রাস্তায় ইফতার করেও তৃপ্তির আনন্দ ডিএমপি কমিশনারের

প্রকাশিতঃ 11:21 pm | March 12, 2024

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

রোজায় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে বিশেষ ব্যবস্থাও নিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান। অবৈধভাবে রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করলে কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণার পাশাপাশি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থা থাকার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। ফলত রমজানের প্রথম দিনেই মঙ্গলবার (১২ মার্চ) ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের দায়িত্ব যেন আরও বেড়ে গেছে বহুগুণেই। অন্য সময়ের চেয়ে থাকতে হয় আরও বেশি সতর্ক। নগরীর সড়কে সড়কে শত শত যানবাহন। গাড়ির চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এরপরেও সুষ্ঠুভাবে চাপ সামাল দিয়ে নগরবাসী যেন নির্ধারিত সময়ে বাসায় গিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে ইফতার করতে পারেন সে বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছেন তাঁরা। নিজেরা ইফতার সেরেছেন রাস্তায়।

এ সময়টিতে অফিসিয়াল কার্যক্রম শেষ করে নিজে বাসায় না গিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণে সরেজমিনে রাজধানীর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটেছেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান নিজেও। তাকেও ইফতার করতে হয়েছে খোলা আকাশের নিচে সোনারগাঁও ক্রসিংয়ে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে। প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে অহর্নিশ নগরবাসীর নিরাপত্তার ব্রতের পাশাপাশি কর্মব্যস্ত নাগরিকরা কর্মস্থল থেকে নিরাপদে বাসায় ফিরে নিজেদের পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে পারার আনন্দেই নিজেকে সমর্পণ করেছেন এ কমিশনার। ঘরে ফেরা মানুষের নির্বিঘ্নে ঘরে পৌঁছাতেই সন্তুষ্টি, তৃপ্তির আনন্দ যেন তাঁরও।

সড়কের যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার ফাঁকে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান গগণমাধ্যমকে বলেন, ‘কর্মব্যস্ত নগরবাসী কর্মস্থল থেকে নিরাপদে বাসায় ফিরে তাদের পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে পারেন এ জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ডিএমপির ট্রাফিক সদস্যদের সঙ্গে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।’

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থার সুফল হিসেবে উদাহরণ টেনে ডিএমপি কমিশনার সোনারগাঁও ক্রসিং’র চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, ‘সোনারগাঁও ক্রসিং ঢাকা শহরের ব্যস্ততম একটি স্থান। এখান থেকে উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম সবদিকে গাড়ি যায়। সেই হিসেবে এখানকার অবস্থা সন্তোষজনক। ইফতারের ২০ মিনিট আগে দেখা গেছে রাস্তায় তেমন কোনো চাপ নেই।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘রমজানের ১০-১৫ দিন পর থেকে মানুষজন কেনাকাটায় বের হন। সে জন্য একটু যানজটের সৃষ্টি হয়। বেশিরভাগ মার্কেটেই পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। আমরা সেখানে মার্কেট কমিটির লোকজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ মিলে সেটি যাতে সহনীয় রাখা যায় সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছি।’ এর আগে তেজগাঁও থানার আয়োজনে অসহায় দু:স্থদের মাঝে ইফতার তুলে দেন পুলিশ কমিশনার।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মুনিবুর রহমান বিপিএম; ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) মোস্তাক আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

কালের আলো/এমকে/আরআই

Print Friendly, PDF & Email