কী কারণে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন?

প্রকাশিতঃ 11:07 am | July 06, 2024

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

বাংলাদেশ পুলিশে সবচেয়ে ‘জনপ্রিয়’ এবং ‘গ্রহণযোগ্য’ তকমাটি তাঁর ক্ষেত্রে ব্যবহার করলে ভুল বলা হবে না মোটেও। উজ্জ্বল-বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের জ্যোতির্বলয়ে তিনিই একমাত্র আইজিপি যিনি প্রথম ও দ্বিতীয়বারের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। বিরল এমন রেকর্ড বা কীর্তির অধিকারী ওয়ান এন্ড অনলি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। দেড় বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ শেষ হওয়ার মাত্র ৬ দিন আগে শুক্রবার (০৫ জুলাই) পুনরায় এক বছরের জন্য পুলিশপ্রধান হিসেবে তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। নতুন নয় পুরনো অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ওপরই আস্থা রেখেছেন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। প্রায় ১৯ মাস আইজিপি পদে দায়িত্ব পালনে সফলতা ও সব মহলে গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় পুনরায় পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে পুলিশের চলমান পরিস্থিতি শক্ত হাতে মোকাবিলা ও চেইন অব কমাণ্ড ধরে রাখার একমাত্র সক্ষমতা রয়েছে তাঁরই। তাছাড়া পুলিশ প্রশাসন এবং জনসাধারণের মধ্যে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আলাদা একটা ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে। পুলিশের মতো জনবান্ধব বাহিনীর ইমেজ ধরে রাখাসহ নানা বিষয় বিবেচনা রেখেই তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের সাবেক ও বর্তমান কয়েক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে পুলিশ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের নেতিবাচক আমলনামার তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। এমন কঠিন এক পরিস্থিতির মধ্যে নতুন কাউকে পুলিশপ্রধান হিসেবে বেছে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চায়নি সরকার। যদিও কোন ব্যক্তির দায় পুলিশ নিবে না বলে বিভিন্ন সময় সুর চড়িয়ে মন্তব্য করেছেন বর্তমান আইজিপি। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে কোন কলঙ্ক না থাকায় তাঁর ওপর জনসাধারণের প্রবল আস্থা রয়েছে। সাধারণ মানুষও তাঁর কথায় আশান্বিত হয়েছেন। প্রয়োজনের বাইরে অপ্রাসঙ্গিক কথা না বলা ও প্রকৃত শুদ্ধাচারে অভ্যস্ত চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের প্রশ্নাতীত সততা গোটা বাহিনীর সৎ ইমেজ তৈরিতে এখন প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে। তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটিও একটি বড় কারণ।

জানা যায়, ১২তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা আইজিপি হওয়া দৌড়ে আলোচনায় ছিলেন তাদের অনেকেরই অবসর সময় ঘনিয়ে এসেছে। ফলে তাদের মধ্যে থেকে কাউকে আইজিপি করা হলে সেখানেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়টি আসতো। আবার দায়িত্ব দিলে তাঁরা জটিল সময়ে নিজেদের কতটুকু মেলে ধরতে পারতেন এমন প্রশ্নও ঘুরেফিরে উঠছিলো। ফলে এ বিষয়গুলো সুবিধাজনক মনে করেনি সরকার। বরং বর্তমান আইজিপির চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটিই গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যোগ্যদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন তিনি সব সময়ই করেন, পাশাপাশি এটিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কোন বিতর্ক ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পুলিশ। এমনকি একটি সংসদীয় আসনে আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সহোদর ভাই, রানিং উপজেলা চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করলেও সেখানেও পুলিশের ভূমিকা ছিল নিরপেক্ষ। পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থেকেও এভাবে নিজেকে নিষ্কলুষ রেখে বিরল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন আইজিপি। বিষয়টি দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়। এ বিষয়টিও তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে ত্বরান্বিত করেছে।

সততা, পেশাদারিত্ব আর গভীর দেশপ্রেমের নির্যাসে বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা ও বিশ্বাসের কাপ্তান হিসেবেই চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশকে। শেষ পর্যন্ত তিনিই থেকে গেলেন তিন তারকা পদটিতে। ‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও, যাও গো এবার যাবার আগে’—কবিগুরুর এই অমলিন গানের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে সবাই যেন চেয়েছিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। সবার প্রত্যাশা ছিল- তিনি যেন বাংলাদেশ পুলিশকে রাঙিয়ে দিয়ে যান আরও কিছুটা সময় আপন আলোয়। হয়েছেও ঠিক তাই। শুক্রবার (০৫ জুলাই) এলো সুসংবাদ। সুনামগঞ্জের ধুলো পায়ে জড়িয়ে শুধু স্বপদে থাকা নয়—এ যেন নতুন অভ্যুদয়! বাংলাদেশ পুলিশের সোয়া দু’লক্ষ সদস্যের হৃদমাঝেই তাঁর বসবাস। নিজের ঈর্ষণীয় সৎ চাকরি জীবনে ধাপে ধাপে নিজেকে প্রমাণ করেই সেই পূর্ণতার গন্তব্যে প্রথম ও একমাত্র আইজিপি হিসেবে নামাঙ্কিত করেছেন নিজেকে। পৌঁছে গেছেন সাফল্যের সোনালী তোরণে।

অমর-অমলিন-অজর-অক্ষয় ইতিহাসের কারিগর চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশের দায়িত্বভার গ্রহণ করে সাফল্যময় অর্জনের প্রয়াসী হওয়ার সংকল্প নিয়েই যাত্রা শুরু করেছিলেন। অভিজ্ঞতার ঋদ্ধতায় অকপটে বলেছিলেন, ‘পুলিশের সেবা দেওয়ার মূল কেন্দ্র থানা। থানাই জনগণের জনগণের আস্থা ও ভরসার স্থান।’ সেদিন আইজিপি মনের অন্তর্গত অনুভূতিতে প্রভাতের সূর্যের মতোই যেন তাঁর স্বপ্নিল কার্যকর ঘোষণা, থানাকে সেবার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রূপ দেওয়ার। তিনি খোলনলচে পাল্টে আরও উজ্জ্বল করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়া ‘জন্মযোদ্ধা’ গর্বিত বাহিনীটিকে।

পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলের এই কারিগর থানার দায়িত্বশীলদের আইনি সক্ষমতা আর মানবিক মূল্যবোধকে গ্রোথিত করার পাশাপাশি সেবা প্রার্থীদের নির্ভয়ে থানায় আসতে পরিস্ফুট বার্তা দিয়েছিলেন। বহুমাত্রিক নেতৃত্বের বলিষ্ঠতায় বারবার বিজয়ী হয়েছেন। উজ্জ্বল আলোয় উদ্ভাসিত পথে হেঁটেছেন। নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অনেক অর্জন-সাফল্যকে মুঠোয় ভরেছেন। গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে দেশকে নিরাপদ, নিরুপদ্রব ও নিরুদ্বিগ্ন রাখতেও সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। এর আগে এলিট ফোর্স র‍্যাবের নেতৃত্বে থাকাকালীন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ের হাসি হেসেছেন। চাকরি জীবনের পুরোটা সময় নিবিষ্ট প্রগাঢ়, তীব্র এবং ঐকান্তিক থেকেছেন দেশের কল্যাণে, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বাংলাদেশ বিনির্মাণে। একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী ‘স্মার্ট পুলিশ’ গড়তে বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথেই জনবান্ধব পুলিশের অঙ্গীকার পূরণে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ থাকার বিষয়টিও যেন জানান দিয়েছেন একদিন-প্রতিদিন।

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email