বাসা ভাড়ার কৌশলে স্বর্ণ-টাকা হাতিয়ে নিতেন তারা

প্রকাশিতঃ 5:14 pm | June 04, 2024

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, কালের আলো:

খুলনা এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে একটি চক্র বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ভাড়া নিয়ে বাসার মালিক ও ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে কৌশলে চেতনানাশক মেডিসিন নাকে শুকিয়ে স্বর্ণ ও টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছিল। সেই চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে এই তথ্য।

সোমবার (৩ জুন) রাতে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ দুজনকে নরসিংদী থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। তারা হলেন মো. আলী হাসান সোহেল (৫৫) ও মোছা. সালমা (৫৩)।

এসময় তাদের কাছ থেকে একটি সোনর চেইন, দুটি সোনর কানের দুল, একটি ইমিটেশন নেকলেস, প্লাস্টার মোম, দুটি মোবাইল এবং নগদ ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

চক্রটি কমিল্লা, নরসিংদী, চট্টগ্রাম, যশোর, খুলনা ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটিয়া সেজে বাড়ির নারীদের সঙ্গে সখ্য তৈরি করত। পরে কৌশলে গহনা, টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিত।

মঙ্গলবার (৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম।

র‌্যাব জানায়, গত ৩০ এপ্রিল খুলনার বানরগাতী এলাকার ভাড়াটিয়া সেজে বাড়ির মালিকের স্ত্রীর থেকে কৌশলে স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় প্রতারক চক্রটি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

র‍্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার আরাফাত ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর স্বামী আব্দুর রহমানের খুলনার বানরগাতী এলাকায় একটি বাড়ি রয়েছে। রুম ভাড়া দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেখে গত ২৮ এপ্রিল স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দুজন এসে বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলেন। তখন গ্রেফতার আলী হাসান সোহেল জানান, তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন এবং বর্তমানে খুলনার মোহাম্মদ নগরে বাড়ি নির্মাণ করবেন। এজন্য কয়েক মাসের জন্য বাসা ভাড়া নিয়ে থাকবেন। বাসা ভাড়া চূড়ান্ত করে অগ্রিম ভাড়া বাবদ দুই হাজার টাকা পরিশোধ করে তারা চলে যান। এরপর ঘটনার দিন সকালে আলী হাসান সোহেল ও তার সহযোগী সালমা ওই ভবনের তৃতীয় তলায় যান। এসময় তাদের হাতে প্লাস্টিকের বালতিতে কিছু মাছ ও টুল ছিল। বাড়িতে এসে আলী হাসান ও সালমা ভুক্তভোগীকে জড়িয়ে ধরে খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করতে থাকেন। এসময় সালমা কৌশলে ভুক্তভোগীকে পঞ্চম তলার একটি রুমে নিয়ে গিয়ে গলায় ও হাতে থাকা সোনার গহনা খুলে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।

যেভাবে স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়া হতো

কমান্ডার আরাফাত জানান, গ্রেফতার আলী হোসেন চক্রটির মূলহোতা। এই চক্রের সদস্য সংখ্যা থেকে আটজন। আলী হোসেন ও তার মামা ৩-৪ বছর ধরে অভিনব কায়দায় মানুষের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিতেন। তারা বাসা ভাড়ার বিজ্ঞপ্তি দেখে বিভিন্ন বাসায় যেতেন এবং স্বর্ণালংকার পরিহিত নারীদের টার্গেট করতেন। তারা বাড়ি ভাড়ার অগ্রিম টাকা দিয়ে যাওয়ার কিছু দিন পরে বাসায় নারিকেল, দুধ, তাজা মাছ, ফলমূলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র উপহার হিসেবে নিয়ে যেতেন এবং সখ্য তৈরির চেষ্টা করতেন। পরে স্বর্ণালংকার পরিষ্কার করার কথা বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে গহনা নিয়ে প্লাস্টার মোম দিয়ে নিজেদের কাছে থাকা ইমিটেশনের স্বর্ণালংকার পরিষ্কারের অভিনয় করতেন।

তিনি জানান, একটি বালতিতে রিঠা ফল ভেজানো ফেনাযুক্ত পানিতে একটি প্লাস্টার মোমের দলা রাখা থাকতো। যাতে ফেনার জন্য ভুক্তভোগীরা দেখতে না পান। পরে অনুরূপ অন্য একটি প্লাস্টার মোমের দলার মধ্যে ভুক্তভোগীদের স্বর্ণালংকারগুলো ঢুকিয়ে এই দলাটিও একই বালতিতে রেখে দিতেন।

কালের আলো/ডিএইচ/কেএ

Print Friendly, PDF & Email