সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, অপরিসীম আত্মপ্রত্যয়ে বলীয়ান বিজিবি

প্রকাশিতঃ 8:14 pm | December 20, 2022

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন থেকে হালের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ২২৭ বছরের ইতিহাসে নৈপুণ্য ও সাফল্যের নানাবিধ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিজিবি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রয়াসে বীরত্বে ও গৌরবের এক ঐতিহ্যবাহী ও সুশৃঙ্খল এই আধা সামরিক বাহিনী দেশের ১৮ কোটি মানুষের সুখনিদ্রা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয়ী। বাহিনীটির অকুতোভয় সৈনিকরা অতন্দ্র থেকে সীমান্তে প্রহরা দিয়ে চলেছেন অবিরাম।

আরও পড়ুন: সীমান্ত রক্ষায় বিজিবির সক্ষমতা, ডিসপ্লেতে আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী

সময়ের পরিক্রমায় সংস্কারের নানা পথ অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই পরিণত হয়েছে আধুনিক, প্যারামিলিটারি ও ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বিজিবি দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর পিলখানাস্থ সদর দপ্তরে ছিল বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের আয়োজন। এবার সশরীরে উপস্থিত থেকে বিজিবির বীর উত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তাঁর সরকারের সময়ে জল, স্থল ও আকাশপথে দায়িত্ব পালনে সক্ষম বিজিবির উন্নতি-অগ্রগতির চিত্রপট নিজের জবানীতে তুলে আনেন। সীমান্ত রক্ষাসহ দেশগঠনমূলক বিভিন্ন কাজে বিজিবির ভূমিকা উপস্থাপন করেছেন। সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত ও সহনশীল রাখতে বিজিবি সদস্যদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন।

১৯৭৪ সালের ৫ ডিসেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পিলখানার প্যারেড গ্রাউন্ডে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের তৃতীয় ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে জওয়ানদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে বলেছিলেন ‘ইমানের সঙ্গে কাজ করো, সৎ পথে থেকো, দেশকে ভালোবেসো।’

চলতি বছরের বিজিবি দিবসে বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিবির উদ্দেশ্যে উচ্চারণ করলেন-‘আপনারা দেশপ্রেম, সততা, শৃঙ্খলা নিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। একটি কথা মনে রাখবেন- শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা বাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি। অর্পিত দায়িত্ব মেনে চলবেন, চেইন অব কমান্ড মেনে চলবেন।’

প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা বক্তব্যে নব উদ্দীপনায় অপরিসীম আত্মপ্রত্যয়ে বলীয়ান হয়ে উঠেছেন বিজিবির প্রতিটি সদস্য। প্রাণে প্রাণে সঞ্চারিত হয়েছে নতুন চেতনার স্পন্দন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি উক্তি বিজিবির সকল সদস্যের মনে এনে দিয়েছে অমিত শক্তি ও প্রগাঢ় আত্মবিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নপূরণে নিজেদের সুনাম অক্ষুন্ন রেখেই বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠার পথে দৃঢ় সংকল্পে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি, এমন প্রত্যাশা উচ্চারিত হয়েছে জনেজনে।

জানা যায়, চলতি বছরের প্যারেড অধিনায়ক ছিলেন বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহমেদ। মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ৯ টা ৪৮ মিনিটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ বীর উত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছেন। এরপর জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আমিনুল ইসলাম ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছেন। সকাল ১০ টায় বর্ণাঢ্য মোটর শোভযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আমিনুল ইসলাম ও বিজিবি ডিজি মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ তাকে অভ্যর্থনা জানান।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত ‘ধনধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা’ সুরের মুর্চ্ছনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি খোলা জিপে করে আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিজিবি ডিজি মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ ও প্যারেড অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহমেদ। গ্যালারি থেকে লাল-সবুজের পতাকা হাতে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে অভিবাবদনের জবাব দেন।

প্রধানমন্ত্রীর কুচকাওয়াজ পরিদর্শনকালে প্যারেড গ্রাউন্ডের দেয়ালে দেয়ালে চোখে পড়ে ১৭৯৫, ১৮৬১, ১৮৯১, ১৯২০, ১৯৪৭, ১৯৭২, ১৯৯৭ ও ২০১০ সময়ে সময়ে নতুন পোশাকে বিজিবি সদস্যদের অবস্থানের চিত্র। ১৯৭৪ সালের ৫ ডিসেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পিলখানার প্যারেড গ্রাউন্ডে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের তৃতীয় ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে জওয়ানদের উদ্দেশ্যে কিংবদন্তিতূল্য ভাষণের ছবি, সংগ্রাম ও মুক্তিকামী মানুষের অভূতপূর্ব উদ্দীপনার স্মারক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণের আলোকচিত্র, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বহুমাত্রিক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের চিত্র অনিন্দ্যসুন্দরভাবেই ঠাঁই করে নেয় দেয়ালজুড়ে।

বিজিবি ডিজিসহ ৮ জন পেলেন ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক’
এরপর কন্টিনজেন্টসমূহ প্রধানমন্ত্রীকে সালাম প্রদান করেন। বীরত্ব ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী বিজিবির ৮ সদস্যকে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক-২০২২’ পদক প্রদান করেন। প্রথমেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদকে পদক প্রদান করেন সরকারপ্রধান। পর্যায়ক্রমে বাহিনীটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এম এম খায়রুল কবির, কর্নেল মোহাম্মদ আজিজুর রউফ, কর্নেল মো.মেহেদী হোসাইন কবির, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ইছহাক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুরুজ মিয়া, লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার এবং হাবিলদার মো.জাহাঙ্গীর আলমকে পদক প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বিজিবি’র মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ বিশেষ করে নারী সৈনিকদের ড্রিল দেখে অত্যন্ত মুগ্ধ হন। তিনি বিজিবিতে বীরত্ব ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের তৃতীয় ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে জওয়ানদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ।

বিজিবি ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপলাভ করেছে
বিজিবি ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপলাভ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই বাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে এর পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেন। জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ সরকার বিজিবি’র সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। এর ফলে এই বাহিনী একটি দক্ষ, শক্তিশালী আধুনিক ও ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপলাভ করেছে। বিজিবি এখন জল, স্থল ও আকাশ পথে দায়িত্ব পালনে সক্ষম। বিজিবি’র সাংগঠনিক কাঠামোতে নতুন ইউনিট, সেক্টর ও রিজিয়ন সৃষ্টির ফলে কমান্ডস্তরে একটি ভারসাম্য সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সুষ্ঠুভাবে সীমান্ত সুরক্ষা, সীমান্ত অপরাধ দমন এবং সীমান্তবর্তী জনসাধারণের জানমাল রক্ষা করা আগের চেয়ে সহজতর হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান রোধ, মাদক ও নারী-শিশু পাচার রোধ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনসহ সীমান্তবর্তী জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি’র দায়িত্ব ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে নিচ্ছিদ্র ও শান্তিপূর্ণ সীমান্ত বাস্তবায়নের জন্য বিজিবি’র সকল সদস্যকে আরও সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে আশ্রয়গ্রহণকারী বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা, ত্রাণ কার্যক্রম এবং রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রমসহ পুর্নবাসন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিজিবি সহনশীলতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে।

বিজিবির সাংগঠনিক কাঠামোতে অত্যাধুনিক ও যুগোপযোগী অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি যুক্ত করায় এই বাহিনীর আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সৈনিকদের মনোবল ও কর্মউদ্দীপনা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য সীমান্তের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সর্বমোট ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে প্রথম পর্বে ৩১৭ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এর ফলে সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিজিবির আভিযানিক কর্মকাণ্ড সহজতর হবে।’

সীমান্ত পিলারে বাংলাদেশ বা বিডি লেখায় প্রধানমন্ত্রীর সন্তোষ প্রকাশ
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিভিন্ন প্রকার সীমান্ত পিলারের গায়ে পাক বা পাকিস্তান লেখা পরিবর্তন করে বাংলাদেশ বা বিডি লেখায় বিজিবির প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ভারত এবং মায়ানমার সীমান্তে ৪টি ব্যাটালিয়ন এবং সুন্দরবন এলাকায় ২টি ভাসমান বিওপিসহ মোট ৬২টি বিওপি সৃজনের মাধ্যমে ৫৩৯ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে ৪০২ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত ইতোমধ্যে নজরদারীর আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও ২৪২টি নতুন বিওপি সৃজন এবং সীমান্ত হতে অধিক দূরত্বে স্থাপিত ১২৬টি বিওপি সীমান্তের সন্নিকটে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

বিজিবির উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার সারসংক্ষেপ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার সৈনিকদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন ধরণের কল্যাণমূখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিজিবি সদস্যদের নতুন র‌্যাংক ব্যাজ প্রবর্তন, যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, সীমান্ত ভাতা বৃদ্ধি, জুনিয়র কর্মকর্তা ও হাবিলদার পদবির সদস্যদের বেতন স্কেল উচ্চ ধাপে উন্নীতকরণ, অগ্রিম বেতনসহ বাৎসরিক ২ মাসের ছুটি প্রদান, পারিবারিক রেশন ও ৩ বছরের নীচে সন্তানদের পূর্ণস্কেল রেশন প্রদানসহ বিজিবি সদস্যের প্রতিবন্ধী সন্তানদের অবসরের পূর্ব পর্যন্ত নগদমূল্যে রেশন প্রদান করা হচ্ছে।

দুর্গম এলাকার জনবিচ্ছিন্ন বিওপি হতে আইপি টেলিফোনের মাধ্যমে বিজিবি সদর দপ্তরসহ যে কোন স্থানে যোগাযোগ সহজতর করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্ভর ভি-স্যাট প্রযুক্তির মাধ্যমে টেলিফোন সুবিধা সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০০৯ সাল হতে চলতি বছর পর্যন্ত ২২টি ব্যাচে সৈনিক পদে মোট ৩৪ হাজার ৩৬১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ৩ হাজার ৩৪৪ জনকে বিভিন্ন অসামরিক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৫ সাল হতে এখন পর্যন্ত বিজিবিতে ৯২২ জন মহিলা সৈনিক ভর্তি করা হয়েছে। আরও ১৫ হাজার জনবল সৃজনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রশিক্ষণের ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ
প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোন পেশাদার বাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুশৃঙ্খল ও দক্ষ বাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। বিজিবি সদস্যদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য সাতকানিয়ার ‘বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজ’ এর পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গায় অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্বলিত আরও একটি প্রশিক্ষণ সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

তিনি বলেন, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড একটি বাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি। সরকারপ্রধান বিজিবি’র প্রতিটি সদস্যকে চেইন অব কমান্ড এবং কর্তৃপক্ষের আদেশ মেনে চলার আহবান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৪ সালের ০৫ ডিসেম্বর পিলখানায় এসে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ঈমানের সাথে কাজ করো, সৎ পথে থেকো, দেশকে ভালবাস।’ তিনি সকল বিজিবি সদস্যকে বঙ্গবন্ধুর এই চিরন্তন দিকনির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।

বিজিবি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, বিজিবি দিবস উপলক্ষ্যে সকালে ফজরের নামাজের পর পিলখানাস্থ সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ সকালে মহাপরিচালকের সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবি’র রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলন করেন এবং সীমান্ত গৌরবে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় বিজিবি’র সকল কর্মকর্তা, জুনিয়র কর্মকর্তা ও নির্ধারিত অন্যান্য পদবীর সৈনিকরা উপস্থিত ছিলেন। বিজিবি দিবস উপলক্ষে পিলখানার বাইরেও সকল রিজিয়ন, সেক্টর এবং ইউনিটে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বিজিবি দিবসে আমন্ত্রিত অতিথিরা
বিজিবি দিবসে অনুষ্ঠানের দর্শক সারিতে পাশাপাশি বসে কুচকাওয়াজ ও মনোজ্ঞ ডিসপ্লে উপভোগ করতে দেখা যায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমকে। অন্যদিকে পাশাপাশি বসেছিলেন নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বাবু।

অনুষ্ঠানে পাশাপাশি বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী বেগম নূরজাহান আহমেদ। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার উজ জামানসহ উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email