ্টা, মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় বেঁচে গেছেন বারবার

পিতা মুজিবের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করতে তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাকে ২১বার প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে ন্যাক্কারজনক প্রচেষ্টা চালায় ৭১’এর পরাজিত শক্তির দোসররা। কিন্তু ওরা পারেনি মুক্তিকামী বাঙ্গালীদের আস্থার ঠিকানা শেখ হাসিনাকে দমিয়ে রাখতে।

কারণ জাতির পিতার রক্ত যার ধমনী দিয়ে প্রবাহিত সেই অসীম সাহসী কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরেই লাল সবুজের এ দেশ এগিয়ে চলেছে স্বপ্নের সোপানের পানে।

তার নেতৃত্বে বর্তমানে টানা তৃতীয় মেয়াদসহ মোট চারবার আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। এই চার বারই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বিরোধী দলের নেতা ছিলেন তিনবার।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বহুবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে, দীর্ঘসময় কারান্তরীন থাকাসহ অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে এখনকার শক্ত অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

জাতির প্রতিটি দুর্যোগময় পরিস্থিতি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনিপুণ দক্ষতা, বিচক্ষণতা ও সাহসিকতার সঙ্গেই মোকাবিলা করেন। প্রতিটি দুর্যোগে এই জাতির আশার বাতিঘর হয়ে তিনি আবির্ভূত হন।

গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলে। তার নেতৃত্বেই দলটি দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখে। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসক এরশাদের পতন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়।

মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়সহ গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে কয়েকবার গৃহবন্দি হয়েছেন শেখ হাসিনা।

ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেফতার হয়ে প্রায় ১১ মাস বিশেষ কারাগারে কারাবন্দিও ছিলেন তিনি।

নানা আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে হটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ মহাজোট তিন-চতুর্থাংশ আসনে বিশাল জয় পেয়ে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করে।

যার দূরদর্শীতা ও অদম্য মানসিকতা এবং বাস্তবমুখী পদক্ষেপ বাংলাদেশকে মহামারী করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনন্য ভূমিকা পালন করে যা বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে।

তিনিই একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান যিনি বৈশ্বিক মন্দার সময়েও দৃপ্ত কন্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন ‘একদিকে যেমন করোনা মোকাবেলা করবো, পাশাপাশি দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করবো।

তারা যেন কষ্ট না পায় সেজন্য যা যা করণীয় করে যাবো। আমি তো এখানে বেঁচে থাকার জন্য আসিনি। আমি তো জীবনটা বাংলার মানুষের জন্য বিলিয়ে দিতে এসেছি, এটাতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভয়ের কী আছে?’

করোনা মহামারীতে যখন বিসজ্বের সকল বাঘা বাঘা রাষ্টপ্রধানরা অসহায়ভাবে নতি স্বীকার করে নিয়েছেন সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ধৈর্য্য, কঠোর পরিশ্রম ও অনন্য নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে বিশ্বের রাঘববোয়াল রাষ্ট্র প্রধানদের কাছেও অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।

আজ আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীর ৭৪ তম জন্মবার্ষিকী তে তার দীর্ঘায়ু কামনা করি এবং এই বিশেষ দিনটিতে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে প্রত্যাশা:-
দেশরত্ন শেখ হাসিনার মতো করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ একটি সৎ, মেধাবী, শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্ম। যারা বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জানবে,বঙ্গবন্ধুকে জানবে, মুক্তিযুদ্ধকে জানবে, দেশরত্ন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও মানবিক দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের সততা, মেধা, শ্রম ও কর্মদক্ষতা দিয়ে গড়ে তুলবে আগামী প্রজন্মের বাসযোগ্য কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা।’

শুভ জন্মদিন বিশ্বের বুকে বাঙালী জাতির অস্তিত্বের পরিচায়ক, মানবিক নেতৃত্বের রোলমডেল, অসহায়ের সহায়, মুসলিম বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল, বিশ্বনেতৃত্বের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, শান্তির পতাকা হাতে নিয়ে মানবজাতির জন্যে আলোকময় ভবিষ্যতের পথের সন্ধানকারী, বাংলার গণমানুষের ভরসার ঠিকানা, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

আমরা গর্বিত আপনার একজন কর্মী হতে পেরে। আপনার হাত ধরেই বাঙালী’রা জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌছে যাবে এই কামনা করি।

মানবজাতির ইতিহাসে আপনার নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি সময়ের সাথে সাথে এই নাম যেনো উজ্জ্বল থেকে আরো উজ্জ্বলতর হয়।

আপনি শুধু বাংলার মানুষের নেত্রীই নন, আপনি বিশ্বের বুকে এক অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। বেঁচে থাকুন হাজারো বছর। শুভ জন্মদিন প্রাণপ্রিয় নেত্রী।

কালের আলো/এপিএস/পিএমকে

Print Friendly, PDF & Email