২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: কোস্ট গার্ড পদক পাচ্ছেন ৪০ জন

প্রকাশিতঃ 8:09 pm | March 09, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কোস্ট গার্ড পদক পাচ্ছেন বাহিনীর ৪০ সদস্য। রবিবার (১০ মার্চ) ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের পদক পরিয়ে দেবেন। কোস্ট গার্ডের নবনির্মিত ছয়টি ভৌত অবকাঠামো যেমন-বিসিজি স্টেশন কুতুবদিয়া, মহেশখালী, মিরসরাই, সন্দ্বীপ, নিদ্রাসকিনা ও বিসিজি আউটপোস্ট শাহপরী এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সহায়তায় পরিচালিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদর দফতরসহ তিনটি জোন, ছয়টি জাহাজ এবং সাতটি স্টেশনে নব সংযোজিত ভেস্টেন সিসটেম ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (৯ মার্চ) কোস্ট গার্ড সদর দফতরের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়, রবিবার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আগারগাঁওয়ের কোস্ট গার্ড সদর দফতরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। একইসঙ্গে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মহাপরিচালক বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড রিয়ার এডমিরাল মীর এরশাদ আলী উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে থাকবেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনৈতিক, সামরিক ও অসামরিক অতিথিরা।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা, নাবিক এবং অসামরিক ব্যক্তিদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য ১০ জনকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, ১০ জনকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক, ১০ জনকে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক এবং ১০ জনকে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক (বিসিজিএম) যারা পাচ্ছেন তারা হলেন– কমডোর মোহাম্মদ মঈনুল হাসান, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মনজুর-উল-করিম চৌধুরী, (এইচ-২), ক্যাপ্টেন ফাইজ উদ্দিন আহমেদ, (এন), লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. রেদোয়ান উল ইসলাম, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুর রহমান, লেফটেন্যান্ট এম হাসান মেহেদী, লেফটেন্যান্ট মাশহাদ্ উদ্দিন নাহিয়ান, লেফটেন্যান্ট কে এম শাফিউল কিঞ্জল, এম তৌহিদুল ইসলাম, সিপিও (কিউএ-১), মো. শহিদুজ্জামান, এবি (এফসি-৩)।

প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক (পিসিজিএম) পাচ্ছেন– ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কিবরিয়া হক, কমান্ডার এ কে এম মিজানুর রহমান, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সোহেল মোল্লা, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আশিক আহমেদ, লেফটেন্যান্ট কাজী আল-আমিন, লেফটেন্যান্ট শামস্ সাদেকীন নির্নয়, লেফটেন্যান্ট কাজী আকিব আরাফাত, এম নজরুল ইসলাম, পিও (কিউএ-১), মো. নাসিফুর রহমান, আরইএন-১ এবং মো. আব্দুল মান্নান (এমটিডি)।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক-সেবা (বিসিজিএমএস) পাচ্ছেন– কমডোর (বর্তমানে রিয়ার এডমিরাল) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মোসায়েদ হোসেন, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শরীফুল হক খান, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আব্দুল কাদের, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার কাজী মো. জাহেদুল ইসলাম, অ সা লে এম রোকন উদ্দিন, এম মাহবুব আলম, সিপিও (এফসি-১), সজিবুজ্জামান জনি, সিপিও (এফসি-১), মো. সিদ্দিকুর রহমান (এলস্টুয়ার্ড) এম জাহাঙ্গীর আলম, এলএস (এফসি-২)।

প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক-সেবা (পিসিজিএমএস) পাচ্ছেন– ক্যাপ্টেন (বর্তমানে কমডোর) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ হাবিবুল বিল্যাহ, কমান্ডার আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম, কমান্ডার আবু তাহের মোহাম্মদ আতিকুল্যাহ, লেফটেন্যান্ট ফারাব্বী সাদিক শুভ, এম জসিম উদ্দিন, এসসিপিও (ক্যাট), মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, চিফইএ, মো. শাহিনুল ইসলাম, লিডিং রাইটার, মো. ইছানুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং মো. কামাল হোসেন চৌধুরী, এমটিডি।

কোস্ট গার্ড সদর দফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বর্তমানে দেশের বিশাল সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, জনগণের জানমাল রক্ষা, চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার দমনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ ও সহায়তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মানুষের মাঝে নিরাপত্তা ও আস্থার বিশ্বস্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও কোস্ট গার্ডের নিরলস প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বন্দর ঝুঁকিপূর্ণ বন্দরের তালিকা থেকে বের হয়ে একটি নিরাপদ বন্দরে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জন্মলগ্ন থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকার অধিক মূল্যমানের অবৈধ দ্রব্যসামগ্রী আটক করেছে।

এছাড়াও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের আওতাধীন সুবিশাল সমুদ্র এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে জলদস্যুবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিশেষভাবে তৎপর রয়েছে। সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে কোস্ট গার্ডের অপারেশন পরিচালনার মাধ্যমে ৫ হাজার ৪৭৭ জলদস্যু, বনদুস্য, ডাকাত আটক করেছে। ৮০১টি অবৈধ অস্ত্রসহ ৬ হাজার ৬৩৫ রাউন্ড তাজা গোলা উদ্ধার করেছে। এছাড়া জলদস্যুদের কবল থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭৩১ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বর্তমান সরকারের ব্লু ইকোনমির কার্যকর প্রয়োগ এবং ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের বহুমাত্রিক কর্মকাণ্ড চালু রয়েছে। এ সব নিরাপত্তায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো প্রতি মুহূর্তে সজাগ রয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

কালের আলো/এমএইচ/এবি

Print Friendly, PDF & Email