ভুবনজয়ী ফুটবল জাদুকরের শ্রেষ্ঠত্বের পূর্ণতা

প্রকাশিতঃ 12:25 am | December 19, 2022

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

বিশ্ব ফুটবলের তিনিই সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। নিজের বাঁ পায়ের জাদুতে মোহিত করেছেন গোটা বিশ্ব। কোপা জিতেছেন। এক জীবনে পেয়েছেন সব। সেরা থেকে বিশ্বসেরা হয়েছেন। শুধু বিশ্বকাপ শিরোপা অধরা। স্বপ্নপূরণ হয়নি কখনও। শ্রেষ্ঠত্বের পূর্ণতা মিলেনি। বছরের পর বছর কেবল অপেক্ষা। ফিরেছেন একবুক হতাশায়। কিন্তু আর না! আচমকাই নামালেন আকাশী নীল-সাদা বসন্ত। অত:পর তিন যুগের শাপমুক্তি আর্জেন্টিনার।

ভুবনজয়ী ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির হাতেই এবার তাঁর আজন্ম লালিত স্বপ্নের বিশ্বকাপ। এ যেন মেসির শ্রেষ্ঠত্বের প্রত্যাশিত পূর্ণতা। প্রথম ফুটবলার হিসেবে এক আসরে গ্রুপ পর্ব, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গোল করার কীর্তি গড়েছেন। বীরত্বের ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। কাতারের মরুতটে জীবনের শেষ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের মাধ্যমে পরিসমাপ্তি ঘটলো রূপকথার। নিজেকে সর্বকালের সেরা হিসেবেই প্রমাণ করে ছাড়লেন সবার প্রিয় লিওনেল। তাঁর হাত ধরেই ৩৬ বসন্ত পর আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়। ফাইনালে দু’ গোল করে ফ্রান্সের শক্ত প্রাচীর ধ্বংস করে বিশ্বসেরা মেসিই। ঠিক যেন ১৯৮৬-র ম্যারাডোনা!

মেসিও তো চেয়েছেন ম্যারাডোনা হতে। মাঠের কীর্তিতে আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বরকে ছাড়িয়েছিলেন অনেক আগে। ম্যারাডোনা কিংবা পেলে-এ দু’ কিংবদন্তিই পেয়েছেন বিশ্বকাপের স্বাদ। যেখানে সাফল্য নেই মেসির। যেন অসম্পূর্ণ এক জীবন। ২০১৪ সালে মারাকানায় অমরত্বের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও হয়নি। লেখা হয়েছিল হৃদয় ভাঙার গল্প। সেবার মেসির স্বপ্নের হন্তারক ছিল জার্মানি। এবার ফ্রান্স সেই রূপে আবির্ভূত হতে চেয়েছিল।

কিন্তু মেসির দ্যুতির সামনে প্রথমার্ধে একেবারেই নিষ্প্রাণ ছিলেন চিতা গতির কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথম হ্যাট্রিক এমবাপ্পে পেয়েছেন। তবে এমবাপ্পের সঙ্গে যুদ্ধে ফুটবল মহানায়ক মেসিই হেসেছেন শেষ হাসি। গতকাল রাতে যিনি আরেকবার বিস্ফোরিত হলেন। ডি মারিয়াসহ অন্য সতীর্থদের জাগিয়ে দিলেন। কিংবদন্তি ম্যারাডোনার পাশে বসলেন। লুসাইলের বর্ণময় সেই রাত মেসির গৌরবের, মুক্তির আনন্দের আর অধিকার আদায়ের রাত। এই রাতেই উঠেছে মেসির হাতে বিশ্বকাপ। অভিনন্দন লিওনেল মেসি। অভিবাদন টিম আর্জেন্টিনা।

কালের আলো/এএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email