প্রধানমন্ত্রীর চমক; কবির বিন আনোয়ারের নতুন স্বপ্নযাত্রা

প্রকাশিতঃ 10:51 pm | January 06, 2023

কালের আলো রিপোর্ট :

একজন কবির বিন আনোয়ার। যার বাবা আনোয়ার হোসেন রতু ও মা সৈয়দা ইসাবেলা দু’জনই বীর মুক্তিযোদ্ধা। যিনি গর্ব করেই বলেন তিনি ডাবল মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। ভাষাসংগ্রামী বাবা সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। তাঁর ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের ঘোর দু:সময়ের দিনলিপিতে সম্মুখে নেতৃত্ব দিয়েছেন সংগ্রাম, ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সংগঠনটিকে। ১৯৮৫-৮৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। নিজের বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনেও অবিচল ছিলেন আদর্শের প্রশ্নে। ধন্য সেই পুরুষ, ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর মন-মননে প্রজ্বলিত ঠিক যেন সূর্যের আলোর প্রদীপ্ত শিখায়। চাকরি জীবনের সফল কর্মমুখর অধ্যায়ের উজ্জ্বল অধ্যায়ের দাঁড়ি টেনেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে। দায়িত্বে ছিলেন সাকুল্যে ১৯ দিন। অনেকেই ভেবেছিলেন স্বপ্নবাজ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কবির বিন আনোয়ারকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু তিনি নিয়োগ পাননি। কোন আক্ষেপ করেননি। উল্টো থেকেছেন নির্ভার। নিজের অভিভাবকের হাতেই ছেড়ে দিয়েছিলেন সব ভার। শিরদাঁড়া সোজা করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিজের শেষ কর্মদিবসে এক প্রশ্নের জবাবে উচ্চারণ করেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত শিরোধার্য।’ নির্ভার হয়েই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ‘হয়তো ভালো কোন জায়গায়ও আমাকে দেখতে পারেন।’ তাঁর কথা হুবুহু মিলে গেছে। চাকরি জীবনের স্বাভাবিক অবসরের পরের দিনই রাতে বুধবার (০৪ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। সেখানেই নির্ধারিত হয় তাঁর নতুন অধ্যায়।

বৃহস্পতিবার (০৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে যাওয়ার ভেতর দিয়েই শুরু হয়েছে নতুন পথচলা। ওইদিন দলীয় কার্যালয়ে তাকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পরে দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ এবং দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া তাকে নিয়ে দলের নির্বাচনী অফিসে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের কক্ষে যান। সেখানে এইচ টি ইমামের চেয়ারে গিয়ে বসেন। তিনি আওয়ামী লীগের দু’নেতার সঙ্গে বসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথাও বলেন।

সেই থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় এইচ টি ইমামের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন কবির বিন আনোয়ার। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যানও হতে যাচ্ছেন তিনি। এই হিসাব-নিকাশ এখন দিবালোকের মতোই পরিস্কার। সময় ঘুরতেই খোলাসা হবে সব। একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপেও তিনি বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনা আমাকে কিছু কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন, এই তো।’ নিজের ঘরে বা নিজের বাড়িতে ফেরার আনন্দানুভূতিও জানান ওই গণমাধ্যমকে।

পর্যবেক্ষণ বলছে, এইচ টি ইমাম দেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন। কবির বিন আনোয়ারও একই পদে দায়িত্ব পালন করে বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নতুন অ্যাসাইনমেন্টেও একইভাবে তিনি কর্মের চাঞ্চল্যে; স্বপ্নের অভিলাষে নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হবেন। স্বপ্নযাত্রায় কবির বিন আনোয়ার প্রধানমন্ত্রীর আরও একটি চমক।’

আবারও সিরাজগঞ্জে উচ্ছ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা
মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে কবির বিন আনোয়ারের অভিষিক্ত হওয়ার পর সিরাজগঞ্জের ঘরে ঘরে অবারিত আনন্দের ফল্গুধারা বয়ে যায়। একই ঘটনার অবতারণা হয়েছে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে। আরও একবার তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পাচ্ছেন—এমন খবরে সিরাজগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক শামস-ই-এলাহী অনু বলেন, ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান কবির বিন আনোয়ার। সরকারপ্রধান তার মতো দক্ষ ও অভিজ্ঞকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিচ্ছেন।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ-বিন আহম্মেদ বলেন, কবির বিন আনোয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন রতু দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ আওয়ামী লীগের জন্য বিশেষ প্রয়োজন ছিল। সিরাজগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ।

তিনি আরও বলেন, মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর পর সিরাজগঞ্জে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল কবির বিন আনোয়ারের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জবাসী তাদের রাজনৈতিক অভিভাবককে ফিরে পাবে বলে আশা করছি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শামছুজ্জামান আলো বলেন, আমরা সিরাজগঞ্জবাসী গর্বিত। আমরা এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাইনি। কিন্তু দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যানের পদ শূন্য ছিল। সেখানে তাকে বসানো হয়েছে। তার এই পদায়ন আওয়ামী পরিবারের জন্য সুখবর।

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ তালুকদার বলেন, ‘কবির আনোয়ার একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করবেন। আমরা খুবই খুশি।’

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email