মানবিকতার আলোকচ্ছটায় জনকল্যাণে সেনাবাহিনী, আধুনিক প্রশিক্ষণ দক্ষতায় জোর সেনাপ্রধানের

প্রকাশিতঃ 11:19 pm | December 31, 2022

কালের আলো রিপোর্ট :

আপোসহীন রক্তরঙের মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল চিত্রপটে জন্মলাভ করা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সজাগ প্রতিমুহূর্ত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সূর্য কিরণে উজ্জ্বীবিত থেকে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্দ্র থেকে সেবার ব্রত নিয়েও নিজেদের মেলে ধরেছেন ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে। শীতকালীন প্রশিক্ষণে রুটিন ওয়ার্কের কর্মকাঠামোর বাইরে গিয়ে প্রকৃত মনুষ্যত্ববোধের জাগরণ ঘটিয়ে শীতার্তের পাশে দাঁড়িয়ে আবারও দেশের মানুষের দু:খ-সুখ, মিলন-বিরহ-সঙ্কটে সমান অংশীদার হিসেবেই মানবিকতার আলোকচ্ছটায় উদ্ভাসিত করেছেন নিজেদের।

দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দু:সময়ে সব সময়ই বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো দেশপ্রেমী এই বাহিনীর আত্মনিবেদনে গর্ব করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফোর্সেস গোল-২০৩০ বাস্তবায়নে তিনি সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নসহ শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্র ও সরঞ্জামাদি সরবরাহ করেছেন। বাঙালি জাতির অন্তহীন গর্বের প্রতিভূ, শান্তি আর সমৃদ্ধির প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি গতিশীল, চৌকস এবং যুগোপযোগী বাহিনীতে রূপান্তরে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদও।

তিনি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনে জোর দিয়েছেন। প্রতিনিয়ত বার্তা দিয়ে চলেছেন একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকার। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কার্যকর প্রশিক্ষণই সৈনিকের সর্বোত্তম কল্যাণ ও যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্যের চাবিকাঠি। প্রশিক্ষণ সহায়ক সামগ্রীর সর্বোত্তম ব্যবহার যুদ্ধে বিজয়কে ত্বরান্বিত করে বলেও করেন এই চার তারকা জেনারেল।

ফলত সেনাপ্রধান সৈনিকদের মানসক্ষেত্রের নির্ভুল রূপায়নে সংবেদী সত্তার অভীস্পায় উদ্দীপ্ত করার প্রাণান্তকর প্রয়াসের মাধ্যমে উন্নত মনোবল অর্জনকে প্রোজ্জ্বলিত করেছেন চেতনার স্পন্দনে, অমিত শক্তি আর প্রগাঢ় আত্মবিশ্বাসে। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) ১০ পদাতিক ডিভিশনের কক্সবাজারের শ্যামলাপুর এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের নোয়াখালীর স্বর্ণদ্বীপে শীতকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা ও কক্সবাজারে সমুদ্র তীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিদর্শন করে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নিজ বাহিনীর আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জোরালো তাগিদ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ একটি দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও সসংগঠিত বাহিনীরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা রক্ষার পাশাপাশি দেশ গঠনমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ড, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করে সুখ্যাতি ও প্রভূত সুনাম অর্জন করেছে।’

এ সময় বাংলাদেশ মেশিন ট্যুলস ফ্যাক্টরীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মেজর জেনারেল সুলতানুজ্জামান মোঃ সালেহ উদ্দিন, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান, সেনাকল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিস, সেনা সদর দপ্তরের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল খান ফিরোজ আহমেদ, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও কুমিল্লার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মাইনুর রহমান ও মেজর জেনারেল এ কে এম রেজাউল মজিদ উপস্থিত ছিলেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, পরে সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশন’র ব্যবস্থাপনায় কক্সবাজার জেলার শ্যামলাপুর ও নোয়াখালী জেলার স্বর্ণদ্বীপে ১ হাজার ১০০টি অসহায় ও দু:স্থ পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। সেনাবাহিনী প্রধান প্রশিক্ষণকালীন সময়ে সেনাবাহিনী তার জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে অসহায়, দু:স্থ ও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায় বলে মত প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ শ্যামলাপুর এবং স্বর্ণদ্বীপ অঞ্চলের অসহায়, দু:স্থ ও গরীব-দু:খী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রশিক্ষণ এলাকায় অসহায়, দু:স্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণের এই মানবিক কার্যক্রম সর্বস্তরের মানুষের মাঝে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।’

আইএসপিআর আরও জানায়, শীতবস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শীতকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় অসহায়, দু:স্থ ও গরীব-দু:খী মানুষের মাঝে চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্পেইন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরণের দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসা, গর্ভবতী-প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসা সেবা ও বিশেষ পরামর্শ প্রদান এবং অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞরা চোখের ছানি, চালসে ও দীর্ঘ দৃষ্টি ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে। বিনামূল্যে তাদের দেয়া হচ্ছে ওষুধপত্র। সেবামূলক এই ক্যাম্পেইনটি বেসামরিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে বলেও মনে করছে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর।

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email