প্রধানমন্ত্রীর আস্থায় নতুন বছরে নতুন চ্যালেঞ্জে মাহবুব হোসেন, কাজে লাগাতে চান অভিজ্ঞতা

প্রকাশিতঃ 9:31 pm | January 03, 2023

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

প্রায় ৩৩ বছরের বর্ণাঢ্য চাকরি জীবন তাঁর। যখন যেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দুর্নাম নেই। কর্মমুখর অধ্যায়ে কুড়িয়েছেন সুনাম। হয়েছেন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা বা গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতেও তিনি অগ্রগণ্য। ফলত নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মাহবুব হোসেনের ওপরই আস্থা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্জনের ঝুলি পূর্ণ করে তিনি বিদায়ী কবির বিন আনোয়ারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) তাকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সকালে প্রজ্ঞাপন জারির সময়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে চলতি বছরের পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে ছিলেন নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পাওয়া মাহবুব হোসেন। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন পরিমণ্ডলের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্বের অভিনন্দন বার্তায় অন্যরকম এক মুহুর্ত কাটে তাঁর। সেখান থেকে ফিরে সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের সোজা সাপ্টা জবাব দেন। আশা প্রকাশ করেন যেকোনো চ্যালেঞ্জ পরিপূর্ণ দক্ষতা দিয়ে মোকাবিলা করার। নিজের প্রজ্ঞা ও প্রভার দীপ্তিতে উচ্চারণ করেন-‘দীর্ঘ চাকরি জীবনের যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, দক্ষতা অর্জন করেছি; তা নতুন পদে কাজে লাগিয়ে সরকারের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নতুন অ্যাসাইনমেন্টে তিনি সফলতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ হবেন বলে আশাবাদী কন্ঠ ধ্বনিত হয় গণমাধ্যমকর্মীদেরও। অভিনন্দন বারতায় এদিন সচিবালয়ে মাহবুব হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছাও জানান অনেকেই। তার নিজের জন্মস্থান বরিশালের মুলাদী উপজেলার পাতারচর গ্রামেও ধুম পড়ে যায় মিষ্টি মুখের।

নিজেদের জেলার কৃতি সন্তানের সরকারি চাকরি জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জনে আনন্দ উচ্ছ্বসিত বরিশালের মানুষও। সোশ্যাল হ্যান্ডেলে বা টাইমলাইনেও বয়ে চলেছে অবারিত আনন্দের ফল্গুধারা। সুবর্ণ সিঁড়ির মাহেন্দ্রক্ষণে তাঁর কাছের থেকে দূরের মানুষও হয়েছেন আবেগঘন। তাকে ভাসিয়েছেন অভিনন্দনের জোয়ারে।

বিভিন্ন সরকারি সূত্রগুলো বলছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব হওয়ার দৌড়ে সব থেকে এগিয়ে ছিলেন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মাহবুব হোসেন। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কবির বিন আনোয়ার তাঁর থেকে জ্যেষ্ঠ হওয়ায় নিয়ম মেনেই তাকেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব করেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পথে সরকার না হাঁটায় অবশেষে তার উত্তরসূরী হিসেবে মাহবুব হোসেনকেই বেছে নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালনে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন তিনি। যোগ্যতা, আনুগত্য, জ্যেষ্ঠতাসহ সামগ্রিক বিষয়াদি বিশ্লেষণ করে সরকারপ্রধানের প্রথম পছন্দ হিসেবেই দেশের ২৪তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ পেলেন প্রশাসন ক্যাডারের অষ্টম ব্যাচের এই কর্মকর্তা।

আইন, নীতি, কৌশল ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে মাহবুব হোসেনের। চাকরিজীবনে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সহকারী/সিনিয়র সহকারী সচিব, উপসচিব, যুগ্মসচিব এবং অতিরিক্ত সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা, করতে চান সমন্বয়
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটা আদেশ পেয়েছি, সেখানে আমাকে মন্ত্রিপরিসদ সচিব হিসেবে সরকার নিয়োগ দিয়েছে। এজন্য প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।’

নির্বাচনী বছরে তার এ দায়িত্ব নেয়ার মধ্যে চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করেন তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমি কালকে (বুধবার) পরবর্তী দায়িত্ব নিয়ে চিন্তা করব। সামনে কী চ্যালেঞ্জ আছে, তাও নিয়েও ভাববো। কিন্তু আজ আমি এখন পর্যন্ত এই মন্ত্রণালয়ের (জ্বালানি) সচিব। যে চ্যালেঞ্জ আসুক না কেন; সেটা আমাদের পরিপূর্ণ দক্ষতা দিয়ে মোকাবিলা করব। আমার তরফ থেকে এটুকু আমি বলতে পারি।

‘মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদটি সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সবচেয়ে সিনিয়র পজিশন। আমার প্রথম কাজটি হবে সব মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করা। যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সবচেয়ে বড় শক্তি হবে এটি এবং সে কাজ করার ক্ষেত্রে আমি খুব আশাবাদি,’ যোগ করেন তিনি।

জ্বালানিখাত বর্তমানে সঙ্কটের মধ্যদিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে যে আসবে তার জন্য কি রকম চ্যালেঞ্জ হবে জানতে চাইলে মাহবুব হোসেন বলেন, পরবর্তীতে জ্বালানিতে যিনি আসছেন, তিনিও একজন দক্ষ কর্মকর্তা। পদোন্নতি পেয়ে তিনি এখানে আসছেন। তিনি একজন দক্ষ ও সুনাম অর্জনকারী কর্মকর্তা। আমি যাওয়ার আগে তাকে আমি ব্রিফিং দিয়ে যাব।

নতুন এ মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানিখাতে যে চ্যালেঞ্জগুলো তৈরি হয়েছে, তা ঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পেরেছি। এখন যে কাজ হাতে নিয়েছি; তা নতুন সচিব এসে এগিয়ে নেবেন। তাহলে আমাদের জ্বালানি খাতের অবস্থান আরও সুদৃঢ় ও শক্ত হবে।

বৈশ্বিক কারণে জ্বালানি খাতে সমস্যা পাশাপাশি অর্থনীতিতে সঙ্কট রয়েছে এসব বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে সমন্বয় করা আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়বে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সেজন্যই বলেছি সমন্বয় করাটা আমার মূল দায়িত্ব। সকলের সঙ্গে সকল মন্ত্রণালয়, সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা। আমাদের সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হচ্ছে যে সব আইন, বিধি, নীতিমালা আছে; সেগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করা। সেটা যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারি, সে দিকে আমার নজরদারি রাখব।’

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email