জালিয়াতির পরীক্ষা, ভুয়া ডাক্তার ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

প্রকাশিতঃ 10:09 am | July 29, 2020

আবদুল মান্নান:

করোনাকালে দেশে যে ক’টি বিষয় সার্বক্ষণিক আলোচনার বিষয় হিসেবে গণমাধ্যমের সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে তার মধ্যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত শীর্ষে আছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হলো পাঁচ বছর আগে মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছিল তা সত্য বলে প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এই প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে একটা পুরনো প্রসঙ্গে ফিরে যাই। সালটা ১৯৯৯ হবে, মানে প্রায় বিশ বছর আগে। তখন আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। রমজান মাস। ঢাকায় অবস্থিত একটি দূতাবাস হতে ফোন এলো। জানালো তাদের একজন কর্মকর্তা আমার সঙ্গে আমার সময়মতো দেখা করতে চান। তাদের বলি তিনি তার সুবিধামতো যেকোনও সময় আসতে পারেন। দিন দুয়েক পর তিনি আমার অফিসে হাজির।

পরিচয় পর্ব শেষে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপ মারা গোটা কুড়ি সার্টিফিকেট দিয়ে বললেন তাদের দেশ বাংলাদেশসহ আরও কিছু দেশ হতে পেশাদার ডাক্তার, প্রকৌশলী ও কৃষিবিদ নেবে বলে আবেদনপত্র আহ্বান করেছিল। তারা বাংলাদেশ থেকে অনেক আবেদন পেয়েছে। তিনি তার দেশের একজন অভিবাসন কর্মকর্তা। এসেছেন বাংলাদেশ হতে আবেদনকারীদের সার্টিফিকেটগুলোর সত্যতা যাচাই করতে, কারণ এর আগে বাংলাদেশসহ আরও কিছু দেশের ভুয়া সার্টিফিকেটের সন্ধান পেয়েছিল তাদের দফতর। তিনি এমবিবিএস-এর গোটা কুড়ি সার্টিফিকেট রেখে গেলেন। তখন চট্টগ্রাম বিভাগের সকল মেডিক্যাল কলেজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। অনুরোধ করেন একটু যাচাই করে তাদের ঢাকার ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতে। তিনি এই কাজের জন্য ফিও দিতে চাইলেন। বলি, এই ধরনের কাজের জন্য আমাদের ফি নেওয়ার কোনও খাত নেই। এই কাজ বিনা ফিতে করে দেওয়া হবে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেলো দু’তিনটি ছাড়া বাকি সবই জাল সার্টিফিকেট।

সবগুলোর একটা প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়ে দেই। সপ্তাহ দুয়েক পর ভদ্রলোক বাংলাদেশ ছাড়ার আগে আমাকে ফোন করে ধন্যবাদ জানান। তার কাছ হতে জানতে পারি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। সকলে তাকে খুব সহায়তা করেছেন এবং ফলাফল কমবেশি সব সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে একইরকম। তিনি কিছুটা হতাশা প্রকাশ করলেন, আর আমি কিছুটা লজ্জিত হলাম। দেশে বা বিদেশে খুঁজলে এমন ভুয়া পেশাদার অসংখ্য পাওয়া যাবে। সব পেশায় জালিয়াতি থাকলেও চিকিৎসা পেশায় জালিয়াত থাকাটা অনভিপ্রেতই শুধু নয়, এটি ফৌজদারি অপরাধ, কারণ একজন মানুষ একজন চিকিৎসকের কাছে যায় নিজের বা পরিবারের কোনও সদস্যের চিকিৎসার জন্য। ভুল চিকিৎসার কারণে কোনও রোগীর মৃত্যু হলেও মানুষ তা মেনে নেয়, কারণ চিকিৎসাটা ভুল ছিল না সঠিক ছিল তা জানার কোনও উপায় থাকে না।

বাংলাদেশে বর্তমানে যারা চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ালেখা করতে চায় তারা সরকারি বা বেসরকারি যেকোনও কলেজে পড়তে পারে। বলতে পারি দু’একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে বেশিরভাগ বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের অবস্থা ভালো নয়। হয় যোগ্য শিক্ষকের অভাব অথবা সুযোগ-সুবিধার প্রচণ্ড ঘাটতি। এদের ওপর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরদারি তেমন একটা নেই। অবশ্য যারা বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের মালিক তারা কখনও এই সত্যটা স্বীকার করতে চাইবেন না।

একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। ২০১৭ সালের কথা। আমার মা বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ। চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করালাম। মাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হলো। নাকের ভেতর দিয়ে এনজি টিউব ঢুকানো হলো। অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলে কেবিনে নিয়ে আসা হলো। একপর্যায়ে আমার মা এনজি টিউবটি বের করে ফেলেন। দেখা গেলো টিউবটির ভেতরে থাকা অংশটির মধ্যে রক্ত লেগে আছে। ডিউটি ডাক্তারকে গিয়ে বলি। দেখেশুনে বললেন চিন্তার কারণ নেই। এরকম হতে পারে, ঠিক হয়ে যাবে। কীভাবে ঠিক হবে তা বুঝি না। অন্য ওয়ার্ড হতে আমার একজন পরিচিত ডাক্তারকে ডেকে আনি। দু’জনই বয়সে তরুণ। পরের জন এসে দেখেশুনে বললেন সম্ভবত এনজি টিউবটি ফুসফুসে লেগে থাকার কারণে ব্লিডিং হয়েছে। পরে জেনেছি দুই ডাক্তারের মাঝে তফাৎ হচ্ছে প্রথম জন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে পাস করেছেন আর পরের জন সরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র ছিল। এই ঘটনার কারণে আমার মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে যায়। কিছুদিন পর মা আমাদের ছেড়ে চলে যান।

বর্তমান করোনাকালীন চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে সকলে বেশ সমালোচনা মুখর। যে ক’টি হাসপাতাল ইতোমধ্যে করোনার জাল সার্টিফিকেট দেওয়ার বা অন্যান্য নানা অপকর্মের দায়ে অভিযুক্ত তার সব কটিই বেসরকারি খাতে প্রতিষ্ঠিত, দামি পাঁচ তারকা আর রিজেন্ট মার্কা সব একই। এদের বেশ কয়েকটির সঙ্গে আবার কলেজও আছে। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে এই প্রতিবেদন। প্রথমে এই তদন্তে যারা নিয়োজিত ছিলেন তাদের পাঁচ বছর পর হলেও প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নতুন কিছু নয়। আগেও এমনটা ঘটেছে এবং একই জালিয়াত গোষ্ঠী জড়িত ছিল। এর আগের কোনও ঘটনারই প্রতিকার হয়নি। সব সময বিষয়টা অস্বীকার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই ফাঁস কেলেঙ্কারির সঙ্গে একটি জালিয়াত চক্র জড়িত ছিল। জানা গেছে কমবেশি তারা একই পরিবারের সদস্য। ফাঁস হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেসের মেসিনম্যানের মাধ্যমে। স্বাস্থ্য অধিদফতর অনেক দিন ধরো বেপরোওয়া দুর্নীতির আর অব্যবস্থপনার কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে লাইফ সপোর্টে। মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন এখানেই ছাপা হতো। উল্লিখিত বছরে এই চক্রের মাধ্যমে শত শত শিক্ষার্থী অর্থের জোরে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভর্তি হন। এরা বর্তমানে তাদের শিক্ষা জীবনের শেষ পর্যায়ে আছেন। এই প্রশ্নপত্র একেকটি ১০ থেকে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যেসব জালিয়াতি চক্র এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তারা একেক বছর কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই টাকার জোগানদাতা নিশ্চয় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। এক শ্রেণির অভিভাবক আছেন যারা তাদের সন্তানদের সব সময় এই ধরনের অনৈতিক কাজে উৎসাহ জোগান ও সহায়তা করেন। যারা ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র দিয়ে মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছিল আগের কয়েকটা ব্যাচ যারা এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ পেয়েছে তার পাস করে এখন রীতিমতো ডাক্তার। স্বাস্থ্য খাতের মতো নৈরাজ্য অন্য কোনও খাতে তেমন একটা দেখা যায় না। থাকলেও সেই খাত সরাসরি মানুষের জীবন মরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তবে ওষুধ খাতেও যে জালিয়াতির কারবার চলছে তাও ভয়ংকর।

বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষ প্রতিবছর ভারত, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক বা অন্য দেশে যে চিকিৎসা সেবা নিতে যায় তাদের কি খুব বেশি দোষ দেওয়া যায়? অবশ্য ভারতের সব হাসপাতালে যে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা দেয় তাও নয়। এই মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কিছুটা সত্য যদিও সেখানে উঁচু মানের হাসপাতালও আছে। ১৯৯৭ সালে আমি চিকিৎসা নেওয়ার জন্য কলকাতার একটা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। আমাকে যিনি একটা ছোট অপারেশন করেছিলেন তার নাম ডা. অভিজিৎ চ্যাটার্জি। অপারেশনের পর প্রতিদিন তিনি আমার কেবিনে এসেছেন। আমার খোঁজ খবর নিয়েছেন। জানিয়ে দিয়েছেন সাত দিন পর আমার ছুটি। বলি আমাকে দু’দিন বেশি থাকতে হবে কারণ তখন কলকাতা-চট্টগ্রাম সপ্তাহে বিমানের ফ্লাইট ছিল দুদিন। তিনি জানালেন সাত দিন পর আমি আর তার রোগী নই, তবে তিনি আসবেন প্রতিদিন আমাকে দেখতে। এসেছেন প্রতিদিন যেমন আসেন তার দু’জন জুনিয়র সহকর্মীকে নিয়ে। যাওয়ার সময় বিল দেওয়ার সময় দেখি তার কেবিন ভিজিটের বিল সাত দিনের, প্রতিদিন দেড়শত রুপি। সব দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যিনি থাকেন তিনি সাধারণত একজন চিকিৎসক হন। আমাদের দুর্ভাগ্যে দু’একবার ছাড়া তেমনটা আমাদের দেশে ঘটেনি। পুরো খাত একটি ক্ষমতাধর ব্যবসায়ী শ্রেণি ও সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি। সরকার যেই আসুক এই সিন্ডিকেট সব সময় একই থাকে। এদের হাত অনেক লম্বা। এর মাশুল দিতে হয় সাধারণ মানুষকে, যারা চিকিৎসা নিতে যান তাদের।
শুরু করেছিলাম আমার মায়ের কথা দিয়ে। শেষ করি নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে। ২২ মার্চ হতে নিজে সেল্ফ কোয়ারেন্টিনে আছি। আমি বলি গৃহবন্দি। হঠাৎ গত মাসের ২০ তারিখ ইউরিন ইনফেকশনের সমস্যা নিয়ে একটি তারকা খচিত বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ডাক্তার বেশ ক’টি পরীক্ষা দিলেন। তার মধ্যে একটি আল্ট্রাসোনোগ্রাম আর একটি ইউরিন ফ্লো টেস্ট।

অনেক পানি খেতে হয়। ডেস্কে খোঁজ নিয়ে জানলাম যিনি টেস্ট করবেন তিনি আসেননি। মোট ছয়টি বুথে টেস্ট করা হয়। একজনও আসেননি। আমাকে বললেন পানি পান করতে। পানি পান করছি। প্রায় তিন লিটার পান করার পর আমার ডাক পড়লো। এরই মধ্যে আমার পানি বের হয়ে যেতে শুরু করলো মুখ দিয়ে, ওয়াশ রুমে গেলাম। এরপর আবার ডাক পড়লো ইউরিন ফ্লো টেস্টের জন্য। জিজ্ঞেস করলো এর মধ্যে ওয়াশ রুমে গেছি কিনা? গেছি বলাতে বললো এখন টেস্ট করা যাবে না আবার পানি পান করতে হবে। এই বিষয়টা প্রথমে বলে দিলেই হতো। আবার তিন লিটারের মতো পানি পান করলাম, মানে খালি পেটে মোট ছয় লিটার। টেস্ট হলো। এর মধ্যে আমার অবস্থা বেগতিক। বমি করা শুরু করলাম তারপর শুরু হলো কাঁপুনি। আবার ডাক্তারের কাছে গেলাম। তিনি লিখে দিলেন ইলেকট্রোলাইট টেস্ট করতে। আল্ট্রাসোনো, তারপর ইউরিন ফ্লো টেস্ট করিয়ে গেলাম ওই টেস্ট করাতে। ততক্ষণে আমার অবস্থা খারাপ। টেস্টের রেজাল্ট পাওয়া গেলো বিকেল নাগাদ। দেখা গেলো আমার পানি বমির সঙ্গে শরীরের সব লবণ বের হয়ে গেছে। বললেন, হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। তবে তার আগে করোনা টেস্ট। তাই হলো। এখন ভর্তি হতে হবে অন্যান্য সম্ভাব্য করোনা রোগীদের সঙ্গে আইসোলেশন ওয়ার্ডে। টেস্ট রেজাল্ট আসতে সময় লাগে। তাদের বলি অপেক্ষা করবো। সম্ভাব্যদের সঙ্গে ভর্তি হতে নারাজ। সেই টেস্টের ফল পাওয়া গেলো মোবাইলের মেসেজে দু’দিন পর। বলা হলো ভর্তি হতে। আমার লোক রেজাল্টের কপি আনতে গেলে তাকে বলা হলো তারা হার্ড কপি দেয় না। অথচ তারা টেস্টের জন্য টাকা নিয়েছে। শুনেছি এইসব হাসপাতালে ডাক্তারদের ওপর কর্তৃপক্ষের নির্দেশ থাকে রোগীদের প্রকৃতপক্ষে মুরগির মতো দেখতে হবে এবং তাদের কাছ হতে নানা ছলচাতুরি অজুহাতের মাধ্যমে অর্থ আদায় করতে হবে। সে কারণেই অনেক সময় দেখা যায় মৃত রোগীকে লাইফ সাপোর্টে দিয়ে রাখা হয়। আবার করও মৃত্যু হলে তাদের হাতে একটা লম্বা বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই লম্বা বিল পরিষোধ করতে না পারলে মৃতদেহকে জিম্মি করা হয়। বছর কয় আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক মাঝ রাতে গুরুতর অসুস্থ হলেন। তার স্ত্রী তার অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে উপরে বর্ণিত হাসপতালে ছুটলেন। ইমার্জেন্সিতে নিয়ে গেলে ডিউটি ডাক্তার জানালেন রোগীকে ভর্তি করতে হবে। স্ত্রী সায় দিলেন। তাকে বলা হলো পঞ্চাশ হাজার টাকা জমা করাতে। তিনি ছুটলেন ক্যাশ কাউন্টারে। সেখানে তার ক্রেডিট কার্ড দিলে তাকে জানানো হলো কার্ড নেওয়ার লোক নেই ক্যাশ দিতে হবে। রাত ৩টায় কোথায় এত টাকা পাওয়া যাবে? তিনি ইমার্জেন্সিতে ফিরে এসে জানালে তাকে বলা হলো টাকা জমা না হলে ভর্তি করানো যাবে না। তারা ব্যাংক না খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। এরই মধ্যে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে গেলো। সকাল ৭টায় বিনা চিকিৎসায় শুধু ভর্তির টাকা জমা দিতে না পারায় ওই শিক্ষক মারা গেলেন।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলো উল্লেখ করতে হলো দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কত ভয়াবহভাবে খারাপ তা জানানোর জন্য। এই দেশে ওয়ার্ডবয় সার্জারি করতে পারে। আয়া বাচ্চা ডেলিভারি করে। মেট্রিক পাস করে বছরের পর বছর ডাক্তারের সাইনবোর্ড লাগিয়ে ব্যবসা করে। স্বাস্থ্য খাতের আর একটা ভিন্ন চিত্র হচ্ছে এই করোনাকালে অনেক চিকিৎসক, নার্স, টেকনেসিয়ান নিজের জীবন বাজি রেখে রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিজে রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। আর এই যে এই খাতটা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে তা কিন্তু একদিনে হয়নি। তবে এটি ঠিক করতে যোগ্য মানুষকে যথাস্থানে পদায়ন করতে হবে। বাংলাদেশের অনেক খাত ভঙ্গুর হলেও স্বাস্থ্য খাতকে বর্তমান অবস্থায় থাকতে দেওয়া আত্মঘাতী হবে।

যারা এই ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে ভর্তি হয়েছিল গোয়েন্দা সংস্থা তাদের বেশ ক’জনকে শনাক্ত করেছে। বাকিগুলোকেও শনাক্ত করে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হোক এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এটা সচেতন মানুষের ন্যূনতম দাবি।

লেখক: বিশ্লেষক ও গবেষক

Print Friendly, PDF & Email