মালয়েশিয়া রুটে ‘ভাড়া নৈরাজ্য’, যা বললেন বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 9:09 pm | May 30, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

ঢাকা টু মালয়েশিয়া রুটে বিমান ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চলছে, এমন অভিযোগ অনেকের। বিষয়টি নিয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান বলেছেন, বিমান ভাড়ার বিষয়টা সাপ্লাইয়ার ও বিমানের ব্যাপার। যারা এটার সাথে জড়িত তারা ১ মাস আগে জানত। কিন্তু এটা নিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি বা অন্য সাপ্লাইয়াররা ব্যবস্থা নেয়নি।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার ২০-৩০ হাজার টাকার বিমানভাড়া লাখ টাকা হয়েছে, কেন এই বিশৃঙ্খলা— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গতকাল বুধবার মালয়েশিয়ার কিছু লোক ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ায় এয়ার কম্বোডিয়ার একটা এয়ারক্রাফট দিয়ে চার্টাড ফ্লাইট পরিচালনার পারমিশন চেয়েছে, গতকালকেই আমরা তাদের পারমিশন দিয়ে দিয়েছি। এটা এফিশিয়েন্ট আমরা মনে করি। বিমান যদি আরও আগে জানত, তাহলে ব্যবস্থা নিতে পারত। বর্তমানে বিমানের হজ ফ্লাইট চলছে, তবুও আমরা চেষ্টা করেছি সুযোগ দিতে।

এখন প্রতিদিন মালয়েশিয়ায় বিমানের ৩-৪টা করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

এর আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমি এ পর্যন্ত পরিদর্শনে যা দেখলাম, সব মিলিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট। টার্মিনাল ভবনটির কাজ খুব সুন্দর হয়েছে। তবে শুধু সুন্দর থাকলেই হবে না, এটি সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, মেনটেনেন্স ভালোভাবে করতে হবে। বাংলাদেশের আবহাওয়া বিবেচনা করলে এখানে ধুলোবালু রয়েছে, মাকড়সা-পাখি বাসা বাঁধার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা যেন এখানে বাসা বাঁধতে না পারে, নিয়মিত মেনটেনেন্স করতে হবে। জাপানি প্রতিষ্ঠানকে আমি এসব কথা বলেছি।

ভবনটা অনেক দৃষ্টিনন্দন হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর সফলতা নির্ভর করে এর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। আমি খুবই আশাবাদী, সিভিল অ্যাভিয়েশন এই টার্মিনালকে ভালোভাবে পরিচালনার জন্য কর্মীদের প্রস্তুত করছে।

নতুন টার্মিনালের সুযোগ-সুবিধার উদাহরণ দিতে গিয়ে ফারুক খান বলেন, এই টার্মিনালের ইমিগ্রেশন কাউন্টারটা অনেক বড় করা হয়েছে। কিছুদিন আগে আমি জার্মানি গিয়েছিলাম। সেখানে মাত্র ৬টা ইমিগ্রেশন কাউন্টার ছিল। আমি প্রায় ৩ ঘণ্টা সেখানে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলাম। আমাদের এখানে ৫৪টি কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের সুষ্ঠু লাগেজ হ্যান্ডেলিংয়ের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লাগেজ হ্যান্ডলিং পৃথিবীর যেকোনো দেশে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। যাত্রীরা মনে করে, প্লেন থেকে নেমে যেতে যেতে লাগেজ আমার হাতে আসবে, এটা কখনো সম্ভব হয় না। আমরা উন্নতি করার চেষ্টা করছি। প্রথম লাগেজ পেতে এখন ১৫ মিনিট লাগে, পরেরটি পেতে প্রায় ৪০ মিনিট লাগে। এর উন্নতির জন্য আমরা ইক্যুইপমেন্ট কিনেছি। লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের জন্য আমরা জাপানের সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারে কাজ করার আলোচনা করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা জানায়নি আমাদের সঙ্গে যুক্ত হবে কি না।

বিমানবন্দরে দ্বিতীয় রানওয়ে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান রানওয়ে ও দ্বিতীয় রানওয়ে নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। যেহেতু আশপাশে অনেক বিল্ডিং হয়ে গেছে, আমরা দেখছি, কীভাবে দ্বিতীয় রানওয়ে চালু করা যায়।

এ সময় বেবিচক চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলামসহ বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email