আখেরি মোনাজাতে শেষ বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

প্রকাশিতঃ 11:04 am | January 15, 2023

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত শেষ হয়েছে। এ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রোববার (১৫ জানুয়ারি) শেষ হলো মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। মোনাজাতে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়।

রোববার (১৫ জানুয়ারি) বেলা ৯টা ৫৭ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। চলে দীর্ঘ ২৩ মিনিট। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম ও তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা মুহাম্মদ জুবায়ের আহমেদ।

এর আগে আজ ফজর নামাজের পর থেকে বয়ান শুরু হয়। বয়ান শুরু করেন ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমান। হেদায়েতি বয়ানের পর পরই শুরু করা হয় আখেরি মোনাজাত।

মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে বিমান বন্দর থেকে বোর্ডবাজার-গাজীপুরা-টঙ্গী-আশুলিয়াসহ বিভিন্ন সড়ক মুসুল্লিতে একাকার হয়ে যায়। যে দিকেই চোখ যায় শুধু পাঞ্জাবি-টুপি পরা মানুষ আর মানুষ। ইজতেমা মাঠ বিস্তৃত হয়ে পড়ে গোটা মহাসড়ক, অলিগলি থেকে শুরু করে বাড়ি-ঘরের ছাদ সর্বত্রই ছিল মুসল্লি।

মোনাজাতে অংশ নিতে অনেকে ইজতেমার মূল ময়দানে ঢুকতে না পেরে পত্রিকা, পাটি, চট, জায়নামাজ, পলিথিন বিছিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন মুসল্লিরা। অনেকেই আবার মোবাইল ফোনে দূর-দূরান্ত থেকে মোনাজাতে শরিক হন।

মূল ইজতেমা ময়দানে তাদের বসার কোনও ব্যবস্থা না থাকায় তারা ময়দানের বাইরে খালি জায়গায়, কলকারখানা ও বসতবাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে দেখা গেছে। টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান নেন শতাধিক নারী।

কারোনা মহামারির সময় পেরিয়ে একত্রে আবারও সমবেত হতে পারায় মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন বারবার। তাদের মধ্যে নেই ভেদাভেদ ও বৈষম্য।

সরেজমিন দেখা গেছে, ভোর ৪টা থেকে মুসল্লিরা আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমা ময়দানের দিকে ছুটে যাচ্ছেন। অনেক মুসল্লি পায়ে হেঁটে ইজতেমা ময়দানে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করেছেন।

গত দুদিন টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে লাখ-লাখ মুসল্লির উদ্দেশে চলে পবিত্র কুরআন হাদিসের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান। মোনাজাতের আগেও হয়েছে হেদায়েতি বয়ান।

ইজতেমার এ পর্বে শিল্পনগরী টঙ্গী ইতোমধ্যেই ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের ব্যাকুলতায় দ্বীনের দাওয়াতে মেহনত করার জন্য ইসলামের মর্মবাণী সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দলে দলে ছুটে আসেন টঙ্গীর তুরাগতীরে।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email