‘পুলিশবান্ধব’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ‘স্মার্ট পুলিশ’র দৃঢ় অঙ্গীকার আইজিপির

প্রকাশিতঃ 10:59 pm | January 02, 2023

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

বাঙালি জাতির ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ডাক দেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে রাজারবাগে পাকিদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পুলিশ বাহিনীর ত্যাগ ও অবদানে বরাবরই নিজের মুগ্ধতার কথা উচ্চারণ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তাঁর হাত ধরেই সময়ের প্রয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। বদলে যাওয়া অপরাধের ধরণের সঙ্গে মাঠ পর্যায়েও পুলিশের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে প্রযুক্তির সর্বাধুনিক সেবা। অপরাধ তদন্ত থেকে শুরু করে অপরাধী শনাক্ত, দ্রুত গ্রেফতার ও দুর্ঘটনায় জরুরি সেবা প্রদানসহ সব ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের ব্যবহার বেড়েছে পুলিশে। তৈরি হয়েছে বিশেষায়িত বিভিন্ন সংস্থা ও ইউনিট। এসব বিশেষায়িত ইউনিট ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটনে যেমন সফলতার পরিচয় দিচ্ছে ঠিক তেমনি ভুক্তভোগী বা অপরাধীদের ডিএনএ পরীক্ষা, রাসায়নিক পরীক্ষা, বায়োমেট্রিক তথ্য, ফোনের আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করে অপরাধী শনাক্তে দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন ও রোবট করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

বলা চলে, জনবল বাড়ার পাশাপাশি আধুনিকায়ন হচ্ছে পুলিশেরও। স্মার্ট বাংলাদেশের উপযোগী ‘স্মার্ট পুলিশ’ গড়ে উঠছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে পুলিশের সক্ষমতাও। প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট র‌্যাব, সিআইডি, পিআইবি, সিটিটিসি, এটিইউ, ডিবি ও ডিএমপিকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করতে নানামুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসবের নেপথ্যে রয়েছেন একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সরকারপ্রধান নিজেই উদ্যোগী হয়ে পুলিশের সমস্যা সনাক্ত; চাওয়া-পাওয়া পূরণ করেন। ‘পুলিশবান্ধব’ একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যারপরেনাই তিনি গোটা বাহিনীতেই তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তার অধিকারী হয়েছেন। পুলিশকে তিনি উন্নীত করেছেন প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন এক বাহিনীতে।

বৈশ্বিক সমস্যা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও নির্মূলে দেশের পুলিশ বাহিনী বীরত্বের সঙ্গে কাজ করছে। ফলত বাবা বাঙালি জাতির চির আরাধ্য পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেগড়া বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রতি নিজের অকৃত্রিম ভালোবাসার নানা উদাহরণও তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মূলত বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকেই এমন গুণাবলী পেয়েছেন তিনি। পুলিশ পরিবারেরও পরম আপন সরকারপ্রধান। ‘মানবতার জননী’ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি স্বাধীনতা রক্ষা এবং গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে সব সময়ই পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জনবান্ধব পুলিশিং’র মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, গণতন্ত্র সমুন্বত রাখতে প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তা-ভাবনা, কার্যকর উদ্যোগ এবং অভিভাবকত্ব প্রতিনিয়ত বদলে দিচ্ছে পুলিশকে। ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন একটি স্মার্ট, দক্ষ ও যুগোপযোগী পুলিশ বাহিনী গড়তে কাজ করে চলেছেন অবিরাম। আত্মমর্যাদাশীল পুলিশ বাহিনী গড়তে অবিরাম সংগ্রাম ও সংকল্পের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নপূরণেরও দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, মাদক নির্মূল, অমানবিক ও অপেশাদার আচরণ বন্ধ করা ও পুলিশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে পুলিশের সব কর্মকর্তা ও সদস্যদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। আইজিপির নানামুখী পদক্ষেপে প্রকৃত অর্থেই পুলিশ হয়ে উঠেছে জনতার। এজন্যই এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে পুলিশ আছে জনতার পাশে’।

পুলিশ বাহিনীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর অবদান
গত বছরের পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করতে গিয়ে নিজের জবানীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালের প্রথম মেয়াদেই আমার সরকার ৫ কোটি টাকা সিড মানি প্রদান করে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে। বিভিন্ন স্থানে থানা, তদন্ত কেন্দ্র, হাইওয়ে ফাঁড়ি, পুলিশ ক্যাম্প এবং পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ করে। পাশাপাশি ৮০৩ জন এসআই, ৫০৭ জন সার্জেন্ট এবং ১৪ হাজার ৬৮০ জন কনস্টেবল নিয়োগ করে ও আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নে কমিউনিটি পুলিশ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে গত ১৩ বছরে পুলিশের উন্নয়নে নানাবিধ কর্মকান্ড গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরে হ্যাটট্রিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে মোট ৮২ হাজার ৫৮৩টি নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। পুলিশের নতুন ইউনিট যেমন ইন্ডাস্ট্রিয়াল-ট্যুরিস্ট-নৌ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এন্টি টেররিজম ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট, রংপুর ও ময়মনসিংহে রেঞ্জ, রংপুর এবং গাজীপুরে মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট, রংপুরে আরআরএফ এবং সিআইডি’তে সাইবার পুলিশ সেন্টার গঠন করা হয়েছে। দু’টি সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, এয়ারপোর্টে একটি ও কক্সবাজারে দু’টি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং র‌্যাবের জন্য ৩টি ব্যাটালিয়ন, ৩০টি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, ৬২টি থানা, ৯৫টি তদন্ত কেন্দ্র এবং ১টি ফাঁড়ি এবং জাতীয় জরুরি সেবায় ৯৯৯ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। জরাজীর্ণ থানাগুলো পুননির্মাণ করা হয়েছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, আমরা আইজিপি’র র‌্যাংক ব্যাজ পুন:প্রবর্তন করেছি। গ্রেড-১ এর ২টি, গ্রেড-২ এর ১১টি, ডিআইজি এর ৫২টি, অতিরিক্ত ডিআইজির ১৫৯টি, পুলিশ সুপারের ৪০২টি এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ৮০০টি পদ সৃজন করেছি। ২১৫টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদকে পুলিশ সুপার (এসপি) পদে, ২৫৩টি সিনিয়র এএসপি পদকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে, এসআই/সার্জেন্ট পদকে তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে এবং ইন্সপেক্টর পদকে দ্বিতীয় শ্রেণী হতে প্রথম শ্রেণীর নন-ক্যাডার পদে উন্নীত করেছি। আকাশ পথে সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে দু’টি হেলিকপ্টার কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অপরাধ তদন্তে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, ‘পুলিশে ২২টি নতুন ব্যারাক, ১০টি একাডেমিক ভবন, বিভিন্ন ইউনিটের জন্য ১০৪টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ, ৬০টি প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, রাজস্ব বাজেট থেকে ২৭টি থানা নির্মাণ, ২৮টি ফাঁড়ি, ১৫টি তদন্ত কেন্দ্র, ৩৩৭টি থানার হেল্প ডেস্ক, ৪৫টি হাইওয়ে আউটপোষ্ট ভবন সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২১১টি আধুনিক থানা ভবন নির্মাণ, ৯৫টি থানাকে মডেল থানায় উন্নীতকরণ, ২১টি ব্যারাক ভবন ও ৬০টি তদন্ত কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email