সফলভাবে শেষ হলো মেট্রোরেলের প্রথম দিনের যাত্রা

প্রকাশিতঃ 2:50 pm | December 29, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে যাত্রী নিয়ে আগারগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় প্রথম মেট্রোরেল।

প্রাথমিকভাবে মেট্রোরেল সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে। প্রথম দিন হওয়ায় আজ ছিল উপচেপড়া ভিড়। এই ট্রেনে চড়ার জন্য সকাল সাড়ে ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়ায় সাধারণ মানুষ। দুপুর ১২টা নাগাদ এই লাইন গিয়ে দাঁড়ায় আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে টিকিট কাটতে না পেরে এবং ট্রেনে চড়তে না পেরে আক্ষেপ নিয়েই ফিরে গেছেন হাজারো মানুষ।

এদিন ভোর থেকেই প্রথমবারের মতো মেট্রোরেলে চড়ার অভিজ্ঞতা নিতে উত্তরা ও আগারগাঁও স্টেশনে জনসাধারণ ভিড় জমানো শুরু করেন। পরে সাড়ে ৮টার দিকে মেট্রোর গেট খুলে দেওয়া হয় সর্বসাধারণের জন্য। ধাপে ধাপে প্রবেশ করানো হয় অপেক্ষমান যাত্রীদের।

যাত্রীরা ওপরে উঠেই টিকিট কাটার জন্য লাইনে দাঁড়ান। মেট্রোরেলে গতানুগতিক ও স্বয়ংক্রিয় দুই পদ্ধতিতে টিকিট কাটার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সফটওয়ার আপডেট সংক্রান্ত কারণে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে টিকিট কাটা যাচ্ছে না বলে জানান উপস্থিত স্কাউট সদস্য। তাই গতানুগতিকভাবে হাতে হাতেই টিকিট কাটছিলেন যাত্রীরা। একসঙ্গে অনেক যাত্রীর টিকিট কাটতে গিয়ে কিছুটা দেরি হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন টিকিটের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের অনেকে। তবে টিকিট অর্থাৎ এমআরটি পাস কার্ডটি পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন সবাই। টিকিট কাটা থেকে শুরু করে রেলের বগিতে প্রবেশ করানো পর্যন্ত প্রত্যেক ধাপেই সবকিছু বুঝিয়ে দিতে সহয়তা করছিলেন আনসার বাহিনীর সদস্যরাসহ মেট্রো কতৃপক্ষের লোকজন।

মেট্রোরেলে চড়া যাত্রীদের সঙ্গে কথা বললে তার জানান মেট্রোরেলের চড়ার নিয়মগুলো কঠিন মনে হলেও জানতে পারলে আসলে সবকিছুই একেবারে সহজ।

সবুজ নামে এক যাত্রী টিকিট (এমআরটি পাস) নেওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, ‘এগুলো সম্পর্কে আগে কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। ভেবেছিলাম কঠিন কিছু। এখন মনে হচ্ছে জানলে খুবই সহজ।’

তবে যত যাত্রীর মেট্রোরেলে উঠার সৌভাগ্য হয়েছে তার চায়ে বেশি মানুষ মেট্রোরেলে উঠতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। তাদের অনেকেরই জানা ছিল না ১২টা পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল করবে।

মেট্রোরেলে চড়তে না পারার আক্ষেপের কথা জানাতে গিয়ে মিরপুর রূপনগর থেকে আসা কলেজ শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ বলেন, ‘গেট ছুঁয়ে চলে গেলাম, মেট্রোতে আর উঠা হলো না।’

মেট্রোরেলের ধীর গতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিচে অপেক্ষায় থাকা অনেক যাত্রী। তারা দাবি জানান, মেট্রোরেলের চলাচল ১২টা পর্যন্ত না রেখে আরও ঘণ্টা দুয়েক বেশি রাখা দরকার।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email