ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, সদস্যদের অনাস্থা

প্রকাশিতঃ 10:29 am | September 10, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা, স্বজনপ্রীতি ও সদস্যদের প্রতি অসদাচরণের অভিযোগে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রদান করেছেন পরিষদের সদস্যরা। এতে ২০ সদস্যের মধ্যে ১৭ জন সদস্য সম্মতি জানিয়ে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন। আর বাকিদেরও সম্মতি রয়েছে বলে জানান উপস্থিত অন্য সদস্যরা।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর কাছে গত ৩ সেপ্টেম্বর জেলা পরিষদের ১৭ জন সদস্য স্বাক্ষরিত এ অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়।

বুধবার(১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মমতাজ উদ্দিন মন্তার সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের প্যানেল মেয়র-২ আবদুল খালেক।

এতে বক্তারা অভিযোগ করেন, ইউসুফ খান পাঠান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১২ শতাংশ হারে ঘুষ নেন।

জেলা পরিষদের সদস্যদের দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠান প্রথম সভা থেকেই সদস্যদের প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য ভাব প্রদর্শন করছেন। সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাচারীভাবে বহু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিষদের নিজস্ব স্থাপনায় একই প্রকল্পে

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিবছর বরাদ্দ দিয়ে পরিষদের আর্থিক ক্ষতি করেছেন। ব্যক্তিস্বার্থে প্রথম থেকেই তিনি জেলার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে অন্য এলাকাকে বঞ্চিত করেছেন। জেলা পরিষদসহ বহু কাজে আত্মীয়স্বজনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। শুরু থেকেই ঠিকাদার ও প্রকল্প কমিটির সভাপতির কাছ থেকে উন্নয়ন বরাদ্দের ওপর ১২ শতাংশ হারে ঘুষ নিচ্ছেন চেয়ারম্যান। তার এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সদস্যরা একাধিকবার প্রতিবাদ করলে তিনি সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরিবর্তন হননি। গত ১৭ আগস্ট পরিষদের এক সভায় চেয়ারম্যান স্বেচ্ছাচারীভাবে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিতে থাকলে সদস্যরা প্রতিবাদ করেন। এতে চেয়ারম্যান সভাস্থল ত্যাগ করে আর ফেরেননি।

জেলা পরিষদ সদস্য মো. একরাম হোসেন বলেন, সদস্যদের অবমূল্যায়ন, উন্নয়ন কাজে পার্সেন্টেজ নেওয়ায় নিম্নমানের কাজ, নির্দিষ্ট এলাকায় প্রকল্প দেওয়ায় তারা অনাস্থা এনেছেন। এতে ২০ জন সদস্যের মধ্যে ১৭ জন স্বাক্ষর করেছেন।

এ সময় সংরক্ষিত নারী সদস্য জোসনারা মুক্তি, আসমাউল হোসনা, সদস্য তাজুল ইসলাম বাবুল, একরাম হোসেন ভূঁইয়া, রুহুল আমীন, আবদুল্লাহ আল মামুন, এইচএম খায়রুল বাসার, মোজাম্মেল হকসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এক সদস্য দেশের বাহিরে ও একজন অসুস্থ থাকায় তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারেননি বলেও তারা জানান।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠান বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ করে জিনিস কিনে দেওয়ার বিধান; কিন্তু সদস্যরা নগদ টাকা দাবি করেন। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পসমূহ সম্পর্কে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের অবগত করার বিষয়েও আপত্তি রয়েছে সদস্যদের। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। সদস্যদের সঙ্গে চলমান সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলেও তা হয়নি। তাকে হেনস্তা করার জন্য এমনটি করা হচ্ছে।

কালের আলো/এসবি/এমকেআর

Print Friendly, PDF & Email